অণ্ডালই শিল্প আনবে বিশ্বাস করে আসনসোল

0

কথায় বলে জেটের গতি। জেটের গতি এলেই শিল্পের চাকায় গতি বাড়বে। যেন স্বপ্ন উড়ান শিল্প বাণিজ্য শহরে। আকাশ পথে বানিজ্যিকভাবে উড়ান চালুর সাথে সাথে ব্যবসা বিনিয়োগ আর শিল্পের সম্ভবনা দেখছে শিল্পাঞ্চল। বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিশ প্রোজেক্ট (BAPL) এর তত্বাবধানে অণ্ডাল বিমান নগরীই এখন দক্ষিণবঙ্গের বাণিজ্য আর লগ্নির নয়া আইকন। ২৯ জানুয়ারি আসানসোল চেম্বার অফ কমার্সের শিল্প ও বাণিজ্য মেলার এবারের থিম অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমান নগরী। বনিক সভার সভাপতি সুব্রত দত্ত জানান গত বছর এই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের ছোট বড় শিল্প সংস্থাগুলি সেবার ব্যাপক সাড়া দিয়েছিল। এবার তাদের বাড়তি পাওনা কাজী নজরুল ইসলাম বিমান নগরী। শিল্পাঞ্চলের সাথে আকাশ পথে সরাসরি যোগাযোগে দূরত্ব কমে যাওয়ায় লগ্নিতে উৎসাহ পাবেন উদ্যোগপতি বা শিল্পপতিরা। তাই মেলার থিম হিসাবে কাজী নজরুল ইসলাম বিমান নগরীকেই বেছে নিয়েছেন তারা।

বিমান পরিষেবার মাধ্যমে এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে একথা শুধু ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিরাই বলছেন না একবাক্যে স্বীকার করেছেন শহরবাসীও । অন্ডাল থেকে দিল্লি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে সপ্তাহে তিনদিন। সোম বুধ ও শুক্রবার। প্রথমদিকে হাতে গোণা যাত্রী। কিন্তু দিনকে দিন সংখ্যা বাড়ছে। অন্ডাল বিমান নগরী থেকে সপ্তাহে ছ' দিন কলকাতা গামী উড়ান পরিষেবা রয়েছে। দিল্লিগামী উড়ান পরিষেবায় এয়ার ইন্ডিয়া উড়ান সংস্থা সপ্তাহে তিন দিন চালু করেছে ১৪৪ সিটের উড়ান। এখন আপাতত ওই সমস্ত উড়ান কলকাতা থেকে ভায়া অন্ডাল হয়ে দিল্লি যাবে। বিমান সংস্থা জানাচ্ছে কলকাতা দমদম বিমান বন্দর থেকে সকাল সাড়ে আটটায় ছাড়বে দিল্লিগামী উড়ানটি। অন্ডালে সকাল ন'টায় অবতরণ করবে।অন্ডাল থেকে সাড়ে ন'টায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দিল্লি বিমান বন্দরে নামবে। আসানসোল দুর্গাপুর ছাড়াও বাঁকুড়া বীরভূম পুরুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ডবাসীও এতে উপকৃত হবেন।

