কর্নাটকের স্টার্টআপ পলিসিতে সোনালি দিনের অপেক্ষায় উদ্যোক্তারা

0


আর কিছু দিনের অপেক্ষা। কর্নাটকে শুরু হতে চলেছে বিজনেস মিট ‘ইনভেস্ট কর্নাটকা’। তার আগে ২০১৬র স্টার্টআপ পলিসি প্রকাশ করল কর্নাটক সরকার। তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হল। এই সুবিধা শুধু মাত্র সেই সমস্ত স্টার্টআপের জন্য যারা সরকারের অংশীদার।

রাজ্য সরকার কেন স্টার্টআপ পলিসি ২০১৬ তৈরি করল?

১. গ্লোবাল স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম রেঙ্কিং রিপোর্ট ২০১৫ এর রিপোর্ট বলছে, বেঙ্গালুরু ৩,১০০ থেকে ৪,৯০০ কার্যক্ষম টেক স্টার্টআপের আঁতুড়ঘর।

২. প্রথম ২০টি ইকোসিস্টেমের মধ্যে এক্সিট ভলিউম এবং ভিসি ইনভেস্টমেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ডের সাক্ষী এই রাজ্য।

৩. ২০১২ তে ১৫তম স্থান থেকে এখন চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।

৪. গ্লোবাল ইকোসিস্টেমে থাকার জন্য বেঙ্গালুরু একমাত্র শহর।

৫. আই ফোর পলিসির অধীনে উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিতে সরকার ইনকিউবেশন স্পেস তৈরি করবে।

৬. চাকরি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ বান্ধব টেকনোলজি

পলিসির অধীনে স্টার্টআপের সংজ্ঞা

১. কোনও স্টার্টআপই ৪ বছরের বেশি পুরনো হবে না

২. কর্নাটকের রেজিস্ট্রেশন হতে হবে

৩. সংস্থার কর্মীর ৫০ শতাংশ কর্নাটকে কাজ করতে হবে

৪. সংস্থার রেভিনিউ ৫০কোটি ছুঁলে সুবিধা তুলে নেওয়া হবে

পলিসির উদ্দেশ্য

১. বিশ্বমানের স্টার্টআপ হাব তৈরি করা

  • ২০,০০০ টেকনোলজি স্টার্টআপের বৃদ্ধিতে গতি আনা
  • শুধু কর্নাটকেই ৬০০০ প্রোডাক্ট স্টার্টআপ তৈরি করা
  • বিভিন্ন ফান্ডের ২০০০ কোটি টাকার ফান্ড চালু রাখা
  • সামাজিক প্রভাবের মাধ্যমে অন্তত ২৫ টি ইনোভেটিভ টেকনোলজি সলিউশনকে সুবিধা দেওয়া

২. নিউ এজ ইনকিউবেশন নেটওয়ার্ক

  • এই প্রোগ্রামের অধীনে ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের প্রজেক্টের জন্য নানা পরামর্শ এবং প্রজেক্ট পিছু তিন লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
  • আন্তর্জাতিক স্তরে স্টার্টআপের জন্য এই পড়ুয়াদের নির্বাচিত করা হবে।
  • এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিই প্রত্যেক জেলার স্টার্টআপের কেন্দ্র হবে

৩. গবেষণা এবং উন্নতি (R&D) কে উৎসাহিত করা

  • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ৩ বছরের জন্য টেকনোলজি বিজনেস ইনকিউবেটরস (TBIs) পড়ার সবরকম সাহায্য করবে রাজ্য সরকার।
  • TBI এমন এক সোসাইটি হবে যার শক্ত ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিক কোলাবোরেশনের ভিত থাকবে।
  • নতুন ধারার প্রযুক্তি যেমন রোবোটিকস, থ্রি ডি প্রিন্টিং এবং আইওটি-এর বাণিজ্যিকীকরণ।

৪. আইডিয়া স্টেজ ফান্ডিং

  • আইডিয়া তৈরির স্তরেই যাতে আর্থিক সাহায্য দেওয়া যায় তার জন্য ফান্ড তৈরি।
  • রাজ্য সরকারের লঞ্চ করা পোর্টালের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলিকে আবেদন করতে হবে।
  • অনুদান TBIs এর মাধ্যমে দেওয়া হবে।

৫. পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে ইনকিউবেটর পরিকাঠামো তৈরি

  • অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ইনকিউবেটর
  • টেন্ডারের মাধ্যমে পার্টনার ঠিক করা
  • ইনকিউবেটররা নিউ এজ ইনকিউবেশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করবে

৬. ফান্ডের ফান্ড

  • ভেঞ্চার ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য টাকা ঘোরানো হবে
  • এনজের স্তরের ফান্ডিংয়ের জন্যও এটা ব্যবহার হবে

. পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন করতে হবে নিলামের মাধ্যমে

