কন্যাশিক্ষায় এগিয়ে আছে মনিকান্তের শিক্ষাসেবা

0

বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও অথবা কন্যাশ্রী। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের এসব প্রকল্প তো হালে চালু হয়েছে। অথচ এই কাজটাই চাঁদা তুলে, চেয়েচিন্তে সেই ২০১২ সালে নীরবে শুরু করছিলেন মনিকান্ত তিওয়ারি, সাধারণ ব্যবসায়ী।  গড়েছিলেন শিক্ষাসেবা ফাউন্ডেশন। আজ পড়ব সেই অচেনা সামাজিক উদ্য়োগপতির এক অজানা কাহিনি।

উদ্দেশ্য ছিল তিনিটি:-

  1. কন্যাশিশুর অগ্রগতি
  2. মহিলাদের ক্ষমতায়ন
  3. আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেয়েদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা

গত তিন বছরে সংস্থা আড়ে বহরে অনেকটাই বেড়েছে। দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতা ৩ টি মেট্রো শহরে বিভিন্ন স্কুল, স্থানীয় সরকার, কর্পোরেট হাউস এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে মহিলাদের শিক্ষা এবং কাজের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশন।

প্রথমেই বলে রাখি এটি একটি অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা। এনজিও। ইতিমধ্যেই এই সংস্থা সহায় সম্বলহীনদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করছে। শিক্ষা সংক্রান্ত প্রজেক্টগুলির জন্য মালাদের স্বামী বিবেকানন্দ স্কুল, মুম্বইয়ের মীরা রোডে বেদান্ত হাইস্কুলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে এই এনজিও।

ভিত শক্ত হলে নির্মানও শক্ত হবে। মূলত এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে মহিলা শিক্ষা প্রসারে গুরুত্ব দেয় শিক্ষাসেবা ফাউন্ডেশন। নানা কারণে শিশু কন্যারা যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য পালগড়ে বলওয়াড়ি-শিক্ষা উৎসব চালু করা হয়েছে সংস্থার তরফে। সারা দেশে সব ধর্মের সব বর্ণের দরিদ্রক্লিষ্ট শিশু এবং মহিলাদের নানা কর্মসূচির আওতাভুক্ত করে তাদের জীবনধারার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিক্ষাসেবা। সামাজিক উন্নয়নের নানা কাজ করতে গিয়ে শিক্ষাসেবা নানা পরিকাঠামোগত সুবিধা, শিক্ষাগত সহায়তা, গ্রন্থাগার তৈরি, মোবাইল হেলথ কেয়ার ইউনিট এবং স্বাক্ষরতার পক্ষে প্রচারও করে থাকে।

শিক্ষাসেবা ফাউন্ডেশন মনে করে, সমাজে উল্লখজনক পরিবর্তন আনতে হলে নারীশিক্ষা জরুরি। দেশের নানা রাজ্যে অনেক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতিবছর ৯৬ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ১০ বছরে পৌঁছানোর আগেই ৪০ শতাংশ স্কুলছুট হয়ে যায়। তার মধ্যে ৫৮.১ শতাংশই মেয়ে আর ৪১.৯ শতাংশ ছেলে। সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে, ৪৫.৮ শতাংশ পড়ুয়ার স্কুল ছুটের কারণ দারিদ্র এবং স্কুলের পরিবেশ। সব শিশুর সুস্বাস্থ্য এবং শিক্ষার অধিকার রয়েছে। শিক্ষাসেবা ফাউন্ডেশন মহিলাদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সেই কাজটাই করে চলেছে। বিভিন্ন স্কুলের,নানা সরকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যে শিক্ষাসেবা যে কর্মসূচিচালাচ্ছে সেগুলি হল

  1. কন্যাশিক্ষা যোজনা-স্কুল প্রজেক্ট
  2. শিক্ষা উৎসব-বলওযাড়ি প্রজেক্ট
  3. স্বাস্থ্য ভারত-স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রোগ্রাম
  4. স্ত্রী অস্তিত্ব-মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রোগ্রাম
  5. সংস্কার-আচার-আচরণ তৈরি করে দেওয়া

সমস্যা একটাই। ফান্ডিং। যে লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষাসেবা এগিয়ে চলেছে, সেই লক্ষ্য পূরণে আর্থিক ভরসা জরুরি। বিভিন্ন সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। সাহায্যদাতার তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন শিল্পপতি। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অর্থের যোগান নেহাতই কম। তাই এঁরা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের কথাও ভাবছেন।

আরও পড়ুন
অনন্যাদের কাহিনি পড়ুন ইওরস্টোরির পাতায়। ৮ মার্চ ইওরস্টোরি পালন করছে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস। মহিলা উদ্যোগপতিদের কুর্নিশ জানাতেই একগুচ্ছ মহিলা উদ্যোগপতির কাহিনি।