কোন ক্যাম্পাসে কী চলছে, বলবেন করিৎকর্মা রহিত

0

রহিত গুপ্তা ওরফে কম্পিউটার কিং ওরফে সিকে। বিপি পোদ্দার ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ২০১৩ সালে বি টেক করেছেন রহিত। বিষয়, কম্পিউটার সায়েন্স। কম্পিউটারের প্রতি অত্যধিক আকর্ষণের জন্য কলেজে সহপাঠীরা রহিতের নাম রেখেছিলেন কম্পিউটার কিং ওরফে সিকে। ভা‌লোবেসে বন্ধুদের দেওয়া নাম সার্থক করেছেন রহিত। ২০১২ সালে কলেজভিত্তিক একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট চালু করেন। সাইটটির নাম রাখা হয়, ক্যাম্পাস কর্মা। এটা আসলে একটি কমন নোটিশ বোর্ড, যাতে চোখ ফেললে পড়ুয়ারা নিজের ও অন্য কলেজগুলির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ক্যাম্পাস কর্মার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা রহিত। বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসের যাবতীয় খবরাখবরের এরকম স্টার্টআপের আইডিয়া বাল্ব জ্বলে উঠল কীভাবে। রহিত জানালেন, এ ধরনের ক্যাম্পাসভিত্তিক ওয়েবসাইটের মধ্যে ক্যাম্পাসকর্মাই ভারতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসের যাবতীয় কাজকর্ম, ফেস্ট, ওয়ার্কশপ, খেলাধূলা বা অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পর্কিত খবরাখবর ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশেই শুরু হয়। ইঞ্জিনীয়ারিং পড়াকালীন বছর বাইশের তরুণ রহিত অন্য কোনও কলেজে ফেস্ট বা স্পোর্টস কিংবা কোনও অনুষ্ঠান হলেই চলে যেতেন। বলছিলেন, বিষয়টা এতটাই মজার ছিল যে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ক্লাস ফাঁকি দিয়েই এ কলেজ সে কলেজ ঘুরে বেরাতাম। উদ্দেশ্য ছিল, ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। সেই সময়ই লক্ষ্য করি, কোন ক্যাম্পাসে কী হচ্ছে, সেই সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিশদ তথ্য থাকাটা খুব জরুরি। আর সেই অভাব বোধ থেকেই মগজে বাল্ব জ্বলে উঠেছিল। ২০১২ সালে কলেজভিত্তিক ওই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটি চালু করেন রহিত।

গত কয়েক বছরে আরও একটি কাজ সমান তালে করে চলেছেন রহিত। পেশাদারভাবে ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভলপমেন্টের কাজ। রহিতের ক্লায়েন্টের তালিকাটা ইতিমধ্যেই বেশ দীর্ঘ। জোরো লাক্সারি চকোলেট, আরকস ইভেন্ট, মেডপ্ল্যানেট সালফার গ্রুপ, স্কাইনেট সিস্টেম এইচবি-র মতো নানান সংস্থার ওয়েব ডিজাইনিং ও ডেভলপিংয়ের কাজ করেছে ক্যাম্পাসকর্মা।

তিন-চার বছর আগের একদিন খেলাচ্ছলে যে আইডিয়াটা রহিতের মাথায় এসেছিল, তার ভিতর বিপুল এক সম্ভাবনার বীজ অবশ্যই ছিল। রহিতের যত্নে তা ধীরেধীরে ফলদায়ক হয়েছে। রহিত জানালেন, ক্যাম্পাসকর্মা সেইসময় ছিল ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের ভিতর যোগাযোগ ‌তৈরির জন্য এদেশের প্রথম ওয়েবসাইট। রহিতের কথায়, প্রথম দিকে বেশ কিছুদিন নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে ওয়েবসাইটটি চালিয়ে যেতে হয়েছে।

এখন ক্যাম্পাসকর্মা একটি বাণিজ্যিক সংস্থা। রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে ফলপ্রসূ প্রোগ্রামিং কালচার গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে ক্যাম্পাসকর্মা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করতে রহিতের সংস্থা গাঁটছড়া বেঁধেছে কোডব্লিক্স নামে অপর একটি নবগঠিত সংস্থার সঙ্গে। রহিত জানালেন, একাজের জন্য কিছুদিন অন্তর ওয়ার্কশপ করানো হয়ে থাকে। তাতে এই রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়ারা ভালোই সাড়া দিচ্ছেন।

ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপার হিসাবে পেশাদারভাবে কাজ করেন রহিত। ইতিমধ্যেই বানিয়ে ফেলেছেন দুটি ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাডভান্স চ্যাট ও মাই স্ট্যাটাস প্ল্যান)। রহিত বললেন, এই কাজটাও আমার কাজের অন্যতম বড় সাফল্য।বয়সে অতি তরুণ উদ্যোগপতি রহিত কোডিং কম্পিটিশনে অংশ নিতে ভালোবাসেন। গ্র্যাজুয়েশনের শেষ বছরে ২০১২ সালে ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন অ্যাডভান্স চ্যাটে ভারত থেকে ২৫০জন প্রতিযোগী যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তৃতীয় হন।

তাঁর স্বপ্ন, আগামী দিনে ক্যাম্পাসকর্মাকে সবচেয়ে বড় স্টুডেন্টস কম্যুনিটি সাইট হিসাবে গড়ে তুলতে চান। ছাত্রছাত্রীরা যাতে ওই সাইটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নোটসও সংগ্রহ করতে পারবেন, সেই লক্ষ্যেও কিছুদূর এগিয়েছেন রহিত। তবে এখানেই শেষ নয়। নিজের হাতে গড়া সংস্থা ক্যাম্পাসকর্মাকে নিয়ে রহিতের হাতে এখন একগুচ্ছ স্বপ্ন। আগামী সময়ে এ দেশের যুবপ্রজন্মকে একসূত্রে বেঁধে ফেলতে চায় ক্যাম্পাসকর্মা। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হস্টেলের বন্ধুরা ভালোবেসে কম্পিউটার কিং হিসাবে ডাকতেন রহিতকে। ইতিমধ্যে রহিত‌ বন্ধুদের দেওয়া ওই নামের মর্যাদা রেখেছেন।

Related Stories