শোকাহত বাংলা, প‌্রয়াত মহাশ্বেতা

0
প্রয়াত মহাশ্বেতা দেবী। কলকাতার বেল ভিউ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সওয়া তিনটে নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। গত দু মাস তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বার্ধক্যজনিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে রক্তে সংক্রমণ এবং কিডনি অকেজো হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্টও ছিল। 

মহাশ্বেতা তার প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করেন শান্তিনিকেতনে, বিশ্বভারতীতে। সাহিত্য আকাদেমি, পদ্ম বিভূষণ ও ম্যাগসেসে জ্ঞানপীঠ, সার্ক সাহিত্য পুরস্কারসহ আরও বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর লেখা শতাধিক উপন্যাসের মধ্যে হাজার চুরাশির মা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। তার কলম চিরকাল বাংলার মানুষকে হক কথা সোজাসাপটা বলতে শিখিয়েছে। কোদালকে কোদাল বলতে শিখিয়েছেন সদ্য প্রয়াত এই লেখক। আজীবন আপোষহীন লড়াই করে গেছেন। শবর খেড়িয়া শুধু নয় আপামর নিম্ন বর্গের মানুষের পাশে থেকেছেন আমৃত্যু। তাঁর লেখার ভাষা, বিষয় সব সময়ই বিদ্যুতের মত স্পর্শ করেছে কায়েমি স্বার্থের মানুষদের। তিনি ছিলেন বাংলার মানবাধিকার আন্দোলনের মুখ। উপজাতির মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আশা, ভরসা, ভালোবাসার জন। তাঁর হাত ধরেই অধিকারের লড়াইটা লড়তে শিখেছে বাংলার অগণিত দরিদ্র পিছিয়ে পড়া মানুষ। সমাজের অগ্রসর শ্রেণিকে অনগ্রসরদের সম্পর্কে সচেতন করেছেন। এই লড়াই লড়তে গিয়ে শুধু যে তিনি সাদায় কালোয় তাঁর সাহিত্যকে ব্যবহার করেছেন তাইই নয়, প্রয়োজনে পথে নেমেছেন। সামাজিক রাজনীতির মঞ্চ তৈরি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানান আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাইকে নিয়ে লিখে তিনি প্রথম সাহিত্য জগতের নজর কাড়েন। বাবা মনীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং তাঁর কাকা ছিলেন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটক। স্বামী নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য এবং তাঁদের সন্তান প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক নবারুণ ভট্টাচার্য। শুধু বাংলায় নয়, বর্তমান সময়ে ভারতের সবচেয়ে প্রবীণ সাহিত্যিকদের অন্যতম ছিলেন মহাশ্বেতা। মহাশ্বেতা দেবীর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই এ দিন শোকস্তব্ধ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালটিতে। অনুরাগী, সাধারণ মানুষ তো বটেই, রাজ্যের মন্ত্রী, শিল্পী, সাহিত্যিকরাও একে একে হাসপাতালে পৌঁছন। শোকবার্তা আসতে শুরু করে গোটা দেশ থেকে। সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রের জগৎ থেকে তো বটেই, রাজনৈতিক শিবির থেকেও অনেকে শোক জ্ঞাপন করেন। তাঁর মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর ভাবে শোক জ্ঞাপন করেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান শোক জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও লেখিকার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টুইটারে লিখেছেন, ‘‘সমবেদনা, সাম্য এবং ন্যায়ের কণ্ঠস্বর আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, গভীর ভাবে শোকাহত।’’