ক্রেতাকে সোশ্যাল শপিংয়ের অভিজ্ঞতা দেয়

0

বছর কয়েক আগে পর্যন্তও কেনাকাটা মানেই ছিল দল বেঁধে পরিবার বা বন্ধুরা মিলে বাজারে যাওয়া, একের পর এক দোকান ঘুরে সকলের মতামত নিয়ে, হাজার বার উল্টে পাল্টে তবে পছন্দের জিনিসটি বেছে নেওয়া। বিশেষত মেয়েদের জামা কাপড় বা গয়নার বাজার হলে তো কথাই নেই, শপিংকে একটা উত্সবে পরিণত করতে পারেন তাঁরা, এমন বদনাম বহুদিনের। তবে গত কয়েক বছরে ছবিটা অনেকটাই বদলেছে, ঘরে বসে অনলাইনেই কেনাকাটা সেরে ফেলছেন অধিকাংশ। শপিং হয়ে উঠেছে অনেক বেশি ব্যক্তিগত, পাশের বন্ধুটির পরামর্শ ছাড়াই পছন্দ করে ফেলতে হচ্ছে জামা, শাড়ি বা গয়না, মনে খুঁতখুঁতানি থাকলেও সাহায্য করার কেউ নেই। এমন কী আগে দোকানের মালিক কর্মচারীদের থেকে যে পরামর্শ পাওয়া যেত তাও অমিল আজকের পরিস্থিতিতে, এখানে ক্রেতা শুধু মাত্র একটি আইডি, বিক্রেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির কোনও সুযোগই নেই এখানে।

আধুনিক শপিংয়ের এই চিত্রটায় খানিকটা বদল ঘটাতে চেয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর মঞ্জরি ঘোষ ও দীপ্তি প্রিয়া। দীপ্তি মনস্তত্ত্ব নিয়ে স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরি করছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিউট অফ পাবলিক কোঅপারেশন অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্টে, মঞ্জরি হিউম্যান রিসোর্স নিয়ে এমবিএ করে অ্যাকসেনচারে এইচআর অ্যানালিস্ট হিসেবে কিছুদিন কাজ করার পর চাকরি ছেড়ে দেন সন্তান প্রতিপালনের জন্য।


দীপ্তি প্রিয়া
দীপ্তি প্রিয়া

দীপ্তি ও মঞ্জরি দুজনেরই ভালবাসার জায়গা ছিল শিল্প ও শপিং। সেখান থেকেই ভাবনা শুরু Xarato এর, যেখানে ছোটো ব্যবসায়ী ও একক ব্যবসায়ীরা নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। নিজেদের অভিজ্ঞতা ও শপিংয়ের প্রতি ভালবাসা থেকে তাঁরা জানতেন অনলাইনে বড় কোম্পানিগুলির থেকে কেনাকাটায় কোথাও একটা অতৃপ্তি থেকে যায়। এখানে ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতার কোনো সম্পর্কই স্থাপন হয় না, তাঁরা এটাও উপলব্ধি করেন যে পৃথিবীর কোনো সফট্ওয়্যারই একজন বন্ধুর থেকে ভাল বলতে পারে না যে কোন শাড়িটা বা গয়নাটা কাউকে মানাবে। Xarato তে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির সুযোগকে প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন মঞ্জরিরা। Xarato ক্রেতাকে দিতে চায় সোশ্যাল শপিংয়ের অভিজ্ঞতা।

নানারকম দামের জামা-কাপড়, শাড়ি, গয়না, ঘর সজ্জা, ব্যাগ ও হস্তশিল্পের সম্ভার রয়েছে এই অনলাইন শপে। বিভিন্ন ছোট বিক্রেতাদের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এই ই-কমার্স সাইট। ভারতের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরের মহিলারাই মূলত লক্ষ্য, তবে ইউএস, ইউকে, ইউএই এবং মালয়েশিয়াতেও চাহিদা রয়েছে।

শুরু করেছিলেন ২০১৩ এর মার্চে, সম্পূর্ণ নিজেদের টাকায়। বর্তমানে নিজেদের সাইটটি ঢেলে সাজাচ্ছেন তাঁরা, তাই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বিক্রি, তবে খুব তাড়াতাড়িই আরও উন্নত পরিষেবা নিয়ে শুরু হবে বিক্রি।

অনুবাদ- সানন্দা দাশগুপ্ত