আপনাকে সুস্বাস্থ্য দিতেই ব্যস্ত কলকাতার "EUOR"

0

শরীর খারাপ হলে কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন? দরকারি প্যাথলজিক্যাল টেস্টই বা কোথায় করাবেন? কোথায় পাবেন প্রেসক্রিপশন মাফিক ওষুধ। এই সব প্রশ্নে চিরকালই আপনি ঘেটে গেছেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য লোকের পরামর্শ শুনে চলতে হয়েছে। তাতে ভাল ফলের পাশাপাশি সমস্যাও হয়েছে অনেক। যদি বা কোথাও প্রফেশনাল গাইডেন্স পেয়েছেন। তবে তা একটি দুটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। অফিসের চাপে মিস হত ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট। বাড়ির কারোর শরীর খারাপ হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দৌড়ঝাঁপেই কেটে যেত সময়। কেননা কোনও এক জায়গায় চিকিৎসা সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর সত্যিই মুস্কিল ছিল এতদিন। দীর্ঘদিনের এইসব স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবার এলো কলকাতার স্টার্ট আপ "EUOR"। দেশের প্রথম অনলাইন হেলথ-কেয়ার মার্কেট প্লেস।

কিভাবে কাজ করে "ইওর"

আপনার বাড়িতে কেউ রাতবিরেতে অসুস্থ হলে আপনি সচরাচর দিশেহারা বোধ করেন। আগে অ্যম্বুলেন্স ডাকবেন না ডাক্তার, নাকি পরিবারের সেই লোকটার সঙ্গে কথা বলবেন যিনি চিকিৎসার বিষয়ে আপনার থেকে বেশি বোঝেন! এসব করতে করতেই সময় কাবার হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটেই যায়। ইওর বলছে এসব নয়। বরং কল করুন ইওর এর হেল্প লাইন নম্বরে (033 - 4033 5555)। তারপর দেখুন কত দ্রুত আপনার সমস্যার সমাধান করে দেয় তাঁদের সংস্থা। অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো থেকে কোথায় গেলে সঠিক প্যাকেজে কোন পরিষেবা পাওয়া যাবে সবই করবে ইওর এর হেল্প ডেস্ক। ইওর এর মেম্বার হলে দরকারে ফোনে বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শও নিতে পারবেন আপনি। আপনার বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার্চ করে তারপর ডাক্তার থেকে প্যাথলজিস্ট সব কিছুই বুক করতে পারবেন ইওর এর মাধ্যমে। বাড়তি পাওনা আপনার পরিবারের সমস্ত মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটালি ক্লাউডে সংরক্ষিত রাখবেন তাঁরা। ফলে মুক্তি পাবেন সব সময় মেডিকেল রিপোর্ট বয়ে বেড়ানোর ঝামেলা থেকেও। প্রয়োজনমত রিপোর্ট ডাউন-লোড করে নিলেই হল। কোথায় কোন পরিষেবার জন্য খরচ কত পড়বে তাও জানতে পারবেন ওদের অ্যাপে। এমনকি বাড়িতে যদি কারো ফিজিওথেরাপি করানোর দরকার থাকে তাহলেও। বাড়িতে হাজির হবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট। এছাড়া ওষুধের দোকানে গিয়ে লাইনে দাঁড়াবার সময় নেই! দররকার নেই। অনলাইনে ডিসকাউন্টে ওষুধও কিনতে পারবেন ইওর এর মাধ্যমে।ডিসকাউন্ট পাবেন হেলথ চেক আপেও। আপাতত কলকাতা, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, আসানসোল, কাঁথি এবং ভুবনেশ্বরে পাওয়া যাচ্ছে ইওর এর পরিষেবা। সংস্থার সিইও সুদীপ মুখোপাধ্যায় এর কথায়,"স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়ান স্টপ সলিউশন দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে মেডিকেল ইনসিউরেন্সের মত পরিষেবার ক্ষেত্রেও কাজ করব আমরা।" তাদের অ্যাপ নিয়মিত ব্যবহারে কোনও পরিবারের মেডিকেল বিল ২৫% পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে দাবি সংস্থা কতৃপক্ষের।

