শিশুদের মুক্তাঞ্চল সল্টলেকের Stone Paper Scissors

0

শহরে নাইট ক্লাব অনেক আছে। পাব এবং হ্যাং আউটের জায়গাও কম নেই। কিন্তু সে সবই তো আপনার জন্যে। ভেবে দেখেছেন কি আপনার শিশুদের পার্ক বা খেলার মাঠ কটা আছে, থাকলেও তাদের হ্যাংআউটের কটা জায়গা আছে কলকাতায়! যেখানে গিয়ে ওরা সত্যিকারের মজা পাবে। মোবাইল বা ভিডিও গেমের ভার্চুয়াল জগত থেকে ওদের বের করে আনার দায়িত্ব কিন্তু আপনার। সেই দায়িত্ব পালন করছেন তো! শহরের বেশ কয়েকজন মনোবিদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, শিশুদের মধ্যে নিঃসঙ্গতা বোধ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে নকল জগত। এতে সৃজনশীলতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। সমস্তটাই অন্যের প্রোগ্রাম করে দেওয়া ছকের ভিতর দাঁড়িয়েই আপনার সন্তান ভাবতে শিখছে, কল্পনা করতে শিখছে আর তথাকথিত তুখোড় হচ্ছে। সত্যিকারের সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ারই সুযোগ পাচ্ছে না। খুদেদের জন্যে খেলা আর মজা দিতে কলকাতাতেই একটি অভিনব বুটিক তৈরি হয়েছে নাম স্টোন পেপার সিজার।

ছোটবেলার খেলাটার কথা মনে পড়ে গেল। পেপার হলে সিজার কাটে আর স্টোন সিজারকে ভেঙে দেয়। কিন্তু এখানে ঘটনাটা অন্যরকম। শিশুদের এই মুক্তাঞ্চলে তিনটি টুকরো। স্টোন পেপার আর সিজার। খেলাধুলো করার জায়গাটায় কেবল খেলাধুলো নয়, পাহাড় চড়ার ট্রেনিং দেওয়া হয়। খাড়া দেওয়াল বেয়ে ওঠার ট্রেনিং চলে রীতিমত। দড়ির সেতু দিয়ে হাঁটারও ট্রেনিং দেন কর্মীরা। সম্পূর্ণ নিরাপদ। অথচ অ্যাডভেঞ্চারে ভরা। সাহস যাদের আছে তাদের তো দারুণ লাগে। কিন্তু যে সব বাচ্চা একটু ভীতু প্রকৃতির তাদেরও সাহস বাড়াতে সাহায্য করে এই অ্যাডভেঞ্চার জোন। একেবারে ছোট যারা তাদের জন্যেও আছে লেগোস দিয়ে ঘর বাড়ি বানানোর খেলা। স্লিপ, দোলনা আরও কত কী। রঙচঙে নরম বল দিয়ে নানান খেলা শিশুরাই নিয়মিত আবিষ্কার করছে। এই অংশকে ওরা বলছেন স্টোন জোন। এখানেই আছে ছোটদের ক্যাফে। ওই একই বুটিকের অপর অংশে অনায়াসে হতে পারে ওয়ার্কশপের মতো ইভেন্ট। মগজাস্ত্রে শান দেওয়ার কাজ। সেখানে ফাঁকা ঘরে, চেয়ার পাতা। একটা ক্লাসরুম গোছের সিরিয়াস পরিবেশ কিন্তু আবার ক্লাস রুমের মতো গোমড়া মুখোও নয়। ফলে নিরিবিলিতে প্ল্যান করার জন্যে এই ওয়ার্কশপ রুমটা দারুণ জরুরি। এই অংশটাকে বলা হচ্ছে পেপার রুম। আর একটা সিজার জোনও আছে। দোতলায় শিশুদের স্পা কাম স্যালোঁ। একেবারে ছোট শিশুদের জন্যে স্যালোঁ। চুল কাটা স্টাইল টাচ দেওয়ার পাশাপাশি হাইজিন কেয়ারটাও দেখে দেন দক্ষ কর্মীরা। শিশুদের সঙ্গে আসা বাবা মায়েরাও স্যালোঁর পরিষেবা নিতেই পারেন।

আইডিয়াটা দারুণ। এবং কলকাতায় কেন অনেক শহরেই এই ধরণের শুধুমাত্র শিশুদের ইচ্ছেকে প্যাম্পার করার জোন সেভাবে নেই। ব্যক্তিত্বের উন্মেষের জন্যে এই ধরণের বুটিক ভীষণ জরুরিও বটে। কথা হচ্ছিল সংস্থার কর্ণধারদের সঙ্গে। জানা গেল তিন অংশীদারের মধ্যে দুজনই মহিলা। এবং দুজনেই মা। আর অন্যজন অভিষেক গোয়েল গর্বিত বাবা। শিশুদের ভালোবাসেন টডলারদের জন্যে একটি স্কুলও চালান। কথা হচ্ছিল কবিতা আগরওয়ালের সঙ্গে। বেঙ্গালুরু থেকে বিয়ের পর কলকাতায় এসেছেন। ছোটবেলা থেকেই গান শুনতে, ড্রাম বাজাতে ভালোবাসেন। আর ভালোবাসেন খুদেদের নিয়ে থাকতে। ওদের নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ওয়ার্কশপ করানোর ব্যাপারে ওঁর উৎসাহ এবং অভিজ্ঞতা আছে। বেঙ্গালুরুতে একটি প্রিস্কুলে কাজ করার সময় শিশুদের সঙ্গে থাকার মজাটা পেয়েছেন এই উদ্যোগপতি। বলছিলেন ওদের টার্গেট কাস্টমর মিডল এবং আপার মিডল ক্লাস। সেই সব বাবা মা যারা ছেলে মেয়ের জন্মদিন পালন করতে হোটেলের ব্যাঙ্কোয়েট বুক করেন। তার তুলনায় স্টোন পেপার সিজারের ফ্লোর অনেক কম খরচে অনেক প্রাসঙ্গিক একটি বিকল্প হতে পারে।

দ্বিতীয় অংশীদার খুশবু জৈনের কথায় আসা যাক, খুশবু কলকাতার মেয়ে। মহাদেবী বিড়লায় পড়াশুনো করেছেন। তারপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হয়েছেন। স্বামী অর্পিত জৈন ফ্যাশন টেকনোলজির ছাত্র। শাশুড়ি মা প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নয়না জৈন। বিয়ের পর নয়না জৈনের সঙ্গেই কাজ করেছেন। সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদেরও ভালোবাসেন। নিজে দুই সন্তানের মা। সব মিলিয়ে স্টোন পেপার সিজার শুরু করার নানান কারণ আছে নয়নার। তবে যেহেতু খুশবু ফিনান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন তাই এই স্টার্টআপের আর্থিক দিকটা দেখভাল করেন তিনি। তিন প্রান্ত থেকে তিন জন মিলে খেলার ছলে কলকাতায় খুলে ফেলছেন এই প্রতিষ্ঠান। মাত্র কয়েক মাসেই দারুণ সাড়াও পেয়েছে ওদের অভিনব এই কনসেপ্ট।

Related Stories