রঙে বাহারে চোখ টানে ‘চুম্বক’

0

উজ্জ্বল রং আর শিল্পের অন্যন্য মিশেল। চোখ আটকে যাবে ‘চুম্বক’-এ, বেঙ্গালুরুর ইন্দিরানগরের একটা দোকান। স্রেফ মজা আর ভারতের কিছু স্মারক তৈরির উদ্দেশ্য ছিল। বিবেক প্রভাকর এবং শুভ্র চাড্ডা দুই তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে ২০১০সালের মার্চে ‘চুম্বক’এর সৃষ্টি। ‘চুম্বক’ এখন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড। পায়ের ছাপ রেখেছে বেঙ্গালুরু, মুম্বই ও দিল্লিতে। দুটি বড় ফ্ল্যাগশিপ স্টোর রয়েছে মুম্বই ও দিল্লিতে। সারা দেশে ৩৫টি ছোট ছোট আউটলেট রয়েছে।

কীভাবে ‘চুম্বক’এর সৃষ্টি বলতে গিয়ে সহ প্রতিষ্টাতা বিবেক বলেন, ‘কোনও স্মারক বলতে সচরাচর আমরা যা দেখি মার্বেল দিয়ে তৈরি তাজমহলের রেপ্লিকা (নকল) এবং কিছু হস্তশিল্প। একঘেয়ে দেখতে দেখতে আর ভালো লাগে না। আমাদের মনে হয়েছিল প‌র্যটকদের হাতে ভারতের স্মারক হিসেবে আরও অনেক কিছু তুলে দিতে পারি’। ঠিক এই ভাবনা থেকে ‘চুম্বক’এর জন্ম।

বিবেক প্রভাকর ও শুভ্রা চাড্ডা, কর্নধার, চুম্বক
বিবেক প্রভাকর ও শুভ্রা চাড্ডা, কর্নধার, চুম্বক

যা জমা ছিল কুড়িয়ে বাড়িয়ে ৪০ লক্ষ টাকা মতন পুঁজি যোগাড় হয়েছিল।তাই দিয়ে শুরু। পাঁচ বছরে ‘চুম্বক’ ব্যবসা বাড়িয়ে গিয়েছে। নানা ধরনের স্টেশনারি, ব্যাগ, বটুয়া, গয়না, চাবির রিং, ঘর সাজানোর জিনিসপত্র পাওয়া যাবে ‘চুম্বক’এ। বিবেক বলেন, ভারতের যুবসমাজ ‘চুম্বক’এর সবচেয়ে বড় ফ্যান। তাঁরা জানেন গ্রাহকরা তাদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু চায়। স্মারক ব্র্যান্ড থেকে ‘চুম্বক’ এখন এই নতুন ভারতের প্রতিনিধি।

ফ্ল্যাগশিপ চুম্বক স্টোর, ইন্দিরানগর, বেঙ্গালুরু
ফ্ল্যাগশিপ চুম্বক স্টোর, ইন্দিরানগর, বেঙ্গালুরু

শুরুর দিকে ‘চুম্বক’এর নানা জিনস পাওয়া যেত এমবিও(মডার্ন ব্র্যান্ড আউটলেট)তে। ফিডব্যাক এল, ক্রেতারা তাদের সব পণ্য এক ছাদের তলায় দেখতে চান। এখান থেকেই সারা দেশের বড় বড় মলগুলিতে পপ-আপ স্টোর করার আইডিয়া আসে। সেই সময় ক্রেতাদের পছন্দেও বদল আসছিল, ভারতের পুরনো ঐতিহ্য থেকে একটু আলাদা আরও আধুনিক কিছু চাইছিলেন তাঁরা। ‘এটাই’, বিবেক বলছিলেন, ‘একেবারে আলাদা কিছু ডিজাইন আনার তাগিদ তৈরি করে দিয়েছিল। নতুন ধরনের ডিজাইনের যে ভাষা তৈরি হয়েছিল সেটাই অনুবাদিত হয়েছিল ‘চুম্বক’এর একেবারে হটকে প্রডাক্টে’।

ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, ইন্দিরানগর
ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, ইন্দিরানগর

গতবছর সেপ্টেম্বরে ইন্দিরানগরে ‘চুম্বক’এর প্রথম স্টোর খোলা হয়। আর তার সঙ্গে গৃহসজ্জার জন্য নতুন কিছু প্রডাক্টও লঞ্চ হয়েছিল। ‘ট্রেডমার্ক রং আর ডিজাইনের আবেদন ধরে রেখে আমরা গ্রাহকদের কাছে ‘চুম্বক’কে নতুন অবতারে পেশ করি। রান্নাঘরের জিনসপত্র, ল্যাম্প শেড, ডাইনিং এক্সেসরিজ, দেওয়াল শিল্প (ওয়াল আর্ট)আরও অনেক কিছু নিয়ে আসি’, বলেন বিবেক।

কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছাড়া সাফল্যের কোনও কাহিনী পরিপূর্ণ হয় না। সব প্রডাক্ট ক্রেতাদের জন্য এক জায়গায় নিয়ে আসা ছিল চ্যালেঞ্জ। শুরু হল পপ-আপ কিয়স্ক। বিবেক বলেন, দোকানের জন্য ঠিক আকার, মডেল এবং জায়গা পছন্দ করা সহজ ছিল না। ‘প্রথমবার সম্পূর্ণ আলাদা ব্র্যান্ড হিসেবে শোরুমে শুধুমাত্র ‘চুম্বক’এর প্রডাক্টই বিক্রি হতে চলেছে। পপ-আপ স্টোরগুলির পাশাপাশি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর অর্থাৎ বড় শোরুমে এই চ্যালেঞ্জটা ছিল আরও বড়। টিম চুম্বককে একেবারে নতুন কিছুর খোঁজ করতে হয়েছিল, তারপর সেটা বাজারজাতকরণ করা, বিক্রি করা এবং মার্কেটিংয়ের নতুন ভাষা দেওয়া বিরাট চ্যালেঞ্জ’, জানান বিবেক। তাঁর সংযোজন, ‘পাগলের মত লাগছিল আবার মজাও পাচ্ছিলাম’। বিবেক মনে করেন, তাঁরা চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবে উতরে গিয়েছেন, শিক্ষা নিয়েছেন, জমি শক্ত করেছেন।

গত দেড় বছরে ‘চুম্বক’এর নানা অংশে ৩০ থেকে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ১৫০ হয়েছে। ‘আমাদের টেকনিক্যাল টিমে নতুন কিছু সংযোজন করে ভালো ফল পেয়েছি। কয়েক মাস আগে ওয়েবসাইট লঞ্চ হয়েছে। তাতে অনলাইন ব্যবসাটাও মসৃনভাবে এগোচ্ছে’, বলেন বিবেক। গত পাঁচ বছরে অনলাইন অফলাইন মিলিয়ে ৩০০ শতাংশ ব্যবসা বেড়েছে। খুচরো ব্যবসায়ীদের ওপরই সাফল্য নির্ভর করে বলে টিমের বিশ্বাস। বিবেক বলেন, ‘একই সঙ্গে অনলাইন এবং অফলাইনে ব্যবসা করা বেশ কঠিন। চাহিদা বুঝে ঠিকঠাক যোগান দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ’। কীভাবে বাজারে জায়গা করে নিল চুম্বক? বিবেক বলেন, ‘ভারতীয় থিম ডিজাইন যে সবার কাছে স্বাগত প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলাম। ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে’, তিনি যোগ করেন, ‘সারা দেশের ক্রেতারা বিশ্বের সবরকম ডিজাইনের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকেন। আমাদের কাস্টমাররা ‘চুম্বক’এর নিজস্ব প্রডাক্ট চিনতে শুরু করলেন। তারা যেভাবে আমাদের পণ্যগ্রহণ করছিলেন তাতে বিরাট একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলাম’, বলেন বিবেক।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? ‘চুম্বক’ টিম জানাল, আগামী বছরগুলিতে সারা দেশে আরও বড় বড় দোকান বা শোরুম খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন দুটো দিকে সমানভাবে নজর দিতে চায় ‘চুম্বক’। ‘ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজোনের মতো অনলাইন শপে আমাদের পণ্য যেমন পাওয়া যায় তেমনি ‘চুম্বক’ উন্নত মানের ওয়েবস্টোর করার দিকেও এগোচ্ছে’, জানান বিবেক। পাশাপাশি ডিজাইন নিয়েও নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে প্রতিনিয়ত। বিবেক যেমন বলছিলেন, সময়ের সঙ্গে ভারতের ক্রেতাদের মানসিকতাতেও বদল ঘটেছে। সারা বিশ্বের নানা স্টাইল, ডিজাইনের দিকে থাকে ক্রেতাদের নজর। আর সেই কারণেই ইন্ডিয়া সারকাস বা হ্যাপিলি আনমেরেডের এত বাড়বাড়ন্ত।