ভূবনেশ্বরের যে তিনটি স্টার্টআপের কথা আপনার জানা উচিত

2

মাথা তুলছে ভুবনেশ্বর। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ওখানে সবে তৈরি হচ্ছে। ওড়িশার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের সুপার অ্যাক্টিভ প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি লক্ষ্মীনারায়ণ গুপ্তার নেতৃত্বে তরতর করে এগোচ্ছে ভুবনেশ্বর। ইতিমধ্যেই মাত্র কয়েক মাসেই ৫০টিরও বেশি স্টার্টআপ সরকারি খাতায় নাম লিখিয়েছে। KIITTBI, যাকে বলে কলিঙ্গ ইন্সটিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজির ইনকিউবেশন সেন্টার সেখানে এখন চাঁদের হাট। ওখান থেকে তিনটি স্টার্টআপের কথা আজ আপনাদের বলব যারা ওড়িশায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা ধীরাজ চৌধুরী এবং হর্ষবর্ধন কুমার। এই স্টার্টআপ কাজ করছে অগমেন্টেড রিয়ালিটি নিয়ে। এমন ভিস্যুয়াল সাপোর্ট সিস্টেম ওরা তৈরি করেছে যার মাধ্যমে আপনি নিজেই নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারেন। ধরুন রাস্তার মাঝখানে আপনার গাড়িটা বিগড়ে গেল, তখন ভাবছেন কী করবেন, কোথায় পাবেন মেকানিক। ইন্ডিফিক্স আপনাকে দেবে লাইভ সাপোর্ট। মেকানিকের পৌঁছনোর আগেই আপনি স্ক্রিনে দেখে নিতে পারবেন কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়। ছবি কিংবা ভিডিও ইন্ডিফিক্সের মারফত পাঠালেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে ইন্ডিফিক্স। সেই হাতের ইন্সট্রাকশন ফলো করে আপনি নিজেই সারিয়ে ফেলতে পারবেন আপনার গাড়ি। এরকমভাবে অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও ইন্ডিফিক্স আপনাকে দেবে স্বনির্ভরতা। ওরা অগমেন্টেড রিয়ালিটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং অ্যালগোরিদম নিয়ে কাজ করে। যারা অনসাইট সাপোর্ট দেন তারা যাতে খালি হাতে কাজ করতে পারেন তাই পরিধেয় অগমেন্টড ডিভাইসও তৈরি করে ইন্ডিফিক্স। মোদ্দা কথা হল আপনি সমস্যায় পড়লে ইন্ডিফিক্সের মারফত আপনি সমস্যার সমাধান নিজেই করতে পারবেন।

গাড়ির ব্যবসা যারা করেন কিংবা যাদের গাড়ি চালানোর জন্যে ড্রাইভার থাকে তাঁরা জানেন গাড়ির গতিবিধি নজরের আড়াল হলে কী হয়। লোকেট এই সমস্যার সমাধান করছে। লোকেট এমন একটি ডিভাইস তৈরি করেছে যা জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মারফত আপনার গাড়ির সঠিক লোকেশন দেয়। প্রতিমুহূর্তে আপনাকে সচেতন করে এবং ড্রাইভারের গতিবিধি দূর থেকে নজর করে। শুধু তাই নয় গাড়িতে তেল লাগবে কিনা, গাড়িটি নিরাপদে আছে কিনা সেই সব খবরও দেয় এই ডিভাইস। সংস্থার কর্ণধার চন্দ্রশেখর রাউত আদ্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার। জানালেন, তাদের এই ডিভাইস গাড়ির সঙ্গে জুড়ে দিতে পারলেই হল। গাড়িটি কানেক্টেড হয়ে যাবে। আপনার হাতের মোবাইলেই দেখতে পাবেন গাড়ির নাড়ি নক্ষত্র। এর ফলে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের খরচ কমবে। পাশাপাশি গাড়ির নিরাপত্তা এবং চালকের গাড়ি চালানোর দক্ষতারও রিয়েল টাইম নজরদারি করা সম্ভব হবে।

২০১২ সালের জানুয়ারিতে ওদের কলেজে শ্রুতি কান্ত মিশ্রর সঙ্গে দেখা হয়েছিল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামের। তাঁর বাণী। তাঁর প্রেরণাই পরশমণির মত কাজ করেছে। সেকেন্ড ইয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র শ্রুতি কান্তকে আব্দুল কালাম বলেছিলেন, তুমি যখন অটোমেশন নিয়ে এত আগ্রহী কেন নিজের মতো কিছু করছ না! শুরু করো। ব্যাস, সেই শুরু। সে বছরই নভেম্বরের মধ্যে নিজের কোম্পানি খুলে ফেললেন শ্রুতি কান্ত। প্রথমে প্রযুক্তির সাপোর্ট দেওয়ার কাজ করতেন বিভিন্ন সংস্থার জন্যে। ব্যবসায়ী বাবা কিছু সাহায্য করেছিলেন। বাকিটা বিভিন্ন প্রতিযোগিতা জিতে সেই টাকা বিনিয়োগ করেছেন। একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছেন এই তরুণ উদ্যোগপতি। তৈরি হয়েছে চারচারটি সংস্থা। মেইসটাস গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি। এখন এলইডি লাইট তৈরি করে ওর সংস্থা। বিদেশে রফতানি করে। দেশের বাজারে বড় সংস্থা হ্যাভেল, সিস্কার সঙ্গে রীতিমত পাঙ্গা নিচ্ছে এই ভুবনেশ্বরের সংস্থা। শ্রুতি কান্ত বলছিলেন ওদের ৮৬ রকমের এলইডি লাইটস আছে। দামে অন্যদের থেকে সস্তা কিন্তু গুণগত মান অনেক ভালো। শুধু তাই নয় ওরা একটা এলইডি লাইটে ৫ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। আর তার ফলও পাচ্ছেন হাতে নাতে। ওদের কাস্টমারের লম্বা তালিকায় পিএসইউ থেকে কর্পোরেট ক্লায়েন্ট সব আছে। শুধু কি এইটুকু, ওরা ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। এখন বিভিন্ন সংস্থার জন্যে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি করে দেয়, ইন্টেরিও প্রোডাক্টের জন্যে আলাদা বিভাগও আছে। শ্রুতি কান্তকে জিজ্ঞেস করলে অনেক গর্বের সঙ্গে বলে ল্যাটিন শব্দ মেইসটাস মানে রাজকীয়।

(এরকম আরও অনেক স্টার্টআপের সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দেব। পড়তে থাকুন বাংলা ইওরস্টোরি)

Related Stories