ভারতীয় শাড়ি সম্ভার -সাত সাগর পার, মাধ্যম ‘C Bazaar’

অনলাইনে ভারতীয় শাড়িকে বিদেশে সহজলভ্য করে তুলেছে ‘C Bazaar’।এদেশে এবং বিদেশ মিলিয়ে বর্তমানে তাঁদের ক্রেতার সংখ্যা এখন লক্ষাধিক। সামান্য তাঁতি থেকে নামি ডিজাইনার, প্রত্যেকের সমান মর্যাদা ‘C Bazaar’-এর কাছে।

0

ভারতীয় সংস্কৃতির নারীদের পরিধান শাড়ি।পরম্পরা গত বা ‘এথনিক’ শাড়ির সম্ভারে চেন্নাইয়ের ‘C Bazaar’ শাড়ির বাজারে এক অভিনব সংযোজন। তবে হঠাৎ করে তারা উদীয়মান হয়েছে, এটা ভাবাটাও ভুল। কারণ এই ‘C Bazaar’-এর পথ চলা শুরু সতেরো বছর আগে চেন্নাইয়ে। শুরুটা হয়েছিল একটু অন্য রকমভাবে।



১৯৯৮ সালে ‘C Bazaar’ তখন পরিচিত chennaibazar.com নামে। এরা অনলাইনে ব্যবসা করত। তবে শাড়ির নয়, সব্জির। কিন্তু ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে ভারতে মোবাইল ফোন বা ই পরিষেবার ভাবনা ততটা স্বচ্ছ ছিল না। ফলে খুব একটা লাভের মুখ দেখেনি ‘C Bazaar’ সেই সময়। ২০০০ সালে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নতুনভাবে ‘সিবাজার’কে সাজিয়ে ফেলেন রাজেশ নাহার। যিনি বর্তমানে ‘C Bazaar’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। জাতি পরম্পরার ‘এথনিক’ শাড়ির সম্ভারে সজ্জিত হয়ে নতুন ‘ইকমার্স’ কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে শাড়ির দুনিয়ায় ।

২০০৪ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন তখন অনেক চেন্নাইবাসী। তাঁদের মধ্যে স্বজাতীয় শাড়ির চাহিদা থাকবে, তা সহজবোধ্য, জানাই কথা।তাই ‘chennaibazar.com’ তখন পরিবর্তিত হয় ‘C Bazaar’-এ। রাজেশ নাহারের এই উদ্যোগের সঙ্গে তখন যোগ দিয়েছেন রিতেশ কাটারিয়া। ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে তৈরি এই ব্যবসায় বর্তমানে ডিজাইন লক্ষ্য করা যায় ২৫ হাজারেরও বেশি । প্রথমে ‘C Bazaar’-এর দলে ছিলেন মাত্র ১০জন ডিজাইনার। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০। রাজেশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ‘C Bazaar’-এর ক্রেতাসংখ্যা একলক্ষ ছাড়িয়েছে। তাঁদের বাজার ছড়িয়ে আছে ১৮৮টি দেশে। বিখ্যাত ডিজাইনার থেকে শুরু করে গ্রামের সামান্য তাঁতি সকলের কাছ থেকেই বিভিন্ন ডিজাইন বেছে নেয় ‘C Bazaar’। রোজই ৩০০০ করে নতুন ডিজাইন যুক্ত করা হচ্ছে তাদের ই সাইটে।


‘C Bazaar’ ২০০৭ সালে homeland.com স্বত্ব কিনে নেয়। homeland.com একসময় বিয়ের পোশাক বিক্রেতা হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। এদের স্বত্ব কেনার পর, নিজেদের ডিজাইন মিলিয়ে বিয়ের পোশাকেও ‘C Bazaar’ এনেছে এক অভিনবত্ব । বিদেশে ভারতের ফেব্রিক শাড়ির জনপ্রিয়তা রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। ভারতের বস্ত্র সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে দুনিয়ার কাছে প্রস্তুত করাই ‘C Bazaar’-এর পরবর্তী লক্ষ্য। সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি এক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার তাদের। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র প্রচারের ব্যাপকতায় ইতিমধ্যেই চোখ ধাঁধানো লাভের সম্মুখীন হয়েছে কোম্পানিটি।

ট্র্যাডিশিনাল নারী পোশাক বলিউড সিনেমার রমরমা এখন সর্বত্র। রাজেশ জানিয়েছেন, বিশেষ করে ‘লেহেঙ্গা’, ‘আনারকলি’-র মতো পোশাক বিদেশে বেশ জনপ্রিয়। দিওয়ালি এবং ঈদেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি তাদের। রাজেশের বক্তব্য, বিদেশে ২ কোটি ৫০ লক্ষ ভারতীয় বাস করেন। তাঁদের বছরে আয় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। তাই বিদেশে বাজার ধরতে পারলে কোম্পানি লাভের মুখও দেখবে খুব তাড়াতাড়ি। কানাডা, ব্রিটেন এবং মার্কিন মুলুকে জনপ্রিয় হয়ে বর্তমানে মরিশাস, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় নিজেদের ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে ‘C Bazaar’।