খেলার ছলে শেখায় পড়ায় Froebel Gifts

0

ভারতে শিক্ষার বিরাট বাজার। ফলে স্টার্টআপের জন্য এই ক্ষেত্রে সুযোগও অনেক। অথচ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই সন্তুষ্ট নন। আইআইএম আমদাবাদ থেকে পাস করে বেরিয়ে শিক্ষকতা শুরু করার পর দেশে শিক্ষার এই অবস্থা ভালোই বুঝেছিলেন রবিকুমার ইয়াদভালি।

রবি মাভেরিক এডুটেকের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৮ সালে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে দু বছর টিসিএস-এ কাজ করেন। ২০১০ এ স্নাতকোত্তরের জন্য আইআইএম আমদাবাদে ভর্তি হন। কলেজে পড়ার সময় থেকে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, এমন সব অদ্ভুতুড়ে যন্ত্রপাতি নিয়ে ডুবে থাকতেন রবি। এরপর তিনি বিভিন্ন স্কুলগুলিতে নানা ধরনের সফটওয়ার তৈরির জন্য কখনও পরামর্শ, কখনও হাতে কলমে কাজ করে সহযোগিতা দিতে শুরু করেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরামর্শ দিতেন শিক্ষার এই দিকটাকে উন্মোচিত করার জন্য। কিন্তু সঠিক দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ‘শিক্ষক-শিক্ষিকারা যা বলছিলেন সবটাই মতামত, আসল জায়গায় কেউ আসতে পারছিলেন না’, বলেন রবি।

আইআইএম-এ এর ওই সময়টায় রবি গুজরাট সরকারের স্কুল প্রকল্প নিয়ে আইসিটি-এর নীতি প্রসারক হিসেবে কাজ করতেন। গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্কুলের পড়ুয়াদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য ‘বিদ্যা তরঙ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেন। তাছাড়া জামনগরে কেডিএভি স্কুলের উন্নতমানের পরিচালন পদ্ধতি চালু করা নিয়েও কাজ করেন। সমস্যার মূলে পৌঁছতে রবি একটা স্কুলে শিক্ষকতাও শুরু করেন। এই সময় তিনি বুঝতে পারেন, সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়, বরং ক্লাসরুমেই। যখন শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তখন দেখতেন, যেভাবে এক একটা বিষয় পড়ানো হত, তাতে ৬০ জনের মধ্যে ৩০ জনই ফেল করত। ওই সময় শিক্ষকতার মাত্রা বেঁধে দেন। ফল হিসেবে ফেলের সংখ্যা ৩০ থেকে কমে ৩ এ এসে দাঁড়ায়। ‘আমার একটাই নীতি ছিল, আমদাবাদের পিওডিএআর স্কুলে ক্লাস সেভেনের জন্য পুরোপুরি বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়ে যাওয়া। শিক্ষকদের জন্য প্রযুক্তি দিয়ে কিছু একটা তৈরি করে দেওয়ার দিকে উৎসাহ সবচেয়ে বেশি ছিল। আমি স্কুলে গিয়েছিলাম বাজার জরিপ করতে। কিন্তু যখন দেখলাম শিক্ষকদের জীবনটাকে না বুঝলে ভেতরের কথা জানা যাবে না, তখন নিজেই ওই স্কুলের শিক্ষক বনে গেলাম। নিজের পাঠ্য পরিকল্পনা নিজেই করতাম। কীভাবে পড়ুদের বুঝতে হবে জানলাম, শিক্ষকদের এবং অভিভাবকদের কী প্রয়োজন জানলাম এবং কোন উপায়ে পড়ুয়াদের সঠিকভাবে পড়া আত্মস্থ করিয়ে দেওয়া যাবে সেই বিষয়ে প্রভূত জ্ঞান পেলাম’, জানান রবি। তিনি দেখলেন, সারা বিশ্বে কী ঘটে চলেছে তার সঙ্গে স্কুলের পড়ুয়াদের যোগাযোগ রাখা বিরাট সমস্যার। ‘তারা খুব সহজে ১/২+১/২ যোগ করে দিতে পারছে, কিন্তু জানতে পারছে না বাস্তবের ভগ্নাংশ কেমন হয়’, বলেন আইআইএম প্রাক্তনী। শিক্ষাক্ষেত্রে সৃজনশীলতা জারি রাখতে রবি iDiscoveri Education এ যোগ দেন। এখানে ব্যবসা এবং একই সঙ্গে পাঠ্য প্রসারণের দায়িত্ব পেলেন। নর্থ-ইস্টার্ন রিজিওন তৈরি করে সেটা পরিচালনার ভারও নিজের কাঁধে নেন। সেখান থেকে এক কোটি টাকার রেভিনিউ পায় সংস্থা। ওই সময় তিনি সারা স্কুলে একশোর বেশি স্কুলে ঘুরে সমস্যা আরও ভালো করে বোঝার চেষ্টা করেন। তবে সমস্যা মিটল না এবং রবি তখনও সমাধানের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

রবির সামনে এসে পড়ে Froebel Gifts । ১৯শতকের গোড়ায় শিক্ষাবিদ ফ্রেডরিচ ফ্রোএবেল একধরনের খেলনা ডিজাইন করতেন। ফ্রেডরিচকে কিন্ডারগার্টেনের জনকও বলা হত। Froebel Gifts তাঁর দ্বারাই অনুপ্রাণিত। ২০১৩র ১৫ আগস্ট এই সেক্টরে পা রাখার আগে রবি Froebel Gifts নিয়ে অনেক পড়াশোনাও করেন। সম্প্রতি এই সংস্থা হায়দরাবাদের এক বিনিয়োগকারী রবি মান্থ থেকে ৬৫ লক্ষ টাকা পুঁজি তুলেছে। রবি জানান, স্কুলে স্কুলে ভালোই সাড়া পেয়েছেন। ‘হায়দরাবদ জুড়ে প্রায় বারোশ ছাত্রছাত্রী এবং তাদের বাবা-মায়েদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়ে আমরা ঠিক করেছি, স্কুলগুলির সঙ্গে আরও কাজ করব। পড়ুয়াদের আরও তাড়াতাড়ি শেখা এবং শিক্ষার আরও গভীরে যেতে মূল সিলেবাসের সঙ্গে এই খেলনাগুলি জুড়ে দিতে চাই। অ্যামেজিং ক্লাসরুম নামে আমাদের নিজেদের পাঠ্য তৈরি করেছি। ওই পাঠ্যে Froebel Gifts ব্যবহার করে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত অঙ্ক এবং ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া সম্ভব’, রবির সংযোজন।

বর্তমানে সারা দেশে পাঁচটি রাজ্যে ১৩টি স্কুলের সঙ্গে কাজ করছে এই সংস্থা। রবির সঙ্গে ১০ জনের টিম কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং সেলস সামলাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক স্কুলে একই পরিষেবা দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে রবিকুমারের।

লেখক-আদিত্যভূষণ দ্বিবেদী

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস