ক্লাস নাইনের তেজস্বিনীর আবিষ্কার দূষণহীন বায়ুযান

2

সাইকেল চালাবেন। কিন্তু প্যাডেল করতে হবে না। ব্যাটারি কিংবা পেট্রোল, ডিজেল নয় চলে শুধু হাওয়ায় হাওয়ায়। আপনার দুচাকায় দুনিয়া দেখার সাধটা এবার আরও সহজ! কারণ এই সাইকেলটা অনায়াসে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে তরতরিয়ে চলবে তিরিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার। তাও আবার স্রেফ হাওয়ায় ভর করে। অবাক হচ্ছেন? আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছে। কারণ বাইকের দোকানে গিয়ে এমন যানের হদিশ এখনই পাবেন না আপনি। যেতে হবে তেজস্বিনী প্রিয়দর্শিনীর কাছে। বছর চোদ্দর এক কন্যা। ওডিশার নবম শ্রেণির ছাত্রীর এই আবিষ্কার কিন্তু পেছনে ফেলে দিয়েছে অনেককেই। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটা আগুনের মত ছড়িয়ে গিয়েছে। আমরাও তাই ছুটেছিলাম প্রিয়দর্শিনীর দেখা পেতে। স্বপ্রতিভ উজ্জ্বল চোখ চকচক করছে আবিষ্কারের আনন্দে। হাওয়া বাইক।

বাইকের মত নয়, দেখতে অনেকটা সাইকেলের মত। আবার সাইকেলও নয় পুরোপুরি। পিছনের ক্যারিয়ারে একটা ঢাউস সিলিন্ডার আছে। না এলপিজি সিলিন্ডার নয়। হাওয়া ভরা সিলিন্ডার। ওডিশার সুন্দরগড়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী তেজস্বিনী প্রিয়দর্শিনী বলছিলেন এটা ওর মাথা থেকে বেরিয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই হাওয়া বাইক? যত্নে বুঝিয়ে দিলেন সদাহাস্য প্রিয়দর্শিনী। ‘শুধু প্রেট্রোল বা ডিজেলের বদলে হাওয়া, বাকি সব এক। দূষণের কারণে নানা রোগ বাসা বাঁধে মানুষের শরীরে। দূষণ থেকে পরিবেশকে বাঁচাতে হাওয়া বাইকের আইডিয়া আসে আমার মাথায়’, বলে ওড়িশার এই কিশোরী।

বলছিলেন প্রথমে এয়ার গান দেখে আইডিয়াটা আসে। তারপর বাবার সঙ্গে আলোচনা করে আরও উৎসাহ পায় তেজস্বিনী। শুরু হয় পরীক্ষা নিরীক্ষা। যখন যা যন্ত্রপাতি লেগেছে বাবার কাছে চাইলেই পেয়ে গিয়েছেন সেসব। প্যাডালের পরিবর্তে যন্ত্রটি চালাচ্ছে বাতাস। এবং এভাবেই তরতরিয়ে চলছে সাইকেল। এভাবে বাইকও চালানো যেতে পারে। এমনকি চারচাকার গাড়িও বিশ্বাস তেজস্বিনীর।

আগামিদিনে পরিবহণ ক্ষেত্রে এই হাওয়া বাইক বড় অবদান বলেই মনে করছেন অনেকে। এই পদ্ধতিতে নিজের বাহন নিয়ে দূর থেকে দূরে পাড়ি দেওয়া অনেক কম খরচ সাপেক্ষ হবে, তা বোঝাই যাচ্ছে। মাত্র ১০টাকা দিয়ে এক ট্যাঙ্ক বাতাস ভরলে, দ্রুতগতিতে পাড়ি দেওয়া যাবে তিরিশ চল্লিশ কিলোমিটার। মেয়ের এহেন উদ্ভাবনীতে স্বভাবতই গর্বিত বাবা মা আত্মীয়রা। বাবা নটবর গুছাইত জানালেন, ‘মেয়ের প্রথম থেকেই বিজ্ঞানে ঝোঁক। প্রতি বছরই এমন নতুন নতুন কিছু তৈরি করে তেজস্বিনী। আর তা সকলের কাছে তুলে ধরতেই ওডিশার সুন্দরগড় থেকে নানা জায়গায় প্রদর্শনীতে যাওয়া হয়।’

এই পরিবেশবান্ধব সাইকেলের পেটেন্ট নিয়েও ইতিমধ্যে কথা হয়েছে। তবে সবই প্রাথমিক পর্যায়ে। হাওয়া বাইকের কাঠামোও সবে তৈরি হয়েছে। বাকি এখনও সম্পূর্ণ অবয়ব। তবে পেট্রোল, ডিজেলের উর্ধ্বমুখী বাজারে তেজস্বিনীর এই আবিষ্কার যে উপযুক্ত বিকল্প, তা এককথায় মানছেন সবাই। এখন শুধু তা ব্যবহারের জন্যে তৈরি এবং বাজারের অপেক্ষায় রয়ে । 

Related Stories