ব্যাঙ্ক যাঁদের না বলে, শুভম তাঁদের হ্যাঁ বলে

শহরের বুকে একটা ঘর হোক। এটাই ছিল তাঁদের সাধ। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্যে যে কুলাতো না। অনথিভুক্ত কর্মী হওয়ায় ওঁদের জন্য বন্ধ ব্যাঙ্কের দরজা। তাই বাস্তুহারা হয়েই দিন কাটত ওঁদের। তবে আর নয়, অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের গৃহঋণের ব্যবস্থা করেছে ‘শুভম’। তাদের আর্থিক সাহায্যের ‌ফলে মাথায় ছাদ জুটেছে গৃহহারাদের। ‘শুভম’ আক্ষরিক অর্থেই তাঁদের বাসস্থানকে শুভসর্বস্ব করে তুলেছেন। তারা এখন বলছেন, ‘‘ব্যাঙ্ক যাদের না বলে, শুভম তাদের হ্যাঁ বলে।’’

0
অজয় ওক ও সঞ্জয় চতুর্বেদী
অজয় ওক ও সঞ্জয় চতুর্বেদী

পরিসংখ্যান বলছে, দেশের পাঁচ শতাংশেরও কম মানুষ আয়কর জমা দেন। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী। বাদবাকিরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার কাজে যুক্ত। এই পাঁচ শতাংশের বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের অধিকাংশই অনথিভুক্ত কর্মী ও ব্যবসাদার। এই অনথিভুক্ত কর্মী বলতে ঠিক কী বোঝায়? এক্ষেত্রে বলা যায়, কোনও সংস্থায় কাজ করলেও যাঁদের অনথিভুক্ত কর্মী হিসাবে কোনও প্রামাণ্য নথি থাকে না। সংস্থার হাজিরা খাতায় এঁদের সই করতে হয় না। কাজের জন্য টাকা পেলেও এঁদের কোনও পে ‘স্লিপ’ নেই। ফলে ভবিষ্যতে বাড়ি, জমি, বা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে প্রতি মুহূর্তে সমস্যায় পড়তে হয়। অনথিভুক্ত হওয়ায় কোনও আর্থিক সংস্থা বা ব্যাঙ্ক এঁদের গৃহঋণ দেয় না। ফলে রোজগার থেকে কষ্ট করে কিছু অর্থ জমালেও ঋণের অভাবে এঁদের আর বাড়ি কেনা হয় না। অনথিভুক্ত কর্মীদের এই চাহিদা পূরণেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘শুভম হাউজিং ফাইন্যান্স।’ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অজয় ওক জানিয়েছেন, অনথিভুক্ত কর্মীদের শহরের বুকে আশ্রয় জোগানোই তাঁদের মূল কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন গৃহনির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যোগস্থাপন করেছেন তাঁরা। এই সকল কর্মীদের জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে কমমূল্যে উপযুক্ত গৃহনির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন।


‘শুভম’-এর হাত ধরে এরা বাড়ি পেয়েছেন
‘শুভম’-এর হাত ধরে এরা বাড়ি পেয়েছেন

জানা গিয়েছে, অনথিভুক্তদের জন্য গৃহ নির্মাণ করে বহু সংস্থাই লাভের মুখ দেখেছে। হাসি ফুটেছে ব্যাঙ্কের ঋণের খাতায় বাতিল তালিকাভুক্তদের। ইতিমধ্যেই গুরগাঁওয়ের শুভম সংস্থা অনথিভুক্ত কর্মীদের থেকে ১২২ কোটি টাকা তুলেছে।বিহার, ছত্তিসগঢ়, দিল্লি, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ ছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে ছড়িয়ে রয়েছে ‘শুভম’। গত চার বছরের মধ্যে এই গৃহঋণ প্রদানকারী সংস্থার কর্মকাণ্ড বাজারে বেশ প্রভাব ফেলেছে। আপাতত দেশের ৫০ হাজার পরিবারকে ভাল ও উপযুক্ত পরিকাঠামোর ঘর দেওয়াই শুভম-এর লক্ষ্য। ২০১৮ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যপূরণ করতে চায় সংস্থা।


তবে এই কাজ যে খুব একটা সহজ নয়, তা ইতিমধ্যেই উপলব্ধি করেছে এই সংস্থা। দেখা গিয়েছে, প্রতি মাসে স্থায়ী আয় না থাকায় অনেক সময় ঋণ শোধে অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে অনথিভুক্তদের। বাড়ি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাই প্রথম থেকেই তাদের ‘কাউন্সেলিং’ করছে ‘শুভম’। এই সময় মূলত পরিবারের মাসিক রোজগার, তাঁদের ঋণশোধের বিকল্প রাস্তা নিয়ে বোঝানোর চেষ্টা চলে। এছাড়াও বাড়ি কেনার আইনি চুক্তি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করা হচ্ছে। যাতে ঠগবাজদের হাতে পড়ে তাঁরা প্রতারিত না হন। ‘শুভম’-এর এই ভাবমূর্তিই এখন বাজারে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। শুধু গৃহঋণ নয়, বাড়ি কেনার আগেও তাদের কাছে পরামর্শ চাইছেন বহু গ্রাহক। এত সুবিধা সত্তেও আবার অনেকে ‘শুভম’-এ যেতে সংকোচ বোধ করেছেন। তাঁদের জন্য সংস্থার কর্মীরা বলছেন, ‘গৃহঋণ পেতে হলে শ্রীঘ্রষ্য শুভম’।

Related Stories