শিল্পোদ্যোগীদের ক্লাস নিলেন ১০ বিশেষজ্ঞ

0

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার ভারতে নতুন শিল্পোদ্যোগীদের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কৃপায় লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের কাছে পৌঁছন তাঁদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। ইয়োর স্টোরির টেকস্পার্ক সম্মেলনে ১০ জন বিশেষজ্ঞ উচ্চ প্রত্যাশী শিল্পোদ্যোগীদের ধাপে ধাপে উন্নতির টোটকা বাতলেছেন। এই ১০ জন বিশেষজ্ঞের মধ্যে ছিলেন, সোসালকপসের প্রকল্প শঙ্কর, বোরডবিজস টেকের আনন্দ নায়েক, হেডহেল্ডহাইয়ের মদন পাদাকি, আইএএনের রেবতী অশোক, ফিটারনিটির নেহা মোতওয়ানি, স্টেলা টেকনোলজিসের অরুণা সোয়ার্জ, সিডএক্সের রাজীব রঘুনন্দন, কামাই টেকনোলজির কার্তিক সাথুরাগিরি, অ্যাটম টেকনোলজিসের দিওয়াং নেরাল্লা ও মাইক্রোসফটের সর্বশ্রেষ্ঠ পালিওয়াল।

এই দশজনের বক্তব্যের সারাংশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম হল উদ্দেশ্য, দুই অবস্থান ও তিন শরিক। কোটি কোটি গ্রাহকের বাজার দখলে এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

উদ্দেশ্য- আবেগ দিয়ে কোনও উদ্যোগ শুরু মানেই হল প্রচুর সমস্যাকে লক্ষ্য করে ছোটা। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য স্থির করে কোনও প্রকল্প শুরু করা হয় তখন একটা দীর্ঘ কঠিন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হতেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। অর্থপূর্ণ কনটেন্ট, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ও ‌যোগাযোগ, এই তিনটি বিষয়কে ছড়িয়ে দিতে যে বিষয়গুলি বাধার সৃষ্টি করছে সেগুলিকে চিহ্নিত করে তার সমাধান খোঁজ করা নতুন উদ্যোগীদের অন্যতম কর্তব্য। এরমধ্যে কিছু থাকে গ্রাহক সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যগুলি সংস্থা সম্পর্কিত সমস্যা। এই ডিজিটাল জামানায় একটা ভাল কাজে গ্রাহকরাও সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সফল হতে গেলে সমস্যার প্রেমে পড়া জরুরি। দরকার গ্রাহক পরিষেবা নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকা। নচেৎ শিল্পোদ্যোগী নিজেই নিজের প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন। অন্যদিকে আবেগ আর উদ্দেশ্য নিজেদের মধ্যে গাঁটছড়া বাঁধলে যে কোনও উদ্যোগপতি নিজের উন্নতির রোডম্যাপ নিজেই তৈরি করতে পারবেন।

অবস্থান – একবার সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে শিল্পোদ্যোগীদের ভাবতে হবে তারা গ্রাহকদের ঠিক কী দিতে চান! কোনও উপাদান, না কোনও পরিষেবা, নাকি কোনও পরিষেবাভিত্তিক উৎপাদন? তবে প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই উৎপাদন করা, প্যাকেজ করা, বণ্টন করা, দাম নির্ধারণ করা এবং সর্বপরি বিক্রি করার রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

যদি একটি সংস্থা বাজারে আইপিও ছাড়ার পরিকল্পনা করে থাকে তাহলে তাদের ত্রৈমাসিক ফলাফলে জোর দিতে হবে। তবে এ ধরণের উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুনাফা ঘরে আসতে দেরি হতে পারে, কিন্তু শুরুতে বড় অঙ্কের লগ্নি প্রয়োজন। একটি উদ্যোগের ক্ষেত্রে তার পথচলা ঘুরতে থাকে প্রধান বিষয়টি কেন্দ্র করে। এদিকে লগ্নিকারীরা দেখেন ঠিক কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে এবং এটাও দেখতে চান যে উদ্যোগীরা তাদের পথচলার হাত ধরে ব্যবসার প্রয়োজনীয় অধ্যায়গুলি ঠিকঠাক রপ্ত করতে পারছেন কিনা !

শরিক –প্রযুক্তিগত সমাধানের দুরন্ত মহাসাগরে নতুন উদ্যোগ এগিয়ে চলে। পরামর্শদাতা ও বিনিয়োগকারীদের ইকোসিস্টেম থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে নতুন উদ্যোগীরা বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন শরিক খোঁজেন। যারমধ্যে রয়েছে প্রচুর এসএমএসি-র চাহিদা। সঙ্গে থাকে অর্থ প্রদান ও সুরক্ষা পরিকাঠামো। তবে সেই শরিকই গ্রহণযোগ্য হন যাঁর মধ্যে প্রযুক্তিগত সাহায্য দেওয়ার ক্ষমতা ও প্রবণতা আছে।

মাইক্রোসফট নিজেকে ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসাবে তুলে ধরতে পেরেছে। যারা নতুন সংস্থাকে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ডিজিটাল তথ্য প্রদানে নিজেদের একটা শক্তিশালী সংস্থা হিসাবে তুলে ধরতে পেরেছে কামাই নামক সংস্থাটি। পেমেন্ট গেটওয়ে হিসাবে ভারতীয় নতুন সংস্থাগুলির জন্য অ্যাটম টেকনোলজিস নিজেদের সামনের সারিতে তুলে এনেছে।

আলোচনায় নতুন উদ্যোগীদের শুরুর ভুলগুলির দিকে বিশেষজ্ঞেরা অনেক বেশি জোর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, অনেক সময় কোনও সংস্থার প্রতিষ্ঠাতারা ঠিকঠাক হন না এবং নতুন প্রযুক্তির বদলে যন্ত্রপাতির দিকে তাঁরা অতিরিক্ত জোর দিয়ে ফেলেন। যার ফলে তাদের ব্যবসা বিপর্যস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন উদ্যোগীদের অনেক বেশী কর্মতৎপর হতে হবে। নিজেদের এবং অন্যদের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি, ভাবনাগুলির সঙ্গে আবেগপূর্ণভাবে জড়িয়ে না থাকাই বাঞ্ছনীয়। এককথায়, বৃহৎ বাজারে সুদূরপ্রসারী সাফল্য পেতে উদ্যোগীদের শিখতে হবে হাল না ছাড়া মানসিকতা ও যা হচ্ছে হতে দাও , এই দুই ভাবনার মধ্যে একটা সমানুপাত বজায় রাখা।