ইভেন্ট প্ল্যানিংয়ে কলকাতার স্পেকট্রাম

0

অতনু দাস, হিরণ্ময় দত্ত ও মহাশ্বেতা মজুমদার, তিনজনেরই শখ ছবি তোলা। “বিভিন্ন ইভেন্টে ছবি তুলতে তুলতেই মাথায় আসে সম্পূর্ণ ইভেন্টটাই যদি নিজেরা প্ল্যান করা যায়। একজন ফটোগ্রাফারের চোখ দিয়ে ইভেন্টগুলিকে দেখতে গিয়ে মনে হত, এইটা যদি একটু বদলানো যেত, ওই জিনিসটা আরেকটু ভাল করা যেত সেখান থেকেই নিজেদের কোম্পানি খোলার ভাবনা শুরু”, বললেন মহাশ্বেতা। গত নভেম্বরে কাজ শুরু করেছে স্পেকট্রাম, তবে পরিকল্পনা ও যোগাযোগ তৈরির কাজ চলছে আরও অনেক আগে থেকেই। এর মধ্যেই বেশ কিছু ইভেন্টের কাজ করে ফেলেছে এই সংস্থা।

“প্রতিটা মানুষ আলাদা, তাদের চাহিদাগুলিও আলাদা, আমরা চেষ্টা করি সেটি মাথায় রেখেই প্রতিটা ইভেন্টের পরিকল্পনা করতে। পরিকল্পনা থেকে সেটাকে বাস্তবায়িত করা প্রতিটা ক্ষেত্রেই এটা মাথায় রাখা হয়”, বললেন মহাশ্বেতা। পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ে, কিটি পার্টি, ব্যাচেলর পার্টি, কর্পোরেট ইভেন্ট, কলেজ বা কোম্পানির ফ্যাশন শো, স্পোর্টস ডে, পিকনিক, একদিনের ঘুরতে যাওযা সবকিছুতেই সাহায্য করে থাকে স্পেকট্রাম। অন্দর সজ্জা থেকে রিটার্ন গিফ্ট প্রত্যেকটিই যত্ন সহকারে এবং নির্দিষ্ট পছন্দ ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়।

“আমরা পরিকল্পনা করি না, গ্রাহকের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিই মাত্র”, বলছিলেন মহাশ্বেতা, “যে কোনও অনুষ্ঠান নিয়ে গ্রাহকের কিছু ভাবনা থাকে, কিছু ইচ্ছে। সেগুলি হয়তো তিনি নিজেও সব সময় বুঝতে পারেন না, বা জানেন না কোথায় গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে হবে আমরা সেই কাজটাই করে দিই। গ্রাহকের ভাবনা, পরিকল্পনা ও ইচ্ছেটাকে বের করে আনা ও সেই অনুযায়ী সম্পূর্ণ ইভেন্টটি করা এটাই আমাদের কাজ। আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছি, ফলে কাজটা সহজ হয়”।

অভিজ্ঞতা ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর টিমই কোম্পানির সবথেকে বড় জোরের জায়গা বলে মনে করেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতারা। তাঁরা মনে করেন বাজারে প্রচুর ইভেন্ট প্ল্যানিং কোম্পানি রয়েছে কিন্তু বেশিরভাগেরই সব কটি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা নেই, নেই জানা বোঝাও। কিন্তু কিছু ছলচাতুরি করে দ্রুত ইভেন্টটি করে ফেলার চেষ্টা করে, এটা খুবই চিন্তার।

গ্রাহকের সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি ও দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক তৈরি, এই দুটিই মূল লক্ষ্য স্পেকট্রাম ইভেন্টস এর।

ইভেন্ট প্ল্যানিংয়ের পাশাপাশি ফটোগ্রাফি সবসময়ই একটা বড় জায়গা থেকেছে স্পেকট্রাম ইভেন্টসের কাছে। প্রতিষ্ঠাতারা তিনজনই ফটোগ্রাফিতে ডিপ্লোমা প্রাপ্ত। ফলে ইভেন্ট প্ল্যানিং ছাড়াও শুধু ছবি তুলে দেওয়ার কাজও করে এই কোম্পানি। এছাড়াও নানা সহযোগী পরিষেবা যেমন গাড়ি, হোটেল, স্থান নির্বাচন ও তা বুক করা, ফুলের সজ্জা, গাড়ি সাজান, গান ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা, নিমন্ত্রণ পত্র, উপহার ইত্যাদিও দিয়ে থাকে এই কোম্পানি।

অন্যান্য শহরে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হলে আমাদের শহরে ইভেন্ট প্ল্যানিং কোম্পানির ট্রেন্ড নতুন। বিশেষত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ইভেন্ট প্ল্যানারদের নিযুক্ত করার চল কয়েক বছর আগেও প্রায় ছিলই না। বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা পারিবারিক অনুষ্ঠান, আত্মীয় পরিজন বন্ধুবান্ধব মিলে সামলে দেওয়াই ছিল রীতি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হাতে সময় কমেছে, ব্যস্ত হয়েছে কলকাতা, কমেছে আত্মীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগও। আর তাই এই ধরণের কোম্পানিগুলির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে ক্রমশই। আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে বিশেষ দিনগুলিকে নিখুঁত করে তোলার আর সেই কাজটিই করে এই কোম্পানিগুলি। সময় আর পরিশ্রম বাঁচাতে অনেকেই দ্বারস্থ হচ্ছে তাদের। তবে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, খুলছে নতুন নতুন কোম্পানি। তার মধ্যে নিজেদের অভিনবত্ব রেখে স্পেকট্রাম কতটা ছাপ ফেলতে পারবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন।