'ফুড ডেলিভারি' ব্যবসায় নামছে না 'গ্রোফার্স'

0

৪৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ; সংস্থার মোট মূল্য ১১০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এবং সম্প্রতি Spoonjoy অধিগ্রহণ - সব মিলিয়ে সময়টা বেশ ভালোই যাচ্ছে গ্রোফার্সের।

গত মাসে এই গেরুয়া ব্রিগেড একাই ১৪০টি মার্কেটিং পার্টনারশিপ করেছে, যার মধ্যে পেপসি এবং কোয়ালিটি ওয়াল্‌স এর মতো নামী সংস্থা রয়েছে। এই মুহূর্তে, গ্রোফার্স ৮০০জন বিশেষ ব্যবসায়ী এবং ২,৫০০ আউটলেট থেকে জিনিসপত্র আমদানি করে।

এই হাইপারলোকাল ডেলিভারি স্টার্ট আপ-এর সাফল্যের রহস্যটা ঠিক কী? জানতে আমরা যোগাযোগ করলাম সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা অলবিন্দর ধিন্ডসা-র সঙ্গে।

Spoonjoy অধিগ্রহণ

গত মাস থেকেই গ্রোফার্সের স্পুনজয় অধিগ্রহণ নিয়ে বাজারে আলোচনা ছিল বিস্তর। খবরটা যে ঠিক, তা জানালেন অলবিন্দর। তিনি বললেন,

"আমরা গ্রোফার্সকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যেতেই স্পুনজয় অধিগ্রহণ করেছি। কিন্তু ফুড ডেলিভারির ব্যবসায় নামার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই।"

তিনি আরও বলেন, আড়াই বছর আগে তাঁদের সংস্থা ডেলিভারির ক্ষেত্রে খানিকটা পরীক্ষামূলকভাবেই পণ্য পরিবহন করা শুরু করেছিলেন। যদিও অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা উপলব্ধি করেন, এই ব্যবসায় নামার কোনও ইচ্ছে তাঁদের নেই। "সেই কারণে আমরা শুধু প্রোডাক্ট ডেলিভারিতেই মনোনিবেশ করি। ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে যাতে আমরা যত বেশি সম্ভব স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির প্রোডাক্ট সরবরাহ করতে পারি সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করি," বললেন অলবিন্দর।

তাহলে কি কার্যপ্রণালীর দিক থেকে স্পুনজয়-এর সক্ষমতাই গ্রোফার্স-এর ওই সংস্থার প্রতি আগ্রহের কারণ? অলবিন্দর বলছেন, না। তাঁর মতে স্পুনজয় এমন একটি সংস্থা যারা দারুণ প্রোডাক্ট তৈরী করেছে। কিন্তু ফুড বিজনেস-এর পরিসর

ছোট হওয়ায় স্পুনজয়-এর পক্ষে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে সেই সংস্থার পুরো টিম এসে গ্রোফার্সে যোগ দেয়। তবে তাদের ESOP দেওয়া হলেও সেই অর্থে আর্থিক লেনদেন কিছু হয়নি। অন্যদিকে বিজনেস টু বিজনেস লজিস্টিক্স সার্ভিস প্রোভাইডার, 'টাউনরাশ' অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অলবিন্দর জানালেন, ওই সংস্থার মাত্র কয়েকজন কর্মচারী তাঁদের সংস্থায় যোগ দিয়েছে কারণ অধিগ্রহণের আগেই সংস্থাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে এই হাইপারলোকাল স্টার্ট আপ স্পোর্টস ও হোম গুড্‌স এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে।

"আমাদের ধারণা এই বিভাগগুলিই গ্রোফার্সের ভবিষ্যৎ হতে চলেছে। খাদ্য পরিষেবা আমাদের ভাবনাচিন্তায় সেভাবে নেই," যোগ করলেন অলবিন্দর।

'স্লোডাউন'-এ ব্যবসা বেড়েছে 'গ্রোফার্স'-এর

অলবিন্দর ধিন্ডসা জানাচ্ছেন,

"এই সময়টা বাজারের পক্ষে ভালো তার কারণ প্রতিযোগীতা কমায় ক্রেতা টানতে আমাদের খরচ কমছে। বিশেষ করে এমন ‌পরিষেবা যা অনেক সংস্থাই দিয়ে থাকে সেখানে প্রতিযোগী যত কমবে তত সুবিধে। কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই সময় আমাদের সুবিধা। তার কারণ কম খরচে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব। ফলে সব দিক থেকে ব্যবসা চালানো সুবিধানক হয়ে উঠেছে।"

