ফ্রি মার্কেটিং-এর ৭টি উপায়

0

ফ্রি লাঞ্চের বন্দোবস্ত থাকুক না থাকুক ফ্রিতে মার্কেটিং দিব্বি হয়। জানতে চান এক পয়সাও খরচা না করে কীভাবে সেরে ফেলবেন আপনার ব্যবসায়িক প্রচার? অনেক রাস্তা আছে। একজন শুরুয়াতি ব্যবসায়ীর উচিত প্রতিটি পয়সার মূল্য বোঝা। প্রচারের জন্য বড় উদ্যোগপতিরা নিমেষে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন। তবে এক স্টার্টআপের দীর্ঘ সময় ধরে লাভের অপেক্ষাও করা উচিত নয়। আমি আমার সাতটি বিশেষ রেসিপি দিই আপনাদের? পুরোটা পড়বার সময় নেই ? তাহলেও নো চিন্তা। শুধু আপনাদের জন্য সংক্ষেপেও বলে দিলাম আমার টোটকা।

  1. প্রথমেই ব্যবসার বাজার এবং আপনার প্রতিযোগীদের চিনে নিন।
  2. সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের নিয়ে স্টার্টআপ প্রোগ্রাম ও আলোচনায় অংশ নিন।
  3. নিজস্ব ব্লগ বানান ও লিখুন।
  4. Mailchimp এ ফ্রি ইমেল মার্কেটিং করুন।
  5. LinkedIn এর ক্ষমতা নিজের উদ্দেশ্য সাধনে প্রয়োগ করুন।
  6. টুইটারকে নিজের প্রিয়বন্ধু বানান।
  7. SEO ( search engine optimization ) -এ নজর দিন। আরও মনোযোগী হোন ট্যাগ লাইন ও কি ওয়ার্ড নিয়ে।

চলুন বিষয়গুলো একটু বিশদে আলোচনা করি। শেষে নিজের মতামত জানাতে কুন্ঠা বোধ করবেন না। আমাদের Email করতে পারেন yourstoryinbangla@gmail.com এই অ্যাড্রেসে)

অন্য উদ্যোগপতিদের ব্যর্থতা আর নিজেদের করা ভুলগুলো থেকে অনেক কিছুই শিক্ষণীয়। আপনাকে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 