যাত্রা শুরু

সংস্থার সিইও সুদীপ মুখোপাধ্যায় জানালেন ইউরো শুরুর গোড়ার কথা। নিজে বহুবার পরিবার পরিজনের শরীর খারাপের সময় অনেক সমস্যার মধ্যে পরেছি। ডাক্তার, এপয়ন্টমেন্ট, নার্সিংহোম এসব নিয়ে রীতিমত নাকানি চোবানি খেতে হয়েছে। মনে হল এই সমস্যাগুলোর সমাধান দরকার। সমস্যাগুলো কোথায় নিজে বোঝার চেষ্টা করলাম। তারপর ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে একটি নামী কোম্পানীকে দিয়ে মার্কেট রিসার্চ করালাম। দেখলাম ঠিকই ভেবেছি। মার্কেট রিসার্চে অংশ নেওয়া ৫৫০ টি পরিবারও চাইছেন একটি সিঙ্গল প্লাটফর্মে সব রকম পরিষেবা। ব্যাস একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে ভাইস প্রেসিডেন্টের চাকরি ছেড়ে নেমে পড়লাম সমস্যার সমাধানে। কলকাতার একটি ছোট্ট আই টি সংস্থা কিনে রিস্ট্রাকচারিং করলাম। তারপর বানালাম আমাদের নিজেদের ওয়েব সাইট।দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করার সুবাদে কোম্পানি চালানোর সবরকম অভিজ্ঞতা ছিল। সেই অভিজ্ঞতাই একে একে কাজে এল। ২০১৪ এর অগষ্ট মাসে আমাদের কোম্পানী ইওর এর পোর্টাল লঞ্চ করলাম। খুব ভাল রেসপন্স। কাজ করতে করতে আরও অনেক কিছু জানলাম। তারপর ২০১৫ এর পয়লা জুলাই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন লঞ্চ হল। আজ ২০১৬ এর জানুয়ারি প্রায় একলাখ লোক নিয়মিত ইওর এর পরিষেবা ব্যবহার করছেন। কেননা আমাদের আগে এইভাবে একটি অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েব পোর্টাল এত পরিষেবা দিতে পারেনি। দেশের মধ্যে আমরাই প্রথম। এমনকি প্রয়োজনে কোনও ডাক্তারের কাছ থেকে সেকেন্ড ওপিনিয়ন নেবারও ব্যবস্থাও করে দিই আমরা।"

সাফল্য ও পরিকল্পনা

গত কয়েক মাসেই গ্রাহক সংখ্যা এক লক্ষ ছুঁয়ে ফেলায় এবার বাংলা ওড়িশার বাইরে পা রাখতে তৈরী হচ্ছেন তাঁরা। যে কোনও স্টার্টআপের পক্ষে চ্যালেঞ্জিং সু স্ট্রাপিং ফেজ। এখন তাদের এর মধ্যে দিয়েই চলতে হচ্ছে। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্রোথ ফান্ড জোগাড় করতে ঝাঁপাচ্ছেন তাঁরা। সাফল্যও পেয়েছেন।ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে পাঁচ কোটির ব্রান্ডিং ও অ্যাডভার্টাইজিং ক্যাপিটাল দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বেনেট কোলমেন এন্ড কোম্পানী লিমিটেড এর অধীনস্থ ব্রান্ড ক্যাপিটাল। এর ফলে টাইমস গ্রুপের এর যেকোন মিডিয়া প্লাটফর্মে আগামী পাঁচ বছর বি়জ্ঞাপণ করার সুযোগ পাবেন তাঁরা। সংস্থার ভ্যালুয়েশন এখনই প্রায় ৫০ কোটি ছুঁয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টাইকনের একটি সর্বভারতীয় স্টার্ট আপ কম্পিটিশনে ২১২ টি এন্ট্রির মধ্যে প্রথম দশে চলে এসেছেন। পেয়েছেন সর্বভারতীয় স্বীকৃতি। আপাতত সুদীপের থামার উপায় নেই। কেননা দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তগুলিতেও ইওর এর সঠিক মূল্যে সঠিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্রত নিয়েছেন সুদীপের সংস্থা।