আনগুনায় ট্রেন্ড সেট করেছেন কৃষক জগদীশ

0

ধান বা আলু নয় বর্ধমানের আনগুনার মাটিতে বিকল্প চাষের সন্ধান দিলেন জগদীশ হাজরা। চারিদিকে ধান জমির মাঝে মুসুর কলাই চাষ করে দেখালেন। বিনা ঝুঁকিতে এই চাষে নিশ্চিত লাভের মুখ দেখা যায়। মুসুর কলাই চাষ করে একটা মরশুমেই লক্ষাধিক টাকা রোজগার করছেন এই প্রান্তিক চাষি । 

শস্য গোলা বর্ধমানের মাটিতে ধান আর আলু ফলবে এটা ভাবাই স্বাভাবিক। ফি-বছর কৃষকরা জমিতে ধান আলু ফলাচ্ছেন। ফসল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন এমন নিশ্চয়তা না থাকলেও চিরাচরিত জীবিকা থেকে বের হতে পারেননি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ , ধ্বসার প্রকোপ আরও কত না সমস্যা। তবে সমস্যা মানুষকে ভাবতে শেখায়। যেমন শিখিয়েছিল জগদীশ হাজরাকে। বর্ধমানের রায়নার আনগুনার বাসিন্দা। ধান বা আলু নয় এই মাটিতেই বিকল্প চাষের সন্ধান দিলেন তিনি। চারিদিকে ধান জমির মাঝে মুসুর কলাই চাষ করে দেখালেন। বিনা ঝুঁকিতে এই চাষে নিশ্চিত লাভের মুখ দেখা যায়। শুরুতে আশপাশের কৃষকরা জগদীশকে কলাই চাষ করতে দেখে বিদ্রুপ করেছিল। তারাই এখন ধান ছেড়ে মুসুর কলাই চাষ শুরু করেছেন। আনগুনা এখন মুসুর কলাইয়ের ব্র্যান্ড।

সময়টা ২০০৫ সাল। সেই সময় অনাবৃষ্টিতে ফসল এর ব্যপক ক্ষতি হয়। ধান জমির মাটি শুকিয়ে কাঠ। জমির ফসল জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছিল। তখনই আইডিয়াটা আসে জগদীশের মাথায়। এমন কোনও চাষ করতে হবে যেখানে জল লাগবে কম, চাষের খরচও কম অথচ নিশ্চিত লাভ হবে। প্রথম বছর পরীক্ষামূলক ভাবে বিঘা খানেক জমিতে মুসুর কলাই চাষ করলেন। ফল পেলেন হাতেনাতে। ক্ষতির মরসুমে লাভের মুখ দেখলেন। পরের বছর আর দু এক বিঘা নয় পৈত্রিক কয়েক বিঘা জমিতে মুসুর কলাই ফলালেন। তখন রায়না অঞ্চলে যে দিকে দুচোখ যায় সেদিকে শুধু ধান আর ধান। তার মাঝে এই কয়েক বিঘা মুসুর কলাইয়ের জমি পথ দেখিয়েছিল অন্যদের। এখন নয় নয় করে এলাকায় প্রায় ৭০০ বিঘা জমিতে মুসুর কলাই চাষ হয়।

অক্টোবর মাসে মুসুর কলাই চাষ শুরু হয়। ফসল তোলা হয় এপ্রিল মাসে। বিঘা প্রতি খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা। সেই ফসল বিক্রি হয় প্রায় ১০ হাজার টাকায়। লোকসানের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যেখানে ধান চাষ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ৭ হাজার টাকা সেই ফসল বিক্রি হয় ৯ হাজার থেকে ১০,হাজার টাকায়। যদিও ফসলের দাম প্রতি বছর ঠিকঠাক পাওয়া যায় না। আবার আলু চাষিরাও প্রায় বছরই ক্ষতির মুখে পড়েন। বিঘা প্রতি তারা প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে ঠিকঠাক দাম পেলে বিঘা প্রতি ৩০ হাজারেও বিক্রি হয়। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে মুসুর কলাই চাষ কতটা লাভজনক। আর এই আইডিয়া বাল্বটাই জগদীশের মথায় জ্বলেছিল।

মুসুর কলাই চাষ করে একটা মরশুমেই লক্ষাধিক টাকা রোজগার করছেন এই প্রান্তিক চাষি। তার অনুপ্রেরণাতেই আনগুনার বিঘের পর বিঘে জমিতে মুসুর কলাই চাষ করছেন প্রায় অধিকাংশ কৃষক। তিনিই এখন ওদের রোল মডেল। এখানকার মুসুর কলাই সরকারি উদ্যোগে সিড কর্পোরেশন কিনেও নিচ্ছে। তাছাড়া মার্কেটে আনগুনার মুসুর কলাই এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাংলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে এখানকার মুসুর কলাই। জগদীশ হাজরার হাতের ছোঁয়ায় অখ্যাত আনগুনা বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।