শিল্পপতি পবন গুটগুটিয়া জানান আসানসোল-দুর্গাপুর এমনিতেই শিল্পনগরী।বেসরকারি ইস্পাত ও সার কারখানা চালু হয়েছে বেশকিছু। পানাগড়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবের কাজ চলছে জোর কদমে। জামুড়িয়া রানীগঞ্জ কল্যাণপুর ও মাইথনে শিল্প-তালুক তৈরি হয়েছে। রয়েছে কয়লাখনি। শিল্প ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রচুর আলা-আধিকারিকরা প্রায়-দিন দিল্লি কলকাতা যাতায়াত করেন।গতি বাড়বে।উন্নয়ন তরান্বিত হবে।দুর্গাপুরবাসীদেরও অভিমত শুধু ভিআইপি নয় সাধারণ মানুষ যারা চিকিৎসার স্বার্থে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন তারাও উপকৃত হবেন।কেন্দ্র সরকারের স্মার্ট সিটির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে দুর্গাপুর। আসানসোলকে ইনটেলিজেন্ট সিটি করতে চলেছে রাজ্য।স্বাভাবিকভাবেই উড়ান সংস্থা ব্যবসার মুখ দেখবে বলে আশাবাদী শহরবাসীরাও।বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিশ প্রোজেক্টের(BAPL) ম্যানেজিং ডিরেক্টর পার্থ ঘোষ জানান ‘দুর্গাপুর দিল্লি ডাইরেক্ট কানেকটিভিটি হয়েছে।অনেকদিন ধরে তারা অপেক্ষায় ছিলেন।৮ ই মে থেকে কমার্শিয়াল অপারেশন হয়েছে।সাধারণত এই ধরনের এয়ারপোর্ট স্টেবিলাইজ হতে ৬ মাস সময় লাগে।ঠিক ৬ মাসের মাথায় সেই কাজটা শুরু করা গেছে।অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।পার্থ বাবু জানান আমরা জানতাম এই সাড়া পাবো কারন ৭০ কিমি রেডিয়াসে দেড় কোটি লোকের বাস।অনেক পাবলিক সেক্টর রয়েছে।দিল্লির জন্য যাত্রী পাওয়া যাবে আশাবাদী ছিলাম।এয়ার ইন্ডিয়ার প্রত্যেকটি ফ্লাইট ফুল।বিমানের সিট একেবারে ভর্তি।আগামী কয়েকমাসের বুকিংও প্রায় ফুল।এটা একটা ঐতিহাসিক ব্যাপার এই জন্য কারন এয়ার ইন্ডিয়ার সাফল্যের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।অন্যান্য এয়ার লাইনস তাকিয়ে রয়েছে সে দিকেই।ফলে শুধু দিল্লিই নয় দেশের অন্যান্য প্রান্তে উড়ান পরিষেবায় সেই সমস্ত এয়ার লাইনস আগ্রহ প্রকাশ করবে’।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি বিমান অবতরণ ক্ষেত্রকে ২০০৬ সালে অন্ডাল বিমান-নগরীর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল দফতর। সেই মতো বহু-চর্চিত বিমান-নগরী প্রকল্পের কাজে হাত লাগায় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্ট ইন্টারন্যাশনালের মতো বিদেশী সংস্থা। যদিও রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম জমি অধিগ্রহণের কাজটি করার সুবাদে নিগমের অংশীদারি রয়েছে দেড় শতাংশ। গত ২০১০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের ভিত-পূজা হয়। গত মে মাসে অন্ডাল কোলকাতা বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে। দুর্গাপুর আসানসোলে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সেইলের তিনটি ইস্পাত কারখানা, কোলইন্ডিয়ার কয়লা খনি ও সরকারি বেসরকারি নানা শিল্প কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিক ভাবেই দিল্লিগামী উড়ান পরিষেবা হলে যেমন এলাকাবাসীর সুবিধা তেমনই লাভের আশা দেখছে উড়ান সংস্থা গুলিও। জানা-গেছে, ভুটান এয়ারলাইন্স ও বিমান চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


একইসাথে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে অন্ডাল থেকে কোলকাতা হয়ে কোচবিহার যাওয়ার উড়ান পরিষেবা । সকাল ৮টা ১০ নাগাদ স্পিরিট এয়ারের ন'আসনের বিমান কোলকাতার উদ্দ্যেশে রওনা দেবে। সেখানে পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। সেখান থেকে ৯টা ১৫ মিনিটে বাগডোগরার উদ্দ্যেশে রওনা। বাগডোগরা থেকে ১১টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ১২ টা ৫ কোচবিহার পৌঁছাবে। এবং পুনরায় কোচবিহার থেকে বাগডোগরা, কোলকাতার উদ্দ্যেশে ১২ টা২৫ মিনিটে উড়বে। সপ্তাহে চার দিন অন্ডাল- কোলকাতা- বাগডোগরা - কোচবিহার উড়ান পরিষেবা চালু থাকছে। অন্ডাল থেকে কোচবিহার বিমান ভাড়া পড়বে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। তবে স্পিরিট এয়ার সরাসরি টিকিট বুক করছে না। ডোর টু ডোর ট্রাভেল কোম্পানি নামে একটি সংস্থা টিকিট বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে। এই উড়ান পরিষেবায় প্রতিমাসে ৫৮লক্ষ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। আগামী তিন বছরের জন্য এই চুক্তি করেছে রাজ্য। তবে ৫৮ লক্ষের মধ্যে রাজ্য দেবে ২৯ লক্ষ টাকা। বাকি ২৯ লক্ষ টাকা দোবে সংশ্লিষ্ট বিমান-নগরী সংস্থা বেঙ্গল এরোট্রোপলিস প্রজেক্ট লিমিটেড(বিএপিএল)।

গত ২১ ডিসেম্বর প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে অন্ডাল থেকে দিল্লির উদ্দ্যেশে রওনা দেওয়ার সময় এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ানটির সমস্ত সিটই বুক হয়ে যায়।আসানসোলের বস্ত্র ব্যবসায়ী অশোক অগরওয়াল সেদিন ছিলেন যাত্রীদের একজন। ব্যবসার কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, " নিয়মিত চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের পক্ষে সুবিধা। দিল্লি ছাড়াও মুম্বাই বাঙ্গালর বিমান পরিষেবা চললে ভালো হয় বলে তিনি জানান।" দুর্গাপুর বিধান-নগরের বাসিন্দা শুভেন্দু গোস্বামী। চাকুরী সুত্রে ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন। ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন শুভেন্দু-বাবু। তিনি জানান, " নিয়মিত পরিষেবা চালু থাকলে আমাদের যাতায়াতে খুবই সুবিধা।" বিএপিএলের অন্ডাল ডিরেক্টর বীরেন্দ্র কুমার সিং জানান, " কোম্পানি হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।সরকারি বেসরকারি ও কর্পোরেট সংস্থা এই সাপোর্ট দিচ্ছে।সাহস জুগাচ্ছে। তাদের আশা মুনাফা নিশ্চিত হবেই।"