মায়ের ছোঁয়ায় সৌরভ আজ সামাজিক উদ্যোগপতি

0

সময়টা ১৯৬৭ সাল। গুরুসদয় দত্ত রোডে থাকতেন সৌরভ মুখোপাধ্যায়।পড়তেন সেন্ট জেভিয়ার্সে। সেসময় তাঁর বাড়ির পিছনের আহিরিপুকুর বস্তিতে দুস্থ শিশুদের জন্য স্কুল গড়েছিলেন মাদার টেরিসা। মাদারের সংস্পর্শে এসেই সমাজের অবহেলিতদের জন্য কিছু করার তাগিদ জন্ম নিয়েছিল তাঁর মধ্যে। সেই তাগিদ থেকেই মাদারের স্কুলে সকালে এক ঘণ্টা করে পড়াতে শুরু করলেন সৌরভ।

সত্তরের দশক। সেন্ট লরেন্সে পড়ার সময় ফাদারই বলেছিলেন ক্যাম্পাসে দুস্থ শিশুদের পড়ানোর ব্যবস্থা করতে। সেই শুরু। এরপর পড়াশোনা শেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কাজ শুরু করলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন ইয়ং মেনস্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বা ওয়াইএমডব্লুএস।

দুস্থ শিশুদের জন্য একে একে স্কুল গড়লেন লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার, জয়নগরে। নাম দিলেন ‘খেলাঘর’। প্রেপ প্রাইমারি আর প্রাইমারি সেকশন পড়ানো হয় সেখানে। শহরের মধ্যে তপসিয়ার মৌলানা আজাদ কলেজ ক্যাম্পাসে এবং সেন্ট লরেন্সে ২টি ইভনিং স্কুলও রয়েছে তাঁদের।

প্রথম দিকে কিছু ধারদেনা করেই কাজ শুরু করেছিলেন সৌরভ।২০০২ সালে আইসিএসই বোর্ডের অধীনে একটি স্কুল গড়েন তিনি।ইয়ং হরাইজন স্কুল। ইএমবাইপাস, থিয়েটার রোড, কড়েয়ায় শাখা রয়েছে এই স্কুলের। এখানেও ইভনিং স্কুলে পড়ে এলাকার দুস্থ শিশুরা। তারাতলায় চিলড্রেনস ফাউন্ডেশন নামে আরো একটি স্কুল রয়েছে অ্যাফিলিয়েশনের অপেক্ষায়।

ধীরে ধীরে আড়ে বহরে বেড়েছে তাঁর সংস্থা। তাই শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি লাইভলিহুড সাপোর্ট দিতে শুরু করে ওয়াইএমডব্লুএস। সৌরভ মুখোপাধ্যায় জানালেন, “ইংরাজি মাধ্যম স্কুলগুলি থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই দুস্থ শিশুদের জন্য তৈরি ৭টি স্কুলের খরচ চলে। এছাড়া সেইসব শিশুদের মায়েদের স্বনির্ভর করতে হস্তশিল্প সহ যে কোনওরকম ব্যবসার জন্য অর্থসাহায্য করা হয়।” আপাতত সুন্দরবনে মহিলাদের স্বনির্ভর করার কাজ চালাচ্ছেন সৌরভ এবং তাঁর সংস্থা।

সম্প্রতি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের ধাঁচে প্রাতঃরাশ দেওয়াও শুরু হয়েছে। তাতে দুধ, ডিম, কলার মতো পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে দরিদ্র শিশুরা। এছাড়া আইরিশ সরকারের সহযোগিতায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪০টি গ্রামে টিউবওয়েলের সাহায্যে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে ওয়াইএমডব্লুএস।

নিজের সংস্থাকে ‘এনজিও’বলতে নারাজ সৌরভ। তাঁর মতে, ‘এনজিও শব্দের সঙ্গে অনেক বিতর্ক জড়িয়ে গেছে। দুস্থদের উন্নয়নের নামে বিদেশি অনুদান আদায়ের মতো অভিযোগ সবক্ষেত্রে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। তাই ওয়াইএমডব্লুএস-এর গায়ে এনজিও তকমা সাঁটতে চাই না।’

অনেকটা সে কারণেই নিজের জন্য বিরাট কিছু করার লক্ষ্য রাখেননি সৌরভ। গোটা পৃথিবীকে নয়, আপাতত রাজ্যের একটি জেলাকেই ‘শিশুর বাসযোগ্য’দেখতে চান তিনি।

Related Stories