নজির গড়ল কেরল, হাইকোর্টে ৪ মহিলা বিচারপতি  

1

আইনজীবীর পেশায় এদেশের মেয়েরা পুরুষের তুলনায় এখনও বেশ পিছিয়ে। বর্তমানে দেশের শীর্ষ আদালতে‌ মোটে একজন মহিলা বিচারপতি রয়েছেন। ১৯৫০ সাল থেকে এপর্যন্ত দেশের শীৰ্ষ আদালতে মোট ২২৯ জন বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে। তার ভিতর মহিলা বিচারপতির সংখ্যা মাত্র ছয়। তাছাড়া, সারা দেশে ২৪টি হাইকোর্ট রয়েছে। এর ভিতর নটি হাইকোর্টে একজনও মহিলা বিচারপতি নেই।

রাজ্যের বিচার ব্যবস্থায় কেরল একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিয়েছে। কেননা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থায় মহিলা বিচারপতি নিয়োগ করে পথ দেখিয়েছে কেরল। দেশের বিচার ব্যবস্থায় মহিলা বিচারপতিদের নিয়োগ করাটা যে এই সময়ের প্রেক্ষিতে সরকারের অত্যন্ত জরুরি এক কর্তব্য, সেই ব্যাপারে কেরল সরকারের এই উদ্যোগ ঐতিহাসিক।

কেরল হাইকোর্টে এখন চারজন মহিলা বিচারপতি কাজ করছেন। তাঁরা কাজ করছেন দক্ষতার সঙ্গে। সারা দেশের আদালতগুলিতে মহিলা বিচারপতির সংখ্যা নগণ্য হলেও পিভি আশা, অনু শিবারামন, ম্যারি জোসেফ এবং ভি শ্রীরে নামে চারজন মহিলা বিচারপতি ইতিমধ্যে কেরল হাইকোর্টে কাজ করছেন। আর তাঁদের কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ওই মহিলা বিচারপতিরা প্রমাণ করেছেন, মেয়েরা সাফল্যের সঙ্গেই এ কাজ চালাতে পারে। ফলত ঐতিহাসিক এক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। পিভি আশা –সহ কেরল হাইকোর্টের চার মহিলা বিচারপতি এখন সর্বতোভাবেই এ দেশের মেয়েদের কাছে বিশেষ প্রেরণাদাত্রী। প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষ আদালতে প্রথম যে মহিলাকে বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন কেরলের নাগরিক।

কেরল হাইকোর্টের অন্যতম মহিলা বিচারপতি ভি শ্রীলে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের উচিত দেশের হাইকোর্টগুলিতে যথেষ্ট সংখ্যক ‌‌মহিলা বিচারপতি নিয়োগ করা। বর্তমানে দেশের হাইকোর্টগুলিতে মহিলা বিচারপতির সংখ্যা পুরুষ বিচারপতির তুলনায় ধর্তব্যে আসে না।

এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়াটা এখন খুবই জরুরি। কেননা সারা দেশে কর্তব্যরত মোট বিচারপতির তুলনায় মহিলা বিচারপতির সংখ্যা দশ শতাংশেরও কম।