মোবাইল গ্রাহকদের সতর্ক করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

0

মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিরিখে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে গোটা দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭১ শতাংশের হাতে মোবাইল ফোন থাকবে। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা স্ট্যাটিস্টার হিসেব বলছে ২০১৯ সালে ভারতে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাটা হবে ৭৩০ মিলিয়ন। মানে ৭৩ কোটি। শুধু তাই নয় ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া বা আইএএমএআই-এর করা একটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ভারতে বাড়ছে ৫৫ শতাংশ হারে। গতবছর ডিসেম্বরে যে সংখ্যাটা ছিল ৩০৬ মিলিয়ন মানে তিরিশ কোটি ষাট লক্ষ সেটা এবছর জুনেই হয়ে যাবে ৩৭ কোটি দশ লক্ষ। Webwise এর করা অপর একটি সমীক্ষা বলছে শুধু বড়রাই নয় হু হু করে বাড়ছে ছোটোদের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার। শহরের শিশুরা দিনে কম করে ৪ ঘন্টা মোবাইলের ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ২০১৭ সালের ভিতর ভারতে মোবাইল ব্যবহারকারীর শিশুর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩৪ মিলিয়ন বা ১৩ কোটি ৪০ লক্ষ। এখন মোবাইল ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ শিশু মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এরই মধ্যে বাজার এগোচ্ছে তার নিজস্ব ছন্দে। দুর্দান্ত গতিতে। অ্যপ্লিকেশনের পর অ্যাপ্লিকেশন আসছে প্লেস্টোরে। আরও আরও আরামের চলভাস নিয়ে ডগমগ ক্রেতাদের দুনিয়া।

দুনিয়ায় প্রতি পাঁচজনের ভিতর একজন স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। যত All things mobile হয়ে উঠছে ততই কমছে ল্যান্ডলাইন ব্যবাহারকারীর সংখ্যা। এভাবে চলতে থাকলে ল্যান্ডলাইন হয়তো একদিন অতীত যুগের স্মৃতি হয়ে মিউজিয়ামে শোভা পাবে। সাধারণত বয়স্ক মানুষজনই ল্যান্ডলাইনে কথা বলে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিজিট্যাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখলেও বয়স্ক মানুষজন ওই স্বপ্নের ভাগীদার হতে কিছুটা হোঁচট খাচ্ছেন এখনও। কেননা, তাঁদের তরুণ বয়সে পৃথিবী জুড়ে প্রযুক্তিতে বিপ্লবের এহেন ফলাফল দেখা যায়নি।

হাতের মুঠোয় একটি মোবাইল মানে এখন অনেক কিছু। যা বৃহত্তর সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তবায়িত করতে পারে। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ১৪ থেকে ৪৪ বছরের মানুষ অত্যধিক মোবাইল নির্ভর। ভারতে প্রতি ১০০ জন মধ্যবিত্তের মধ্যে ৭৯ জনেরই নিজস্ব স্মার্ট মোবাইল সেট আছে। এদিকে মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতা এতই বেড়েছে যে, প্রতি ১০০০ জন মোবাইল মালিকের ভিতর ৬৬ জনের মনেই লাগাতার একটা ভয় ঢুকে গিয়েছে, এই বুঝি মোবাইলটা হারালাম।

মানুষের কর্মব্যস্ততা বাড়ছে। মোবাইলের মাধ্যমে পেশাদার যোগাযোগগুলি রাখা ছাড়াও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখতেও মোবাইল মাস্ট। তাই, এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রটি হারিয়ে গেলে মানুষ তাঁর নিজস্ব যোগাযোগগুলি সাময়িকভাবে খুইয়ে বসবেন। সমীক্ষা অনুসারে, একজন মোবাইল ব্যবহারকারী প্রতি ৬ মিনিট অন্তর তাঁর মোবাইলটি খতিয়ে দেখে নেন, কেউ কোনও মেসেজ করল কিনা। মান্থলি ইন্ডিয়ান টেলিকম সাবক্রিপশন রিপোর্ট অনুযায়ী, একজন মো‌বাইল গ্রাহকের কাছে সারাদিনে অন্ততপক্ষে ২৩টি মেসেজ আদানপ্রদান হয়ে থাকে। তাছাড়া, একজন মোবাইল গ্রাহক গড়ে দৈনিক অন্তত ২২টি কল করেন বা পেয়ে থাকেন। 

পৃথিবীর প্রতি পাঁচজন বাসিন্দার ভিতর একজন স্মার্ট ফোনের মালিক

এসত্ত্বেও হাতের মুঠোয় এঁটে যাওয়া ছোট্ট ওই যন্ত্রটি বহুক্ষেত্রে মানুষের স্বাস্থ্যহানির মতো বিপদের অন্যতম কারণ। দুনিয়াব্যাপী গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মোবাইল নামের যন্ত্রটির ভিতর নানা ধরনের বিপদআপদ লুকিয়ে আছে। ডাক্তারবাবুরা সতর্ক করছেন, মোবাইল গ্রাহক মোবাইলের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের হাত থেকে বাঁচতে ব্যবহারের সময় মোবাইলটির থেকে যেন ২০ সেন্টিমিটার ফারাক বজায় রাখেন। এছাড়া, যাঁরা নিয়মিতভাবে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অন্য যে উপসর্গগুলি দেখা যাচ্ছে, তার ভিতর রয়েছে, আঙুলে ব্যথা, কব্জির পেশিতে টান অথবা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের করা একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৩৯০টি ব্যবহার্য মোবাইলের মধ্যে ৯২ শতাংশ ক্ষেত্রে ওই মোবাইলটিতে ব্যাকটেরিয়া লেগে রয়েছে। ফলত মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গোটেনবার্গের করা একটি সমীক্ষার ফলে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল ব্যবহারীদের একাংশ মানসিক চাপ বা ভালো ঘুম না হওয়ার জেরে স্বাস্থ্যহানির শিকার। এছাড়া, মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই আচরণগত বা আবেগঘটিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর রিপোর্ট অনুসারে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের জেরে ক্যান্সার হতে পারে। তাছাড়া, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলাকালীন বহুক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। হুর সমীক্ষা অনুযায়ী, শিশু ও কিশোর মোবাইল গ্রাহকদের মধ্যে শতকরা ৫ জন মেরুদন্ডের ব্যথায় ভুগছে। 

তাই, মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্যে যন্ত্রটির ব্যবহারের নিয়মাবলী ও সতর্কতা নিয়ে পড়ে রয়েছে বিস্তৃত কাজের ক্ষেত্র। এই পথ এখনও গ্রিনফিল্ড।

আরও পড়ুন
১১ মার্চ দিল্লিতে ইওর স্টোরির ভারতীয় 'ভাষা' উৎসব