দিল্লির হেল্থটেকে CAN এর কোটি টাকার বিনিয়োগ

3

ধরুন আপনার গল ব্লাডার অপারেশন করতেই হবে। কোথায় করাবেন? কোন হাসপাতালে? কত টাকার রেট? কী প্যাকেজ? আগে থেকে জেনে বুঝে নিতে আপনি ক্লিক করতেই পারেন LetsMD এই সাইটে। দিল্লির এই হেল্থটেক স্টার্টআপে সম্প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে ক্যালকাটা অ্যাঞ্জেলস নেটওয়ার্ক। ৮ শতাংশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। জানালেন ক্যানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিদ্ধার্থ পানসারি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে LetsMD নামের এই সংস্থা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। ইতিমধ্যেই দিল্লি এবং রাজধানী চত্বরের তিনশটি হাসপাতালের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধে ফেলেছে এই সংস্থা। সেই তালিকায় রয়েছে ফোর্টিস হেল্থকেয়ার, বিএলকে হসপিটাল এবং অ্যাপোলো হসপিটালের মত বড় নামও। এটি এমন একটি মার্কেট প্লেস যেখানে আপনি হেল্থ সার্ভিসগুলির গুণগত মান এবং ব্যয়ের একটি তুল্যমূল্য বিচার পাবেন। ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি আছে LetsMD তার মূল ধরে যেন নাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংস্থার তিন প্রতিষ্ঠাতার একজন নিবেশ খাণ্ডেলওয়াল, উদ্যোগের দুনিয়ায় নতুন নন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সেক্টরে ব্যবসা করছেন। ওয়ার্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এমবিএ একজন সিরিয়াল আন্ত্রেপ্রেনিওর। প্রখর গুপ্তা পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আর তনজিম থারগে আইআইএম বম্বের এর কৃতী ছাত্র।

তাদের লক্ষ ছিল এমন একটি স্টার্টআপ তৈরি করা যার মারফত তারা দেশের আম আদমিকে উচ্চমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা ন্যায্য মূল্যে দিতে পারেন। এই মার্কেট প্লেসে বিভিন্ন হাসপাতালের পরিষেবার হদিস যেমন দেয় তেমনি দেয় তুল্যমূল্য বিচার করার একটি কমন প্লাটফর্ম। আপনার যদি মেডিকেল লোন প্রয়োজন পরে তারও ব্যবস্থা আছে ওদের পরিষেবার বাস্কেটে। আপনি চাইলে আপনার স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারবেন। ফলে একে গ্রিভান্স বা ক্ষোভ জানানোর জায়গা হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। বলছিলেন প্রখর গুপ্তা। আর এই বিনিয়োগের টাকা ব্যবহারের প্রসঙ্গে নিবেশের উত্তর তৈরি, প্রযুক্তি আরও নিখুঁত করার কাজে মূলত ব্যবহার করা হবে। শুধু প্রযুক্তি নয় দক্ষ টিম এবং মার্কেটিং চাহিদা মেটানোর কাজেও লাগবে। ফলে ভারতের হেল্থকেয়ার সেক্টরে একটি অভিনব প্লাটফর্ম হিসেবে LetsMD খুব দ্রুতই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বলে মনে করেন ক্যালকাটা অ্যাঞ্জেলস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট সিদ্ধার্থ পানসারি।

যদিও এখনও শুধুই দিল্লি এবং রাজধানী এলাকায় এই পরিষেবা চালু আছে কিন্তু গোটা দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা আছে এই সংস্থার। জানালেন সংস্থার তিন কর্ণধার।