শান্তির খোঁজ দিচ্ছে Muse এর প্রযুক্তি

1

ব্যস্ত দিন। প্রতিনিয়ত গাড়ির হর্ন, যন্ত্রের আওয়াজে অতীষ্ঠ হয়ে উঠছে মানুষ। কোলাহলের সমুদ্রে আপনি সাঁতার কাটছেন। কখনও খেয়াল করে দেখবেন নৈঃশব্দই আপনি খুঁজে বেড়ান। ছোটেন গ্রামে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা অনেক। ক্রমাগত বেড়ে চলেছে শহর। গ্রাম আর পুরনো নস্টালজিয়ার গ্রাম নেই। সেখানেও থাবা বসিয়েছে ব্যস্ততা। আর হই হল্লা। ধীর স্থির সবুজ নীরবতা ঢাকা গ্রাম এখন পাবেন না। শব্দের জঙ্গলে আপনি দিশেহারা। সুবিধার পাশাপাশি শহর বাসের ভোগান্তি আপনাকে যদি বেশি ভোগায় তার একটা সমাধান সূত্র খুঁজে বেড়ান আপনি। প্রকৃতির কাছে যাওয়ার জন্যে প্রাণ হাকুপাকু করে। সেকারণেই আজকাল যোগা, মেডিটেশন স্কুলের এত রমরমা। ব্যস্ততার মাঝখানে যোগা করা কি সত্যিই বাস্তব সমাধান! 

যদিও দূষণ, স্ট্রেস থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে কিছুটা ভরসা নিশ্চয়ই যোগাচ্ছে যোগা। প্রযুক্তি আবার তারও বিকল্প খুঁজে বের করেছে। Muse’s Brain Sensing Headband—যাকে বলা যেতে পারে স্মার্ট যোগা।
মিউজের এই হেডব্যান্ড এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারে কোনও জটিলতা না থাকে। যন্ত্রটি সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তাদেরও যাতে ব্যবহারে অসুবিধে না হয় তার জন্য ইউজার ফ্রেন্ডলি করা হয়েছে।

২টি কপালে এবং ২ টি কানের পেছনে, এই ৪ টি চ্যানেলের জন্য ৭টি সেন্সর রয়েছে। Anroid, iOS, Mac OS,Windows7 & 8 এবং Ubuntu Linux LTS এর সঙ্গে ব্লুটুথ কমিউনিকেশন সম্ভব। কমপ্রিহেনসিভ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট থাকে অপারেটিং সিস্টেমকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। হেডব্যান্ডের মাঝে সামনের দিকে সেন্সরের মাধ্যমে DRL-REF ফিডব্যাক কনফিগার করে বাইরের যত আওয়াজ চেপে দেওয়া হয়। তিন মুখী এক্সেলেরোমিটারের মাধ্যমে নানা গেমস, হেড মুভমেন্ট মোশান পাওয়া যায়।

হেডব্যান্ড অ্যাক্টিভ করতে হলে হেডফোন এবং ইয়ারবাড পরে নিয়ে অ্যাপ চালু করে দিলেই হল। আশেপাশের জগৎ থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়ার অনুভূতি হবে। শুরুর জন্য রেনফরেস্ট, বিচ, ডেসার্টের মতো হালকা মিউজিক। মোটিভেট করতে এবং ইউজারকে চনমনে করে দেবে সেশানের শেষে রেসাল্টস অ্যান্ড গ্রাফস, রিওয়ার্ডস এবং মাইলস্টোনস এবং কিছু এক্সারসাইস যেগুলি মেডিটেশন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে রাখা হয়েছে। তবে হেডব্যান্ডের সবচেয়ে ভালো ফিচার হল রিয়েলটাইম অডিও ফিডব্যাক ক্যাপিবিলিটি। এটা একধরনের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস এবং ইন্টারফেস সফটওয়্যার। আরও ডিটেল অ্যানালিসিসের জন্য হায়ার লেভেল প্রসেসিংও রয়েছে। আবার বেসিক অনালিসিসের জন্য লোয়ার লেভেল প্রসেসিং আছে। তবে সবচেয়ে সুবিধার হল হোস্ট সিস্টেম বেশিরভাগ রিয়েলটাইম অ্যানালিসিস হ্যান্ডেল করে। যার মানে হল ভালো ব্রেনওয়েভ অ্যানালিসিসের জন্য প্রসেসিং পাওয়ার বাড়ানো যাবে।

নগরায়নের শেষ নেই। দিনে দিনে আরও বাড়বে। চারদিকে যখন শব্দদানব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন এই শব্দ দূষণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে Muse’s Brain Sensing Headband সহায় হতে পারে।