যদিও একের পর এক কোম্পানি বন্ধ হতে থাকার বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু অলবিন্দর-এর মতে স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমের জন্য বৃহত্তর ক্ষেত্রে এটি লাভজনক। স্লোডাউনের পরেও যে সংস্থাগুলি টিকে থাকছে, তারা তাদের ব্যবসার পরিধি বিস্তারের কথা ভাবতে পারছে। অনেকগুলি ছোট সংস্থাকে নিয়ে তৈরী হওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগীতামূলক বাজারের তুলনায় যা সবসময়ই বেশি স্বাস্থ্যকর। 

"নিজের শক্তিবৃদ্ধি করে সকলের নজরে আসার এবং বাজারে আরও ভালো করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এটাই সেরা সময়," 

বললেন অলবিন্দর।

তাহলে গ্রোফার্স কি আরও অধিগ্রহণের পথে এগোবে?

অলবিন্দরের মতে কেনও সংস্থার উচিত যতটা সম্ভব সুযোগসন্ধানী হওয়া।

"আমরা যে ধরণের ব্যবসা তৈরীর চেষ্টা করছি তাতে সব ক্ষেত্রে অধিগ্রহণ খুব একটা অর্থপূর্ণ নয়। তবে যদি আমাদের মনে হয় এমন কোনও টিম আছে যাদের সঙ্গে কাজ করলে তা আমাদের জন্য অন্য মাত্রা যোগ করতে পারবে তবে তা নিশ্চয়ই করব।"

বিনিয়োগের সীমা

ইতিমধ্যেই ৪৫মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে গ্রোফার্স; অংকটা একটু বেশি নয় কি? যদিও অলবিন্দর বলছেন এই বিনিয়োগ পরীক্ষামূলক নয়, তাঁরা জানেন এই টাকার কতটা কোন খাতে কাজে লাগাতে হবে।

"প্রথম ধাপের বিনিয়োগ আসার পর আমরা সত্যিই ভালোভাবে এগোচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যাতে খুব বেশিবার বাজার থেকে বিনিয়োগ খুঁজতে না হয়। প্রতিযোগীতামূলক বাজারে সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ টানতে পারলে সেটাই করা উচিত।"

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৩৫মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে এই সংস্থা। সূত্রের খবর গ্রোফার্স আরও একবার বিনিয়োগ আনতে বদ্ধপরিকর। যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য় করতে রাজি নন অলবিন্দর।

One number

সম্প্রতি একটি পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলস্বরূপ এই সংস্থা তাদের প্রথম সংস্থার নাম - 'One number'কেই তাদের ডেলিভারি ইকোসিস্টেমের নাম হিসেবে ব্যবহার করছে। বিষয়টি জানতে চাওয়ায় বিস্তারে বললেন অলবিন্দর :

"আমরা কীভাবে আমাদের ডেলিভারি চলে তা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আমরা আমাদের কনসিউমার ইকোসিস্টেম থেকে পৃথক হওয়ার জন্য 'One number' নামে ডেলিভারি করতে শুরু করি। পরে আমরা বুঝতে পারি ক্রেতাদের পক্ষে বিষয়টি বুঝতে পারে বেশ সমস্যাজনক হয়ে উঠেছে। আমরা ফের 'Grofers' নাম রাখি এবং শেষ পর্যন্ত দুটি নাম মার্জ করতে হয়। "

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এই সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীর দাবি, এই পরীক্ষা নিরীক্ষা চলাকালীন তাঁর চাকরি চলে যায়। তাঁর মতে, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর প্রায় ২৫০ ডেলিভারি বয় এবং অপারেশন্‌স টিমের বেশ কয়েকজনকে ছাঁটাই করে দেয় সংস্থা।

যদিও অলবিন্দরের পাল্টা দাবি, সংস্থার উন্নয়ন এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

"আমার সংস্থার ৪০-৫০ জন ছাঁটাই হয়ে গেলে আমার কাছে সেই খবর থাকত। এটাই এই ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম। আমাদের অপারেশন্স এ ৮৭০ জন কর্মী এবং ৪,৫০০ জন ডেলিভারি বয় রয়েছেন। এর মধ্যে অপারেশন্‌স টিমের ৫-৭ শতাংশ এবং ডেলিভারি বয়দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশে কিছু পরিবর্তন ঘটানো হয়েছিল।"

ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি যত বাড়ছে ততই আগামী দিনে বাজারে টিকে থাকার লড়াইয়ে 'গ্রোফার্স' মডেল কতটা কাজে দেয়, এখন সেটাই দেখার।

লেখা : তরুশ ভল্লা; অনুবাদ : বিদিশা ব্যানার্জী