  • জেনে নিন বাজারে কার সঙ্গে আপনার প্রতিযোগীতা। এসব না জেনে ব্যবসা শুরু করা উচিত নয়। ধরুন কেউ invoicing tool বা bulk e-mailing করার ব্যবসা করতে চান, তাঁকে আগে তাঁর সঠিক কাস্টমার বাছতে হবে। অনেক শুরুয়াতি ব্যবসায়ী সামনে আসা যেকোনো সুযোগেই মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে দেন। জানতে হবে ন্যূনতম কত টাকা বিনিয়োগ করবেন সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট। নচেৎ আপনাকে না বলতে জানতে হবে তাদের যারা আপনার “target market” এর সংজ্ঞার সাথে খাপ খাচ্ছে না।
  • একইসঙ্গে জানতে হবে কারা আপনারই মতো প্রোডাক্ট নিয়ে বাজার দখল করতে তৈরি। আরও স্মার্ট ছক নিয়ে কোমর বাঁধতে হবে। বিষয়ের গভীরে যাওয়া দরকার। একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীকে লক্ষ্য করে এগোনো কঠিন। তবে লেগে থাকলে ফল পাওয়া যায়। আপনার ব্যবসায়িক দক্ষতা দিয়ে দেখবেন আপনি হয়ে উঠেছেন একজন ট্রেন্ডসেটার। বিনামূল্যে করতে পারছেন ব্যবসার অনলাইন ও অফলাইন প্রচার।
  • সব মিটিং এ যাওয়া সম্ভব নয়। মাসে অন্তত তিনটি স্টার্টআপ প্রোগ্রামে অবশ্যই অংশগ্রহণ করুন। নতুন নতুন লোকজনের সঙ্গে দেখা হলে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বিভিন্ন আঙ্গিক পায়। সঠিক ক্রেতার দেখা মেলে। আমি স্টার্টআপ প্রোগ্রামেই আমার অনেক ক্রেতা পেয়েছি। তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে আনন্দ লাগে, যাঁরা সমস্যার উত্তর জানেন। জীবনে সত্যিই লাভবান হতে গেলে আগে নিঃসার্থ ভাবে মানুষকে সাহায্য করুন।
  • দেশের মেট্রো শহরগুলিতে হাজার হাজার শুরুয়াতি উদ্যোগ চলছে। অভিজ্ঞ উদ্যোগপতিরা শুরুয়াতিদের সঠিক পথ দেখাতে পারেন। মানুষ তাঁদের অ্যান্তেপ্রেনিয়রশিপের কাহিনী বলেন। শুনুন। আপনার খুব চেনা ব্যবসাটাকেই একটু অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করুন।
  • নিজের ব্যবসা আপনাকে অনেক শিক্ষা দেবে। প্রতিদিন নতুনকিছু শিখবেন। সামনে বাধা আসবে। আপনি আরও মজবুত হয়ে টপকে যাবেন সামনের পাঁচিলটা। সবাইকে শোনাতে ইচ্ছে হবে আপনার গল্প। হতেই পারে। কিন্তু বলবেনই যদি তাহলে ব্লগে নয় কেন? বিনামূল্যে ব্লগ করা সোজা। আপনার ভাবনাগুলো লিখে ফেলুন। যাঁরা সত্যি ঘটনা ও অভিজ্ঞতার কথা ব্লগে লেখেন তাঁরা অনেক পাঠকের কাছে সমাদৃত। তবে শর্ত হল জিদ। লেগে থাকতে হবে। একদিনেই যাদু না হলেও একদিন ঠিকই ফল পাবেন। আপনার পেশা ব্লগ লেখা নয়। প্রচারে সহযোগী মাধ্যম। বিনামূল্যে wordpress.com এ আপনার ব্লগ খুলুন। এটি আপনার ব্যবসার Search Engine Rankings কেও ত্বরান্তিত করবে।
  • Mailchimp এর ফ্রি প্ল্যানে ২০০০ উপভোক্তাকে তালিকাভুক্ত করা যায়। ১২,০০০ পর্যন্ত মেল করা সম্ভব। Mailchimp এর সবচেয়ে ভাল বিষয় হল, প্রতিটি মেল ইনবক্সে পৌঁছায়, স্প্যাম ফোল্ডারে নয়। আপনি জানতে পারবেন কারা মেল পড়ছেন, লিঙ্কে ক্লিক করছেন অথবা তালিকা থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। এটি মার্কেটিং এর এক অভিনব পদ্ধতি।
  • আপনি একজন উদ্যোগপতি অথচ LinkedIn এ নেই,এটা আশ্চর্যের। সব বড় ব্যবসায়ীরা LinkedIn এ আছেন এবং আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতেও রাজী। আপনিও এখানে পুরোনো বন্ধু, প্রাক্তন সহকর্মী বা অন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভাব করতে পারেন। বড় কোম্পানির Chief Executive রা সবাই LinkedIn করেন। আপনি তাঁদের কাছে আপনার প্রোডাক্টের ফিডব্যাক চাইতেই পারেন। দেখবেন তাঁরা কোনোভাবে বিরক্ত না হন।
  • হয়ত আমি প্রথম নই যে আপনাকে একথা বলছি, তবে বিশ্বাস করুন ব্যবসার প্রচারে মাত্র ১৪০ টি অক্ষরের টুইট আপনার চিরবন্ধু। আপনাকে টুইটার করে হতাশ হতে হবে না। আমার ব্লগের অনেক পাঠক আমার টুইটারের ফলোয়ার। একটু ক্যাচি ট্যাগলাইন ও ভাল হ্যাশ ট্যাগের মারফৎ আপনি দেখবেন দুনিয়া জুড়ে বহু নতুন ফলোয়ার আপনার টুইটকে ফলো,ফেবার ও রিটুইট করছে। DM ও টুইটের মাধ্যমে আপনি প্রোডাক্টের ফিডব্যাক বা কোনো সাহায্য চাইতেই পারেন। একই বিষয় বারবার টুইট করবেন না।
  • এবার এমন একটি বিষয় নিয়ে বলব যেখানে বেশিরভাগ স্টার্টআপ পিছিয়ে পড়েন। তাঁরা ওয়েবসাইট আপডেট করেন না ফলে কাঙ্খিত ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট দরকার। উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা, সঠিক ডিজাইনিং খুব প্রয়োজন। নইলে ক্রেতার কাছে প্রোডাক্টের অনলাইন বিক্রি ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে আপনি ব্যর্থ হবেন।

আপনার ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য কিছু পদ্ধতি আছে। বিনামূল্যে অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই পদ্ধতিগুলি আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।

  1. Google Search Console ( পূর্বের Google Webmaster Tools ) এ অ্যাকাউন্ট খুলে ওয়েবসাইট যাচাই করে নিন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্যের সন্ধান করুন।
  2. Google Analytics আপনার ওয়েবসাইটে নজর রাখবে। গোটা ওয়েবসাইটের ট্রাফিক, উপভোক্তা ও ভিজিটরদের স্থান ও সময় সবের খবর দেবে।
  3. Google Keyword Planner সাধারণত Google Adwords এর জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আপনি এটিকে SEO র মানে (search engine optimization) এর কাজেও লাগাতে পারেন।
  4. WooRank Free application এর সাহায্যে আপনি নিজের SEO র স্কোর জানতে পারবেন। আরও ভাল কাজ করার উপদেশ পাবেন।

স্টার্টআপের সবচেয়ে ভাল বিষয়টি হল নমনীয়তা। বেশিকিছু হারানোর ভয় নেই। পরীক্ষা করার সুযোগ আছে। যা কিছুই নতুন সবই আপনার জ্ঞান বাড়াবে। এভাবেই সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে আমার মতো হাজারো অ্যান্তেপ্রেনিওরা শিখেছেন। আপনার ব্যবসার সাফল্যের ভার আপনারই কাঁধে। আর প্রচার ভীষণ জরুরি চাবিকাঠি সেই আকাঙ্খিত ও প্রতীক্ষিত সাফল্যের। আশা করি সামান্য হলেও আপনার উপকারে লাগলাম।

(লেখা- Viprasoft-এর সহকারি প্রতিষ্ঠাতা বিনীত খুরানা, অনুবাদ-এষা গোস্বামী)