মঙ্গলে বরফের স্তর দেখতে পেলেন বিজ্ঞানীরা

2

সাইফাই স্পেস মুভি নয়। অলীক কল্পনাও নয়। মঙ্গলে বরফ দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। চমকে যাবেন না। এটাই সত্যি। আগে যত গবেষণা হয়েছে কিছু না কিছু খামতি ছিলই। লালগ্রহে যে ল্যান্ডার রোভারকে পাঠানো হয়েছিল তার মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার খোদাই করার ক্ষমতা ছিল। রাডারে যা ধরা পড়েছে তাতে ভূতত্ববিদরা মঙ্গলের মাটির ১০ মিটার গভীরে কী রয়েছে বুঝতে পারলেও ২০ মিটারের নীচের হদিস পাননি। তাই গোটাটই রহস্য থেকে গিয়েছিল এতদিন পর্যন্ত। এবার ভূতত্ববিদ কলিন ডানডাস USGS এর সঙ্গে মিলে যে গবেষণা চালাচ্ছেন তাতে মঙ্গলে আলাদা আলাদা ৮টি স্তর পেয়েছেন। মঙ্গলপৃষ্ঠের অনেক নীচে ক্ষয়ের অস্তিত্ব নজরে এসেছে গবেষকদের। গবেষক দল HiRISE ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন গবেষণার জন্য। এবং ফাইনালি গবেষণায় খুঁজে পেয়েছেন বরফ। মঙ্গলে বরফ এবং তার ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের এটা খুব সাহায্য করবে, বললেন অ্যারিজোনায় ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে অ্যাস্ট্রোজিওলজি সায়েন্স সেন্টারের সদস্য ডানডাস।

কয়েক যুগ ধরে গবেষকরা জেনে আসছেন মঙ্গলে বরফ আছে। ২০০১ সালে মারস ওডিসি বরফের খোঁজে রাসায়নিক পরীক্ষা শুরু করে হাইড্রোজেন পায়। শুধু তাই নয়, বলা হচ্ছে মঙ্গলপৃষ্ঠের তিন ভাগের এক ভাগই বরফ। নাসা অবশ‍্য বলছে, ডানডাস যে বরফের কথা বলছেন,তা আগের গবেষণার ফল থেকে একেবারে আলাদা। MRO এর কমপ্যাক্ট রেকনিসেন্স ইমেজিং স্পেক্টোমিটার ফর মারস এর মাধ্যমে কিছু নমুনা পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত উজ্জ্বল যেবস্তু দেখা যাচ্ছে তা বরফই। ওডিশির থারমাল ইমিশন ইমেজিং সিস্টেম ক্যামেরার মাধ্যমে মঙ্গলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ব্যবহার করে গবেষকরা নিশ্চিত মঙ্গলের মাটিতে পাতলা বরফের চাদর আছে। এবার নাসা তাদের ওয়বসাইটে স্পষ্ট করে সেকথা জানিয়েছে।

গ্রহ বিজ্ঞানীরা এতে আশার আলো দেখছেন। তাঁদের মতে এটা খাঁটি বরফও হতে পারে। এমনই একজন গবেষক হচ্ছেন ব্রিটেনের মাট ব্লেম। তাঁর মতে ডানডাসের গবেষণার ফল এক্কেবারে অন্যরকম। ‘যদি এই পেপারের তথ্য সঠিক হয়ে থাকে তাহলে যে বরফের কথা বলা হচ্ছে তা একেবারে খাঁটি’, বলছিলেন ব্লেম। ডানডাসের বিশ্বাস এরকম আরও অনেক আইস পকেটের খোঁজ পাওয়া যাবে। আপাত গবেষণায় সবটা এখনও পাওয়া যায়নি।