জাতীয় স্কুল গেমসে সোনা জিতল চুঁচুড়ার সবজিওলার ছেলে

0

দিন আনি দিন খাই। হিন্দমোটর বাজারে সবজি বেচেন রঞ্জিতবাবু। পাঁচ মেয়ে এক ছেলে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সংসার। সংসারের এই পাকচক্রেই যে পদ্ম ফুটবে স্বপ্নেও ভাবেননি দরিদ্র এই সবজি বিক্রেতা। ছেলে মহেন্দ্রর দিকে তাকালে গর্বে ছাতি চওড়া হয়। আধপেটা আধ খাওয়া শরীরটায় আর কোনও কষ্ট থাকে না। সোনার ছেলে যে বাপের মান রেখেছে। কেরলে সদ্যসমাপ্ত জাতীয় স্কুল গেমসে ৬০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে এনেছে মহেন্দ্র।

সংসারের বহর চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় চুঁচুড়ার আইমাডাঙায় চিটেবেড়ার বাসিন্দা রঞ্জিৎ সরকারকে। অভাবের সংসারে মেয়েদের কাউকে তেমন একটা পড়াশোনা করাতে পারেননি। টেনেটুনে একে একে পাত্রস্থ করেছেন সবাইকে। ছেলে মহেন্দ্রর ছোটবেলা থেকে খেলাধুলাতেই বেশি আগ্রহ। সেই দেখে বাবা চন্দননগর বয়েজ স্পোর্টিং ক্লাবে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দেন। তখন থেকে কোচ কাশীনাথ অধিকারীর নজরে পড়ে যায়। কাশীনাথবাবুর পরামর্শে শুধুমাত্র অনুশীলনের সুবিধার জন্যই বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নাড়ুয়া শিক্ষানিকেতনে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয় মহেন্দ্রকে। ‘অনুশীলনে কখনও ফাঁকি দেয় না ছেলে। প্রতি দিন বাড়ি থেকে ২০ মিনিট সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। কাশীনাথবাবু ছাড়াও স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষক নিমাই বিশ্বাস ছেলের দিকে নজর রাখেন’, বলেন গর্বিত বাবা।

কিছুদিন আগে কেরলের কালীকটে জাতীয় স্কুল গেমসের আসর বসেছিল। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলা থেকে ৫৬ জন পড়ুয়া যোগ দেয়। মহেন্দ্র নেমেছিল ৬০০ মিটার দৌড়ে। ১ ফেব্রুয়ারি ওই ইভেন্টের ফাইনালে ১৯ জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে প্রথম হয় সে। সময় নেয় ১ মিনিট ২৭.৮২ সেকেন্ড। ওই প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে সেই একমাত্র পদকজয়ী। এর আগে গত নভেম্বরে অনূর্ধ্ব ১৪ রাজ্য বিদ্যালয় ক্রীড়ায় পদক পেয়েছিল সে। ভূমিপুত্রের এই সাফল্য উচ্ছ্বসিত গঙ্গাপাড়ের প্রাচীন শহর চন্দননগর। স্কুলের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তাকে এলাকায় ঘোরানো হয়। সম্প্রতি চন্দননগরে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মহেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেখতে চান কাশীনাথবাবু। এখন তাঁর ভাবনা, এ বার থেকে অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে নামতে হবে তাঁর প্রিয় ছাত্রকে। এত দিন মহেন্দ্রের প্রিয় ইভেন্ট ছিল ৬০০ মিটার দৌড়। কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে ৬০০ মিটার নেই। তাই তিনি পাখির চোখ করতে চাইছেন ৪০০ এবং ৮০০ মিটার দৌড়কে। আর সিনেমার খিরদার মতোই তিনি আড়াল থেকে চিৎকার করে চলেছেন, ‘ফাইট মহেন্দ্র ফাইট’।