ফেসবুক কে হাতিয়ার করে চেন্নাইয়ের পাশে দাঁড়ালো রাম

0

সারা দেশ জুড়েই একটা কর্মযজ্ঞ চলছে শেষ কয়েকদিন ধরে - 'হেল্প ফর চেন্নাই - কেয়ার ফর চেন্নাই'। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা কৃষক, সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে চেন্নাইকে তার নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। ক্রমাগত বৃষ্টি আর তার ফলস্বরূপ বন্যা পরিস্থিতি শিরোনামে এনে দিয়েছে অনেক মানুষকে, অনেক রিয়েল হিরোকে, আর এমনি এক রিয়েল হিরো হল ব্যাঙ্গালোরের তরুণ রাম কাশ্যপ।

আমরা অনেকেই যখন ঘরে বসে টিভির পর্দায় বন্যা বিধ্বস্ত চেন্নাইয়ের দুর্দশা মোচন নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছি, তখন এই যুবক ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে। ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে আবেদন জানিয়েছে সারা দেশের কাছে। নিজে ব্যাঙ্গালোর থেকে চেন্নাই যাতায়াত করছে ত্রাণ সামগ্রী ভরা ট্রাক নিয়ে। আসলে ওর মতে ত্রাণ-তহবিল তৈরি করে, অর্থ সংগ্রহ করে সাহায্য করতে গেলে ব্যাপারটা খুব সময় সাপেক্ষ আর তাতে হয়তো আরও কিছু মানুষের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অনাহারে, অপুষ্টিতে শেষ হয়ে যেতে পারে আরও কিছু সবুজ প্রাণ। তাই আর দেরি না করে নিজেই জোগাড় করতে নেমে পড়েছে ত্রাণ সামগ্রী। ফার্স্টএইড কিট থেকে শুরু করে কাগজের কাপ কিংবা বাচ্চাদের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে সে পৌঁছে গেছে চেন্নাই। ক্রমাগত বৃষ্টিতে দিশাহারা মানুষগুলোর ন্যুনতম চাহিদা মেটাতে বদ্ধপরিকর সে।

আসলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আমরা সবাই হয়ত চাই কিন্তু উপায় অনেকসময় খুঁজে পাইনা। ২ ডিসেম্বর রাম তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করে তার ইচ্ছার কথা - সে চেন্নাই যেতে যায় ত্রাণ নিয়ে আর তাকে সাধ্যমত সাহায্য করার জন্য আবেদন করে সব ব্যাঙ্গালোরবাসীর কাছে। সারাও মিলেছে আশাতীত। প্রতিবেশীর জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল অনেকের কাছেই আর তাদের দিশা দেখাল এই যুবক আর তার বন্ধুরা। ছাতা, রেনকোট, বেবিফুড বা নিদেনপক্ষে কিছু আর্থিক সাহায্য দিয়েছে বহু মানুষ। সাফল্যের সাথেই রাম সম্পূর্ণ করেছে তার প্রথম ট্রিপ।

এরপরই ব্যাপারটা নিয়ে বেশ হইচই পরে যায় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে। সে আবার তার দ্বিতীয় ট্রিপের কথা জানায় ফেসবুকের মাধ্যমে। আর এবার সারাটা পাওয়া গেল অবিস্মরণীয়। শুধু তার নিজের শহর থেকেই না, তার কাছে পৌঁছাতে লাগল আশেপাশের বিভিন্ন জায়গার মানুষ। ২০ টা গাড়ি আর তিনটে ট্রাক ভর্তি ত্রাণ প্রস্তুত করতে পেরেছিল রাম। এছাড়াও রাস্তায় অপেক্ষা করছিল বহু মানুষ তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করার জন্য। টেকস্যাভি রাম তার এই পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণতা দেওয়ার জন্য যেমন ব্যাবহার করেছে ফেসবুক বা টুইটার তেমনি বিভিন্ন হিসেব রাখার জন্য ব্যাবহার করেছে গুগলডক। মানবতা আর টেকনোলজিকে একসুরে বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে চেন্নাইয়ের জন্য। ৫ ডিসেম্বর সে দ্বিতীয়বারের জন্য রওনা দিয়েছে ত্রাণসামগ্রী ভরা ট্রাক নিয়ে।

রাম আর তার বন্ধুদের, যারা নিজেদের কথা না ভেবে রামকে এই কাজে স্বার্থহীন ভাবে সাহায্য করেছে, তাদের সবাইকে আমরা ইওর স্টোরির পক্ষ থেকে জানাই অনেক অভিনন্দন। যুবসমাজের প্রতীক হিসাবে রাম কাশ্যপ যা করে দেখালেন তার জন্য আজ ভারতবাসী গর্বিত।


(অনুবাদ - নভজিত গাঙ্গুলী)