ওসি শুচিস্মিতার 'একটি হাতে ফুল আরেকটি হাতে বাজ'

0

নারী নির্যাতনের ঘটনা আকছার হয়। ঘরের ভিতর এবং বাইরে। সমান তালে চলে নারীর অসম্মান। অনেক আইন আছে। নারীকে বাঁচানোর জন্যে অনেক বন্দোবস্তও আছে তবু সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতা সেই সব আইন-কানুন, মানবিক বিচার বিবেচনাকে দুয়ো দেখিয়ে সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে অবিচার অত্যাচার ঘৃণ্য নির্যাতন। সেই পথে কাটা দিয়েছেন ওয়াটগঞ্জ মহিলা থানার বর্তমান ওসি শুচিস্মিতা মিশ্র। একজন পুলিস অফিসার কী পারেন এবং কী পারেন না তা ওই ভদ্রমহিলাকে দেখে শিখতে হয়। এই কখনও কঠিন ভাবে দুশমনকে সায়েস্তা করছেন তো পরক্ষণেই শান্ত মিষ্ট স্বভাব দিয়ে আক্রান্ত পীড়িত মহিলার আশ্রয় হচ্ছেন। ফলে ভয়ের নয়। ভরসার থানা হয়ে উঠেছে ওয়াটগঞ্জের এই মহিলা থানা। সমস্যার কথা জানাতে যেখানে অনায়াসে যান মহিলারা। কখনও আইনের শাসনে, কখনও আবার বন্ধুর মতো পরামর্শ দিয়ে যেখানে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন ওসি শুচিস্মিতা।

ঘরের কথা পরের কাছে বলতে অনেকেরই বাধে। বিশেষ করে যদি পরিজনের বিরুদ্ধে নালিশ থাকে কোনও। মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও বেশি। সেই চৌকাঠ আপাতত কিছুটা সরেছে ওয়াটগঞ্জে। পারিবারিক হিংসার অনেক ঘটনাই এখন অনায়াসে ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে আইনের দরবারে এসে পৌঁছচ্ছে। জটিল সমস্যার মসৃণ সমাধানও হচ্ছে। কখনও শাসন, কখনও আবার পরামর্শ। মিঠে-কড়া দুই দাওয়াইয়ে সমাধানের চেষ্টা করে চলেছেন শুচিস্মিতা।

‘আধুনিক হোক বা পিছিয়ে পড়া। মহিলাদের ঘেরাটোপ অনেক। টেবিলের ওপারে শোনার মানুষটা মহিলা হলে সহমর্মিতার আশাও বেড়ে যায় ভুক্তভোগীদের। এই মন্ত্রেই ওয়াটগঞ্জের এই মহিলা থানা এখন ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে’, বললেন শুচিস্মিতা।

তবে শুধু পুলিশের ওপর ভরসা নয়, স্বামী বিবেকানন্দের ভক্ত শুচিস্মিতা জোর দেন আত্মনির্ভর হওয়ার ওপরেও। ‘আত্মনির্ভর না হলে পুলিশের ভরসায় কোনও লড়াই জেতা যায় না। নিজের ওপর ভরসা থাকতে হবে, সেই সঙ্গে সাহসও। অনেক সময় দেখেছি অভিযোগ পেয়ে আইনি ভাবে আমরা এগোতে শুরু করলাম অভিযোগকারিনী নিজেই হয় অভিযোগ তুলে নিচ্ছেন, নয়তো আর এগোতে চাইছেন না। অভয়, ভরসা কোনও কিছুতেই লাভ হয় না। আমরা চাই না কারও কোনও অভিযোগ থাকুক। কিন্তু অত্যাচারের ভয়ে মুখ বুজে থাকবে সেটাও কাম্য নয়’। বলছিলেন এই মহিলা ওসি। তাঁর সাফকথা দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করতে প্রয়োজনে শক্ত তো হতেই হবে। শুচিস্মিতা তাই নিজের সাহসের জন্যে স্বামী বিবেকানন্দের কাছে অনেকটাই ঋণী।