গাছ সাজানোর ব্যবসা করে সিদ্ধিলাভ বিশ্বজিতের

0

নদিয়ার রানাঘাটের বিশ্বজিৎ ঘোষ। আলাপ হয় বর্ধমানের মাটি উৎসবে। এই মানুষটির সাথে আলাপ হতেই জানলাম গাছে মানুষে বন্ধুত্বের একটা নতুন কিস্‌সা। প্রতিদিনই কিছু করতে হবে ভেবেও যারা দিশা খুঁজে পান না বিশেষ করে তাঁদের জন্যেই বিশ্বজিতের কাহিনিটি আজ আপনাদের শোনাব। গাছ এই মানুষটিকে দিয়েছে যশ, খ্যাতি। আর দিয়েছে বেঁচে থাকার মূল অক্সিজেন। সেটা হল আর্থিক সাচ্ছন্দ্য।

জানা গেল ২৫ একর জমির উপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি উৎসবের মেলার যে স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয় সেটাই করেছেন বিশ্বজিৎ ঘোষ। সাড়ে চারশ কর্মীকে নিয়ে তিন মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি গ্রামের মডেল তুলে ধরেছেন। তবে এটা নমুনা মাত্র। বিশ্বজিৎ এখন প্ল্যান্টেশন ডেকোরেশনের দুনিয়ায় অতি পরিচিত নাম। সামান্য চাষি পরিবারের ছেলে কিভাবে এলেন এই ব্যবসায় সেকথাই জানাব আপনাদের।

রবি শস্যের চাষ হতো পৈত্রিক সাড়ে চার বিঘা জমিতে। বাবা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ চেয়েছিলেন ছেলেও তার সাথে চাষের কাজে হাত লাগাক। কিন্তু বরাবরই নতুন কিছু করার ইচ্ছা ছিল বিশ্বজিৎ এর মনে। ইচ্ছা ছিল গাছ নিয়েই কিছু করবেন। এমন কাজ করবেন যা তাকে অর্থ, যশ সবই দেবে। ২০০০ সালে স্বপ্ন রোপণ শুরু করলেন। বাবার রবি শস্যের জমিতে পেয়ারা, লেবু, আম, জাম, কাঁঠাল প্রভৃতি ফলের চারা তৈরি করলেন। সঙ্গে কিছু জমিতে ফুল চাষ করলেন। সেই বছর ফল আর ফুলের চারা বিক্রি করে বেশ মোটা টাকা লাভ করলেন। তবে এতে মন ভরছিল না। কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে পুনেতে এইচ টি সি ট্রেনিং সেন্টারে হল্যান্ড ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এক ওয়ার্কশপে অংশ নেন। পেয়ে গেলেন স্বপ্ন বৃক্ষের সন্ধান। শিখলেন গাছ নিয়ে নতুন এক ব্যবসার আইডিয়া।

প্রথমে ঘোষ নার্সারি নামে একটি কোম্পানি খোলেন। মূলত গাছের মাধ্যমে সৌন্দার্যায়ন করার কাজ শুরু করেন। সরকারি দপ্তর থেকে বেসরকারি পার্ক, হোটেল, রেস্তোরা , বাড়ির বাগান সহ বিভিন্ন প্রোজেক্টের ডেকোরেশনের কন্ট্র্যাক্ট পেতে থাকেন। নিজের আইডিয়ায় অভিনব নকশা তৈরি করে এই ধরনের কাজগুলি রূপায়ন করতে থাকেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কলকাতা কর্পোরেশনের গ্রিন বেল্ট তৈরির দায়িত্ব পান ২০০৯ সালে। ৪২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ক্যানেল ব্যাঙ্কের পাশ দিয়ে ১৪ হাজার গাছ লাগিয়ে তিনি সবার নজর কাড়েন। এই প্ল্যান্টেশন ডেকোরেশনের প্রোজেক্টের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় গাছ তার জমিতেই তৈরি হয়। জমির পরিমাণ এখন বেড়ে ১২ বিঘা হয়েছে। বিশ্বজিৎ বাবু তার কাজের জন্য নিজের রাজ্য ছাড়িয়ে বাইরের রাজ্যেও ডাক পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি এলাকার প্রায় সমস্ত কৃষকরা তার মাধ্যমে জমিতে ফল, ফুল চারা তৈরি করে রোজগার করছেন। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং দিচ্ছেন তিনি। ফল, ফুল চাষে চাষিদের উৎসাহিত করছেন। গাছকে ভালবেসে স্বপ্নের উড়ান এ ভেসে চলেছেন বিশ্বজিৎ বাবু। 

এইভাবে একের পর এক বড় প্রোজেক্টের কাজ পেতে পেতে এখন বিশ্বজিৎ নিজেই প্রতিষ্ঠান। নিজে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেন। আর কর্মীদের কথা ভাবেন সবার আগে তাদের নিয়ে দিন রাত এক করে যেকোনও কাজে লেগে পড়তে সব সময় তৈরি। ফলে বিশ্বকে জয় করা তার কাছে আর কঠিন কিছু নয়।