নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দিনেও ক্লাস নিলেন অধ্যাপক হ্যালডেন

0

এবছর পদার্থবিদ্যায় একত্রিতভাবে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। এই তিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর নাম ডেভিড দোলেস, ডানকান হ্যালডেন ও মাইকেল কোস্টারলিটজ। পদার্থের বিচিত্র অবস্থা নিয়ে এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণার ফলাফল কোয়ান্টাম গণনা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে নতুন দিশা জোগাবে। নোবেল পুরস্কারের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন বিজ্ঞানীর হাতে পদার্থবিদ্যায় বিশেষ অবদানের জন্যে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

নোবেল প্রাপক তিন বিজ্ঞানীর ভিতর একজন হলেন ডানকান। পেশায় তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। নোবেল পুরস্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে প্রিন্সটনে ভিড়ে ঠাসা সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন ৬৫ বছরের ডানকান। সেখানে তিনি তাঁর গল্পটি জানালেন। ডানকান বললেন, সকালে সুইডেন থেকে ফোন পেয়ে তাঁর ঘুম ভাঙে। ওই ফোনেই তিনি জানতে পারেন যে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তবে তাতে তাঁর সারাদিনের রুটিনে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। জীবনের এই সেরা দিনটি উদযাপন করলেন অন্যান্য দিনের মতো করেই। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির খবর জানার পরে ক্লাসরুমে গেলেন। ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেন। ক্লাসটি ছিল ইলেকট্রোম্যাগনেটিজিমের ওপর।

হ্যালডেন বলেছেন, নোবেল পুরস্কার পেয়েছি তাতে কী হয়েছে! বরং রুটিন মাফিক কর্তব্য পালন করে যাওয়াটাই জীবনের দায়বদ্ধতা। তবে ক্লাসরুমে ঢোকা মাত্র ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে সংবর্ধিত করেছেন। নোবেল প্রাপক এই বিজ্ঞানীর কথায়, ছাত্রছাত্রীরাই তাঁদের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। হয়তো ওঁদের ভিতর কেউ একজন দারুণ কিছু একটা আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কারও পেতে পারেন।

ডানকান বলেছেন, নতুন কিছু আবিষ্কার করতে গেলে লাগাতার ভাবে সাধনা করতে হয়। তাহলেই বিশেষ ধরনের কিছু খুঁজে পাওয়া সম্ভব। পদার্থ চরম অবস্থাগুলিতে কী ধরনের ব্যবহার করে থাকে তা নিয়ে ডানকান অন্য দুই সহকর্মী বিজ্ঞানীর সঙ্গে দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়েছেন। সেই সময়টা ছিল সত্তর ও আশির দশক। এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণালব্ধ ফল বিশ্বের বহু বিজ্ঞানীকে পথ দেখাবে। গবেষকরাও দিশা পাবেন। এই গবেষণা ইলেকট্রনিকস, সুপারকনডাক্টরস বা কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে আরও উন্নত করে তুলবে বলে মনে করছেন তিন বিজ্ঞানী।      

Related Stories