ব্যাঙ্কার থেকে ডিজাইনার, চূড়ান্ত সফল পূর্ণিমা

0

ছিলেন সফল ব্যাঙ্কার। ওয়ালস্ট্রিটে বসে জটিল সব অঙ্ক কষেছেন। ব্যবসা থেকে বিনিয়োগ, ট্র্যাটেজি ঠিক করে দিয়েছেন কত জনের। সেই তিনিই রাতারাতি বনে গেলেন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার! পূর্ণিমা বর্ধনের এমন কাণ্ডের কথা শুনলে রূপকথা মনে হতেও পারে। কিন্তু আপনারা যাকে রূপকথা ভাবছেন সেটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছেন নিউইয়ার্কে ইউবিএস ব্যাঙ্কের একজন সফল প্রাক্তন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার পূর্ণিমা বর্ধন।

ভারতে তিনি ফিরলনই উদ্যোক্তা হতে। যখন নিজে কিছু একটা করবেন বলে স্থির করলেন, তখন একটা জিনিস লক্ষ্য করলেন। দেখলেন, মানুষ ভালো অনুভূতির চাইতে দেখতে ভালো লাগাকে বেশি গুরুত্ব দেন। ‘সবরকম ফিটিংস আছে- স্লিম ফিট, পিটাইট ফিট আরও কত কত। কিন্তু কোথাও আত্মবিশ্বাসী বা কনফিডেন্স ফিট অর্থাৎ পোশাক বা এক্সেসরিজ যাই পরা হোক না কেন, দেখা এবং অনূভূতিতে কনফিডেন্ট মনে হবে, তেমন কিছু পেলাম না’, বলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকেই 335th এর সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু তাঁর। 335th, যাকে তিনি বলেন ‘ফিটওয়ার’ ফ্যাশন কনসেপ্টের নয়া আবিষ্কার।

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজ থেকে ম্যাথমেটিকসে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নিয়ে লন্ডন চলে যান। সেখানে লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে অপারেশনাল রিসার্চে স্নাতকোত্তর হন। এরপর ওয়ারটন স্কুল থেকে ফিন্যান্সে এমবিএ করেন। ফিন্যান্স এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে দক্ষ পূর্ণিমার কাছে ফ্যাশন ডিজাইনের জগৎটা ছিল নতুন আবিষ্কারের মতো। শুরুটা হয়েছিল চিনে। বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিকের ওপর গবেষণার মাধ্যমে একেবারে গোড়া থেকে শুরু হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে 335th এর জন্ম। ‘প্রথম দিকে যেহেতু কনসেপ্ট এবং প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট চলছিল, তাই যেসব কর্মী পেয়েছিলাম, তারা সবাই পার্টটাইম কাজ করতেন। যখন নতুন কোনও আইডিয়া নিয়ে কাজ হয়, তখন মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা আনা এবং কাজ করানো বেশ চ্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে আমার ভাগ্য ভালোই ছিল’, বলেন পূর্ণিমা। প্রথম দিকে খুব আর আ্যান্ড ডি (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) চলছিল। ফ্যাব্রিক থেকে ফিটিং, তৈরি করার পদ্ধতি এবং আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রডাক্ট নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে।

পূর্ণিমার মনে পড়ে, সংস্থার নাম দেওয়া ছিল কষ্টসাধ্য কাজ। ‘335th নাম দেওয়ার প্রথম কারণ ছিল ফিটওয়্যার কনসেপ্ট নিয়ে আমার প্রথম ভেঞ্চার লঞ্চিংয়ের নির্মলতা, যার মাধ্যমে ‘335th’ এর ঠিকানা পরিষ্কার হয়ে যায়’, পূর্ণিমার ব্যাখ্যা। তাছাড়া তিনি চেয়েছিলেন সংস্থার এমন নাম হবে, যাতে ভাষার বাধা থাকবে না এবং বিশ্বজনীন হবে। মানসিকভাবে অংক বিশেষজ্ঞ হিসেবে সংখ্যার প্রতি পূর্ণিমার টানও এই নামের পেছনে আরেকটা কারণ। 335th হল প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের পোশাক এবং এক্সেসরিজ। যারা আরামদায়ক পোশাক চান সেই সঙ্গে স্টাইল, মানও থাকা চাই তাদের কথা ভেবেই এই ব্র্যান্ড। সংস্থার প্রথম কালেকশন ছিল মহিলাদের একরঙা এবং প্রিন্টেড লেগিংস। ভারত এবং চিনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে 335th এক বিশেষ পলি ভিসকোস ইলাস্টেন ব্লেন্ডের লেগিংস তৈরি করেছে। ‘শরীরের আকার দেবে এমন ব্লেন্ড আমরা তৈরি করতে চেয়েছিলাম। একই সঙ্গে আরামদায়ক, স্টাইলিশ এবং ছুঁলেই মোলায়েম মনে হবে’, জানান পূর্ণিমা। লেগিংসে ৪ ইঞ্চি ইলাস্টিকের কোমরবন্ধ পেটের কাছটায় সুন্দর মসৃণ আকার তৈরি করে।

যে কোনও নতুন ব্র্যান্ডের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ হল ডিস্ট্রিবিউশন। 335th একই সঙ্গে অনলাইন এবং ব্রিক অ্যান্ড মর্টার মডেল (যেখানে তৈরি হয় সেখানেই বিক্রি)এ ব্যবসা চালায়। নানা রিটেলারদের সঙ্গে ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য কথাবার্তা চলছে। নিজের মার্জিন এবং রিটেলারদের লাভ-এই জায়গাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং, প্রতি পদে পদে যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ সবকিছুর ভাড়া বেশ চড়া, বলেন প্রাক্তন ব্যাঙ্কার। এইসব চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে শিগগিরই ই-কমার্স স্টোর লঞ্চ করার পরিকল্পনা করছেন পূর্ণিমা। শুধু মহিলা নয়, পুরুষদের পোশাক নিয়েও কাজ করছে 335th । আগামী দু বছরে 335th দেশের বাইরেও ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সঙ্গে চলবে পোশাক নিয়ে নানা গবেষণা এবং নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে আসার ভাবনা।