জরিমানা এড়াতে GST রেজিস্ট্রেশনের জন্য তৈরি হোন

0

২০১৭ সালের পয়লা এপ্রিলের ভিতর সরকার গুড অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স GST কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। জিএসটি-র ডাটাবেসে আয়কর দাতাদের নিজেদের নাম নথিভূক্ত করবার জন্যে সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সময়ের ভিতর আয়কর দাতাদের নিজেদের নাম নথিভূক্ত করাতে হবে। তবে দেশের সব রাজ্যের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এক নয়। এটা বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম।

কারা নাম নথিভূক্ত করাতে পারবেন

বর্তমানে যাঁরা আয়কর প্রদান করেন, তাঁদের নিজেদের নাম জিএসটি সিস্টেম পোর্টালে নথিভূক্ত করাতে হবে। 

সেইসঙ্গে জেনে রাখুন, কারা কারা নিজেদের নাম জিএসটি সিস্টেম পোর্টালে নাম নথিবদ্ধ করাতে পারবেন। সেন্ট্রাল এক্সাইজ, সার্ভিস ট্যাক্স, স্টেট সেলস ট্যাক্স (মদের ডিলাররা এর মধ্যে পড়ছেন না), এন্ট্রি, লাক্সারি বা এন্টারটেইনমেন্ট ট্যাক্স প্রদানের ক্ষেত্রে জিএসটি সিস্টেম পোর্টালে নাম নথিভূক্ত করানো যেতে পারে।

নাম নথিভূক্ত করানোর চূড়ান্ত সময়সীমা

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আয়কর দাতাদের নাম লেখাতে হবে চলতি মাসের ১৫ তারিখের ভিতর। এছাড়া, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ১৫ ডিসেম্বর নাম নথিবদ্ধ করানোর শেষ তারিখ।

অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের ভিতর নাম নথিবদ্ধ করাতে হবে যে সমস্ত রাজ্যের বাসিন্দা আয়কর দাতাদের সেগুলির ভিতর রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও রাজস্থান।

ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নাম নথিভূক্ত করানোর কাজ চলবে কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে।

অন্যদিকে সার্ভিস ট্যাক্স রেজিস্ট্র্যান্টস ও যে কোনও গ্রুপের ডেলটা রেজিস্ট্ৰ্যান্টের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা যথাক্রমে ২০১৭ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি এবং ২০১৭ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ শে মার্চ।

যে পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে

১) প্রক্রিয়াটি কাগজপত্রবিহীন – আয়করদাতারা জিএসটি পোর্টালটি একনজরে দেখে নিতে পারেন। গোটা প্রক্রিয়াটি কাগজপত্র ছাড়াই সম্পন্ন করা হবে।
২) প্রভিশনাল আইডি ও পাসওয়ার্ড – সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারি দফতর থেকে আপনি প্রভিশনাল আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করুন। জিএসটি সিস্টেম পোর্টালে ঢোকার আগে এটা করতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনি আপনার ওয়ার্ড অফিসারে সঙ্গে দেখা করে অনলাইন জিএসটি-র অধীনস্থ প্রি-রেজিস্ট্ৰেশনের পর্বটি সমাধা করুন।

৩) যে সমস্ত নথি ও তথ্য জরুরি

ক। প্রভিশনাল আইডি ( যেটি পয়েন্ট ২-তে উল্লেখ করা হয়েছে)
খ। পাসওয়ার্ড (পয়েন্ট ২-তে উল্লেখ করা হয়েছে)
গ। ই-মেল (নিজের ব্যক্তিগত ই-মেল)
ঘ। মোবাইল নম্বর
ঙ। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর
চ। আইএফএসসি কোড

এছাড়াও আরও যা দরকার

ক। ব্যবসা সম্পর্কিত প্রমাণপত্র
খ। অংশিদারি ব্যবসা হলে প্রয়োজনীয় নথি বা দলিল (পিডিএফ বা জেপেগ ফরম্যাটে দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ হতে পারে ১ এমবি)
গ। ব্যবসা সম্পর্কিত অন্যান্য নথি বা রেজিস্ট্রেশন সা্র্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ হতে পারে ১ এমবি। এক্ষেত্রেও পিডিএফ বা জেপেগ ফরম্যাটে দাখিল করতে হবে।
এছাডা়ও জমা দিতে হবে, ছবি, পাসবুকের প্রথম পাতা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাঙ্কের শাখার ঠিকানা ও কয়েকটি লেনদেনের বিশদ তথ্যাদি। এক্ষেত্রে পিডিএফ বা জেপেগ ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ হবে ১ এমবি।

৪) চাহিদামতো সমস্ত তথ্যাদি জমা দেওয়ার পরে আপনাকে একটি অ্যাকনলেজমে্ন্ট নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বরটি যত্ন করে রাখবেন। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

যদি পাসওয়ার্ড বা আইডি না পান, সে ক্ষেত্রে কী করণীয়

আপনি সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

আর একটা বিষয় জেনে রাখুন, কে হতে পারে অথরাইজড সিগনেটরি?

আয়দাতাদের ক্ষেত্রে অথরাইজড সিগনেটরি হতে পারেন সেই ব্যক্তি যার হাতে জিএসটি সিস্টেম পোর্টালের মাধ্যমে কাজ করার দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে।

জিএসটি-তে নাম নথিভূক্ত করাতে আরও যা যা নথি দরকার তার ভিতর রয়েছে, আপনার ব্যবসার প্যান কার্ড, ব্যবসার আইনানুগ নাম, আপনি কোন রাজ্যের বাসিন্দা, ই-মেল, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি। তবে এই নথিগুলি সম্পূর্ণভাবে অপরিবর্তনীয়। এক্ষেত্রে আপনি নিজের ইচ্ছামাফিক কোনও পরিবর্তন করাতে পারবেন না। আয়কর দাতাদের এই নিয়ম-কানুনগুলি অনুসরণ করে চলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নইলে পরে কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।