গ্রামে, শহরে ছড়িয়ে পড়ছে Mitram এবং Euor Health এর কার্ড

1

বহরমপুর গিয়েছিলাম কিছুদিন আগে। কলকাতার এক তরুণ উদ্যোগপতি একটি স্বাস্থ্য শিবিরে নেমন্তন্ন করেছিলেন। বহরমপুর উত্তরপাড়া মোড়ে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সুলভে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কলকাতার যুবক অঙ্কুর রায়। শুরু করেছেন মিত্রম নামে তাঁর সংস্থা। মহিলা চালিত একটি সমবায়ের ছোট্ট ঘরে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছিল। সকাল থেকেই বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার লম্বা লাইন। চারদিকে বাঁশবন, সরষে খেত, আঁকাবাঁকা মাটির রাস্তা পেরিয়ে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসেছেন। এসেছিলেন বহরমপুর মেডিকেল কলেজের একদল চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। স্বাস্থ্য দফতরের বড় কর্তারা। সেই অনুষ্ঠানেই মিত্রমের যাত্রা শুরু হল। 

অঙ্কুর বলছিলেন, গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে মিত্রম। প্রথমে মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, পরীক্ষাগারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিষেবা দেবে। যারা নাম নথিভুক্ত করাবেন, দেওয়া হবে সদস্য কার্ড। সেই কার্ড দেখিয়েই ছাড় পাওয়া যাবে স্বাস্থ্য পরিষেবায়। তরুণ এই সামাজিক উদ্যোগপতির প্রয়াসের পাশে আছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, বহরমপুর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল। ওর প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে মুর্শিদাবাদের অধিকাংশ ওষুধের দোকান এবং ওষুধ সংস্থাগুলি। মিত্রমের সদস্যদের ছাড় দিতে রাজি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছোটবড় স্থানীয় প্রায় ১০০টিরও বেশি বেসরকারি হাসপাতাল মিত্রমের সদস্যদের চিকিৎসায় একটা বড় শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ফলে আশা করা যায় মুর্শিদাবাদে গ্রামে গ্রামে খুব শিগগিরই ছড়িয়ে পড়বে মিত্রমের নেটওয়ার্ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুর্শিদাবাদের গরিব মানুষই বেশি উপকৃত হবেন। সরাসরি কাজ পাবেন জেলার বেকার যুবক যুবতীও। পাশাপাশি বলে রাখি অঙ্কুরের কাছে প্রকল্পটি চালানোর মত যথেষ্ট ভালো রেভেনিউ মডেলও রয়েছে। ফলে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কম।

একা অঙ্কুর নন, একই রকম প্রোডাক্ট নিয়ে বাজারে আসতে খুর ঠুকছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। স্বাস্থ্য পরিষেবার অঙ্গনে কাজের বিপুল সম্ভাবনার হদিস পেয়েছে উদ্যোগের দুনিয়া।

বেশ নাম করা হেলথ স্টার্টআপ Euor Health এবার বাজারে এনেছে তাদের কার্ড। যে কেউ এই কার্ডের জন্যে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীরা পাবেন তাদের নিজস্ব ইউনিফায়েড অ্যাকাউন্ট নাম্বার। 1800 532 1555 এই টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করলেই পাওয়া যাবে কার্ডের হদিস। কার্ড থাকলে সস্তায় সম্ভব হবে হেলথ ইন্সিওরেন্স, অ্যাক্সিডেন্টাল ইন্সিওরেন্স, হোম হেল্থকেয়ার সাপোর্ট, ঘরে বসে ফিজিও থেরাপি করানোর বন্দোবস্ত, প্রয়োজনমত নার্স আয়ার সেবা, চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্র ভাড়া করা কিংবা কেনার ব্যবস্থা, প্যাথলজি এবং ডায়াগনস্টিক পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স বুক করার ব্যবস্থা, ওষুধ কেনা, চব্বিশ ঘণ্টা ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিষেবা, চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক স্তরে দ্বিতীয় উপদেশ নেওয়ার সুযোগও পাবেন এই কার্ডে দৌলতে। শুধু কি তাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরও সোজা হয়ে যাবে, চিকিৎসার খরচে ছাড় পাওয়া যাবে, অপারেশন করানোর বেলায় সব থেকে কম খরচের প্যাকেজ পাওয়া যাবে। ডাউনলোড করা যাবে অ্যাপ। নিজস্ব অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে লগ ইন করলেই সব সুবিধে হাতের মুঠোয়।

মিত্রম এবং Euor Health দুটি সংস্থারই নজরে সাধারণ মানুষ। Euor Health-এর টার্গেট অডিয়েন্স শহরের মানুষ। আর মিত্রম পেতে চাইছে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের আস্থা। এখন মুর্শিদাবাদ থেকে যাত্রা শুরু করে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পরতে চায় অঙ্কুর। আর Euor Health-এর কর্ণধার সুদীপ মুখার্জি চান গোটা দেশে বিস্তৃত হতে।