পাবলিক ওয়াই ফাই, উইনগেজের চিচিং ফাঁক!

0

বিক্রয় পরবর্তী পরিষেবা, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস, ডিসকাউন্ট পেলে ক্রেতারা খুশি হন। আসলে বাড়তি কিছু পেলে খুশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ঠিক একইভাবে তাকিয়ে থাকেন ফ্রি ওয়াই ফাই সার্ভিসের দিকে। পয়সা খরচ না করে যত ইচ্ছে নেট ব্যবহার। একবার পাবলিক ওয়াই ফাই জোনে ঢুকলেই চিচিং ফাঁক! ভারতেও এখন বড়-বড় শহরগুলিতে বাড়ছে এই ওয়াই ফাই পরিষেবা। রেস্তোরাঁ, কফি শপ, বুকস্টোর কিংবা জিমে ওয়াই ফাইকে স্ট্যান্ডার্ড ফেসিলিটি বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ক্রেতা বা গ্রাহককে এই পরিষেবা দিতে গেলে একটি পাবলিক ওয়াই ফাই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বসাতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। এখানেই দেখা দেয় সমস্যা। প্রথমত, পাবলিক ওয়াই ফাই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বসানো খরচসাপেক্ষ। দ্বিতীয়ত, ওয়াই ফাই ব্যবহারের খরচ কে দেবে? রিটেল ব্যবসায়ী না ইউজার?

পাবলিক ওয়াই ফাই

রিটেল ব্যবসায়ীদের সমস্যা মেটানো এবং কাস্টমারদের জন্য ফ্রি ওয়াই ফাই পরিষেবার ব্যবস্থা। দুটি দিক একইসঙ্গে কীভাবে বজায় রাখা যায়? সেই পথ বাতলে দিতেই বিশাল চৌধুরি ও অনুরাগ চিভিলকার ডেভেলপ করেছেন ওয়াই ফাই ভিত্তিক একটি অভিনব পদ্ধতি।যা আসলে ক্লাউড ম্যানেজড 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে' পাবলিক ওয়াই ফাই সিস্টেম। যার ব্র্যান্ড নেম রাখা হয়েছে উইনগেজ (Wingage)। এই পদ্ধতিতে কোনও রিটেল ব্যবসায়ী খুব সহজেই তার অফিস, দোকান বা কাজের জায়গায় পাবলিক ওয়াই ফাই বসাতে পারবেন। এজন্য খরচ হবে অপেক্ষাকৃত কম। আর সবকিছুই হবে ভারত সরকারের সিকিউরিটি গাইডলাইন্স মেনে।

উইনগেজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও বিশাল চৌধুরি বললেন, "ওয়াই ফাই লগ-ইনে রাখা হয়েছে সোশ্যাল লগ-ইন প্রসেস। এর ফলে কাস্টমাররা রিটেল ব্যবসায়ীর সোশ্যাল পেজটিকে ফলো, লাইক বা প্রোমোট করতে পারবেন ফ্রি ওয়াই ফাই পাওয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে সেই কাস্টমার ডেটা সংগৃহীত হয়ে যাবে আমাদের অভিনব ওয়েব পোর্টালে। সেই সংগৃহীত ডেটাকে আবার সিআরএম (-----) কাজে লাগাতে পারবেন রিটেল ব্যবসায়ীরা"। আপাতত মুম্বইয়ের ২০টি জায়গায় এই পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে উইনগেজ। ক্লায়েন্টের সংখ্যা ১১। এর মধ্যে রয়েছে DiBellaCoffee, Moshes Cafe, Tea Trails, iThink Fitness.


টিম উইনগেজ
টিম উইনগেজ

উইনগেজের বিজনেস মডেল

২০১৩ সালের শেষের দিকে Ad-sponsored ফ্রি Wi-Fi মডেলকে সঙ্গী করে পথ চলা শুরু করেন উইনগেজের দুই প্রতিষ্ঠাতা। এই মডেল অনুযায়ী, ইউজাররা প্রথমে ভিডিও অ্যাড দেখবেন, এর পরিবর্তে তারা পাবেন ফ্রি ওয়াই ফাই অ্যাকসেস। দ্বিমুখী এই বিজনেস মডেলে লাভের বিষয়টা দাঁড়িয়ে রয়েছে বিজ্ঞাপন আসার ওপরে। সেই অ্যাড ঠিকমতো না মেলায় কয়েকমাসের মধ্যেই মডেলটি বাতিল করেন বিশাল ও অনুরাগ। তবে হাল ছাড়লেন না। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ৫ লক্ষ টাকা লগ্নি করে ফের শুরু করলেন ফ্রি ওয়াই ফাই সার্ভিস। এবার বেছে নিলেন SAAS ভিত্তিক মান্থলি বিজনেস মডেল। এই মডেলে মা লক্ষ্মীর কৃপায় লাভ আসতে শুরু করল। তার থেকেও বড় কথা ওয়াই ফাই-এর জন্য খরচ কমল, কাস্টমার এবং ডেটা কালেকশনও অনেকটাই বাড়ল।

আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ

রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে শপের মালিকরা এখনও ওয়াই ফাই পরিষেবাকে বাড়তি খরচ বলেই মনে করেন। কিন্তু এর ফলে যে তাদের ব্যবসার সুনাম ও পেট্রনেজ বাড়তে পারে সেটা তারা বুঝতে চান না। অন্তত এমনটাই মনে করেন বিশাল। রয়েছে আরও একটি বিষয়। সেটা ইউজারদের মানসিকতায়। কোনও কিছু সহজে পেলে তা নষ্ট করার একটা প্রবণতা সবসময়েই থাকে। এক্ষেত্রেও তাই দেখা যায়। এই পরিষেবাকে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার না করে অনেক ক্রেতাই আইনবিরুদ্ধ নানা দুষ্কর্ম করে থাকেন।

ভারতে ওয়াই ফাই বাজার

ভারতে ফ্রি ওয়াই ফাইয়ের মার্কেটে এখনও বড়-বড় কয়েকটি সংস্থার দাপট। এর মধ্যে রয়েছে CISCO, Airtel, Reliance, JIO. দীর্ঘদিন ধরে একপ্রকার একাধিপত্য চালিয়ে আসছে এইসব টেলিকম জায়েন্টরা। সেই বাজারে সম্প্রতি স্টার্টআপ হিসাবে পা রেখেছে Bhaifi, Whizz কিংবা Wingage-এর মতো সংস্থা।কম খরচে ভালো ওয়াই ফাই পরিষেবা। এগুলিই এইসব সংস্থার কাজের বৈশিষ্ট।

সেখানেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। উইনগেজ তাই আগামীদিনে ওয়াই ফাই ভিত্তিক আরও কিছু পরিষেবা আনতে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক পাবলিক ওয়াই-ফাই সেট আপ, ইন-স্টোর ওয়াই-ফাই লোকেশন ট্র্যাকিং, ব্যবসায়ী সংস্থাগুলির জন্য আউটডোর ওয়াই-ফাই, বিনোদন ও ই-লার্নিংয়ের জন্য অফলাইন ওয়াই-ফাই ইত্যাদি।