৭. উদ্ভাবনকে সামাজিক প্রভাবের জন্য কাজে লাগানো

  • প্রত্যেক বছর ৫টি আইডিয়া বেছে নেওয়া, যার মাধ্যমে সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় খানিকটা প্রলেপ দেওয়া যায়।
  • প্রভাব ফেলবে এমন ব্যাবসার জন্য আইডিয়া তৈরি করতে হবে

৮. স্টার্টআপগুলিকে ইনসেনটিভের ভরসা দিতে হবে

  • রাজ্য সরকারের ৭টি আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ইনকিউবেটরের স্টার্টআপগুলিকে স্ব-শংসা ফাইলের অনুমতি দিতে হবে
  • .সরকারের স্টার্টআপ সেলের মাধ্যমে ভরসা যোগাতে হবে

রাজ্যের স্টার্টআপগুলির জন্য কর্নাটক সরকারের বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের তিন ভাগের এক ভাগ স্টার্টআপ আসে কর্নাটক থেকে। রাজ্যে বাণিজ্যের যত পলিসি রয়েছে রাজ্য সরকার তার সবকটিকে একত্রিত করে স্টার্টআপগুলির জন্য তৈরি রাখতে চাইছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আর কলেজগুলিতে ফস্টার এন্টারপ্রনারশিপের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে বেশকিছু ইনকিউবেটর খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন পলিসি অনুযায়ী স্টার্টআপ যদি অনুমোদিত ইনকিউবেটরের অধীন হয় তার জন্য সুখবর হল, প্রতিবছর মার্কেটিংয়ের খরচ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হবে। GoK অনুমোদিত হলে সার্ভিস ট্যাক্স বেনিফিটও রিইমবার্স করা হবে। কিছু কিছু ইনকিউবেটর পেটেন্ট গৃহীত হলে পেটেন্ট ফিলিংয়ের খরচ ২ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিইমবার্স হবে। বিশেষ সুবিধা দিতে সরকার ইনকিউবেটরে ১০ শতাংশ সিট সংরক্ষিত মহিলাদের জন্য। পলিসির উদ্দেশ্য হল রাজ্যে ৬ লক্ষ প্রত্যক্ষ চাকরি এবং ১.২ মিলিয়ন পরোক্ষ চাকরির সুযোগ তৈরি করা। শর্ত একটাই। স্টার্টআপের কর্মীদের ৫০ শতাংশ কর্নাটকে কর্মরত হতে হবে।নির্বাচনের এটাই একমাত্র শর্ত। ভারি ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী আরভি দেশপাণ্ডে বলেন, প্রযুক্তিগত পলিসি তৈরিতে কর্নাটর কিংবদন্তী।

ফান্ডের ফান্ড আর তার পরিমান জানতে ভেঞ্চার কেপিটালরা ঘোষণার অপেক্ষায় আছে। আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে তাদের। ইনভেস্ট কর্নাটকা মিটে হয়ত ঘোষণা হবে। কর্নাটক তেমন স্টার্টআপ চাইছে যারা স্বাস্থ্যক্ষেত্র, ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা মেটাতে পারে। ব্যাবসা বাড়াতে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি যেমন রোবোটিকস এবং থ্রিডি প্রিন্টিং চায় রাজ্য।

কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার স্টার্টআপ নিয়ে আলাদা পলিসি রয়েছে। কেরল সরকারের স্টার্টআপ পলিসি, কেরেলা আইটি মিশন, ২০১৪ সালে ঘোষণা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্টার্টআপে ৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। তেলেঙ্গানা ইনকিউবেশন সেন্টার লঞ্চ করে আর অন্ধ্র লঞ্চ করেছিল ইনোভেশন পার্ক। বলা হয় এই রাজ্যগুলি ভেঞ্চার ফান্ডের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলিকে সাহায্য করতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। শুধুমাত্র গুজরাট এবং কর্নাটকের সাফল্যের রেকর্ড আছে। কর্নাটকের ফান্ড, কর্নাটকা ইনফরমেশন টেকনোলজি ফান্ড এবং গুজরাটের ভেঞ্চার ফিন্যান্স লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে টিকে রয়েছে।

একটা বিষয় পরিষ্কার, কর্মসংস্থান তৈরি করবে এমন পলিসি সবসময় জনপ্রিয়। সরকার ব্যবসায়ীদের ইনকিবেটর তৈরির আমন্ত্রণ জানাবে, টেন্ডারের মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হবে। এই পদ্ধতির মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, রাজ্য যে স্টার্টআপ পলিসি তৈরি করে দিল, সারা দেশে সেই তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু এই পলিসিকে দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে। সমাজ, শেয়ার হোল্ডার এবং সর্বোপরি কর্মীদের জন্য লাভজনক হবে, সেই মাপকাঠিতেই পলিসির সাফল্য বিচার্য হবে।

লেখক-বিশাল কৃষ্ণ

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস