আহ! কী খেলাম! সাধ মেটাচ্ছে 'বাবা ফাট্টুশ'

0

বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, আকাশের মুখ ভার। তবে আপনার মুখ ভার কেন? আসলে চাইছেন, খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ দিয়ে দুপুরের ভোজনপর্বটা সারতে, কিন্তু খেতে হবে টক দই দিয়ে ভাত। কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে বসবাসের সময় অনেকেরই এমন ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। সকালে উঠেই অফিস যাওয়ার তাড়া। হোটেল থেকে যা হোক কিছু অর্ডার দিয়ে এনে লাঞ্চ।রাতে বাড়ি ফেরার পথে হয়তো কোনও হোটেল বা ধাবায় মশলাদার কোনও একটা কিছু। আর রাতে ঘুমোতে গেলেন একটা অ্যান্টাসিড খেয়ে!

শরীরের নাম মহাশয় হলেও সকলের পেটে সবকিছু যে সহ্য হবেই এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। এখন সহ্য না হলে আপনিই বা কী করবেন। কাজের সূত্রে আপনাকে নিজের রাজ্য কিংবা শহর ছাড়তে হয়েছে। ভিন্ন পরিবেশে এখন আপনাকে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। পাশে নেই পরিবারের লোকজন। সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন মায়ের অভাব। আর মায়ের হাতে তৈরি রান্না। নিজের অভিজ্ঞতায় ব্যাপারটা হাড়ে-হাড়ে বুঝেছিলেন দেবেশ ভার্সনেই। আর সেই অভিজ্ঞতারই ফসল তাঁর স্টার্টআপ বাবা ফাট্টুশ (Baba Fattoosh). ২০১০ সালে কাজের সূত্রে দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু আসেন দেবেশ। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেয় তিনবেলার আহার। বেঙ্গালুরুতে তিন বছর ছিলেন দেবেশ। সেই সময় দিনের পর দিন ফাস্ট ফুডের ওপরেই থাকতে হয়েছিল তাকে। যার নিট ফল, বিশাল একটা ভুঁড়ি।

ব্যাপারটা সেখানেই শেষ হয়নি। বেঙ্গালুরুর পাট চুকিয়ে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং নিয়ে পড়তে দেবেশ পাড়ি দেন নিউ ইয়র্ক।সেখানেও একই অবস্থা।দিনরাত ব্যস্ততা। কিন্তু হেলদি ফুড মিলছে না। এর কি কোনও সমাধান নেই? উত্তরটা নিজেই দেন দেবেশ। আর অন্যের ভরসায় থাকা নয়, এবার যা করার তিনিই করবেন। এভাবেই বেঙ্গালুরুতে একসময় জন্ম নিল বাবা ফাট্টুশ।

নিজের হাতে থাকা অল্প মূলধন নিয়েই বাবা ফাট্টুশ গড়ে তোলেন দেবেশ। চাওয়া মাত্রই যেখান থেকে মিলবে উত্তর ভারতীয় (মূলত দিল্লির) খানা। স্বাস্থ্যসম্মত সেইসব খাবার গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হল। এককথায় বলা যায় ঘরোয়া রান্নার আয়োজন। যা রোজ মিলবে ঘরে বসেই। এমনকী রোজ একই রান্নাও নয়। সপ্তাহের সাতদিন সাতরকম ব্যবস্থা। এখন বেঙ্গালুরুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বাবা খাট্টুশের হোম ডেলিভারি ব্যবস্থা। বেঙ্গালুরুর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ টেক পার্কস (হোয়াইটফিল্ড, ব্রুকফিল্ড, বেলান্দুর, মারাথাল্লি কিংবা দোদ্দানেকুন্ডি)এলাকাগুলিতে অন-ডিমান্ড ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।রয়েছে ছ'জন ডেলিভারি বয়। ডেলিভারি সহজ করতে গাঁটছড়া বাঁধা হয়েছে রোড রানার নামে একটি সংস্থার সঙ্গেও।

বেঙ্গালুরুতে বাবা ফাট্টুশের টিম
বেঙ্গালুরুতে বাবা ফাট্টুশের টিম

কে এই 'বাবা'?

উত্তরটা মিলল প্রতিষ্ঠাতার থেকেই। 'বাবা' আসলে একজন খাদ্যরসিক ব্যক্তি (এই ধরনের লোক উত্তর ভারতে দেখতে পাওয়া যায়)। যার কাজ হল ঘরে-ঘরে গিয়ে সুখাদ্যের সন্ধান করা। তবে সব বাড়িতে তার পা পড়ে না। যে বাড়ি থেকে যত ভালো রান্নার সুগন্ধ বের হয় সেখানেই চেখে দেখতে হাজির হয়ে যান তিনি। এজন্য টিপিক্যাল এই 'বাবা' চরিত্রটিকেই ম্যাসকট বানিয়ে ফেলেছেন দেবেশ। আসলে উত্তর ভারতীয় বা দিল্লিবাসীদের আকৃষ্ট করতেই এমন নাম রাখা।সেই বাবা খাট্টুশে এখন মোট ২১ জন কর্মচারী। এরমধ্যে ন'জন রান্নার লোক। রোজ শ'খানেক অর্ডার এখনই আসছে। কাস্টমারের সংখ্যাও বাড়ছে। এর মধ্যে অনেকেই আছেন যারা রোজই এখানে অর্ডার করেন।

ব্যবসা বড় করতে ও বেশি সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছতে দু'মাসের সংস্থাটি তাকিয়ে রয়েছে লগ্নির দিকেও। সেইসঙ্গে প্রযুক্তিকেও কাজে লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে। দেবেশের কথায়,'কাস্টমারদের রুচি অনুযায়ী আমরা হেলদি ডায়েটের একটা তালিকা বানাতে চাইছি।ধরুন আজ দুপুরে আপনি পিৎজার অর্ডার দিলেন। রাতে অর্ডারের সময় এই অ্যাপ্লিকেশন আপনাকে পরামর্শ দেবে খিচুড়ি বা ওই ধরনের হালকা কিছু খেতে। কারণ এই অ্যাপ্লিকেশন জানে যে লাঞ্চে আপনি পিৎজা খেয়েছিলেন। যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের জন্য আবার সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেবে অ্যাপটি। ঠিক যেভাবে একজন মা তার সন্তানের খাবারদাবারের দিকে নজর রাখেন"।

বাবা ফাট্টুশ কি শুধু উত্তর-ভারতীয়দেরই রসনার তৃপ্তি ঘটাবে? দেবেশের আশ্বাস, আগামিদিনে সব প্রদেশেরই খাবার পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে চান তাঁরা। আর যারা স্টার্টআপ গড়তে চান তাদের উদ্দেশে তার বার্তা, যত বেশি সম্ভব বিভিন্ন পেশার লোকের সঙ্গে কথা বলুন।তবেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ব্যবসা থেকে লোকে কী প্রত্যাশা করছে বা সেই ব্যবসার ভবিষ্যৎ কেমন।