কলকাতায় এখন স্টার্ট আপ-ই ট্রেন্ড

কলকাতা মানেই শিল্প আর সংস্কৃতির শহর। ইতিহাস আগলে বসে থাকা এক ৩২৫ বছর অতিক্রান্ত বৃদ্ধা এখন শুরুয়াতি ব্যবসা নিয়ে মেতে উঠেছে। সবে শুরু। অনেক দৌড় বাকি আছে কলকাতার।

0

হাওড়া ব্রিজ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ফুটবল, রসগোল্লা, বইমেলা, কলেজস্ট্রিট কফিহাউস, আঁতলামো, রাজনীতির এই শহর এখন পাল্লা দিতে তৈরি স্টার্টআপ সিটি বেঙ্গালুরুর। তথ্য প্রযুক্তিতে ভর দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে কলকাতা। কলকাতার তনয় তনয়ারা তৈরি করছেন অসাধারণ সব অ্যাপস। নতুন আইডিয়ায় টগবগ করছে সব ফুড জয়েন্ট। তবুও স্টার্ট অাপ বা শুরুয়াতি সংস্থার কথা উঠলে এই শহরের ছবিটা এখনও ম্লান। সরেজমিনে এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখল ইওর স্টোরি। চোখে পড়ল পরিবর্তনের ছবি। ট্রেন্ড বেশ ইতিবাচক। আমরা সন্ধান পেয়েছি এমন কিছু উদ্যোগীর যাঁরা কলকাতায় ট্রেন্ডটা সেট করতে চাইছেন। নিচে তেমনই কয়েকটি স্টার্ট আপের কথা তুলে ধরা হল।


ট্যাক্স মন্ত্রা (Tax Mantra) - স্টার্টঅাপ ও SMB-দের আইনি ও কর সংক্রান্ত পরিষেবা দিতে ট্যাক্স মন্ত্রা গড়ে তুলেছেন অলোক পাতনিয়া। সল্টলেকে অফিস। সংস্থার লক্ষ্যই হল কর সংক্রান্ত যে কোনও কাজকে যতটা সম্ভব সহজ ও কাগজবিহীন করা। ৫ হাজারের বেশি সংস্থাকে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে এই কোম্পানি। এছাড়া এর পরিষেবার আওতায় রয়েছে আট হাজারেরও বেশি সংস্থা।

বাই হাটকে (Buy Hatke) - খড়গপুর আইআইটি'র ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র থাকাকালীনই বাই হাটকে গড়ে তোলেন গৌরব দাহাকে, প্রশান্ত সিং এবং শ্রীকান্ত সেতুমাধবন। অনলাইন কেনাকাটায় জিনিসের তুলনামূলক দরদামের ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিনের ভূমিকা নেয় বাই হাটকে।

মিহাপ'স নেক্টর (Mihup's Nectar) - নেক্টর হল SMS ভিত্তিক Personal Mobile Assistant (PMA)। এই ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনের কাজই হল ইউজাররা যাতে চাইবা মাত্রই দরকারি তথ্য পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা। থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে থাকে এই সার্চ ইঞ্জিনটি। এখনও পর্যন্ত ইউজার হিটের সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি। মাসে বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ।

সিবিয়া অ্যানালিটিকস (SIBIA Analytics) - অংশুমান ভট্টাচার্যের গড়ে তোলা সিবিয়া অ্যানালিটিকস হল ক্লাউড হোস্টেড প্রেডিকটিভ অ্যানালিটিকস সলিউশনস স্টার্ট আপ। ডিপ প্রেডিকটিভ মডেলিংয়ের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ইনটেলিজেন্স দিয়ে থাকে এই সংস্থা। সংস্থার মূল দক্ষতা অ্যালগোরিদম ও মডেলিংয়ে। রিটেল ও কনজিউমার ব্র্যান্ডগুলির সঙ্গেই মূলত কাজ করে থাকে সংস্থাটি।

মাইন্ড আওয়ার (Mind Hour) - দুই দম্পতি মিলে তৈরি করা মাইন্ড আওয়ার হল শিক্ষা-প্রযুক্তি মূলক (ED-TECH) একটি সংস্থা। মাইন্ড গেমের মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়াশোনাকে আকর্ষণীয় করার ব্যবস্থা করেছে সংস্থাটি। এই সংস্থায় রেজিস্টার্ড ইউজারের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি।

আই কিওর (iKure) - যে সব গ্রামীণ এলাকায় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব রয়েছে, সেখানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে হেলথকেয়ার স্টার্ট আপ আই কিওর টেকসফ্‌ট। সুজয় সাঁতরা পরিচালিত এই সংস্থা এমন এক ঘরোয়া সফ্‌টওয়্যারের ব্যবস্থা করেছে যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে।

সার্জেরিকা (Surgerica) - ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে অমিত ভগতের তৈরি সংস্থা সার্জেরিকা। প্রায় ২ লক্ষ মার্কিন ডলারের একটি তহবিলও গড়ে তুলেছে সংস্থাটি। সংস্থার ওয়েবসাইটে মেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতালের সুলুকসন্ধান।

ওয়াও! মোমো (Wow! Momo) - ভারতীয়দের খাদ্যতালিকায় মোমোকে আরও ছড়িয়ে দিতে 'ওয়াও! মোমো' গড়ে তোলেন সাগর দারিওয়ানি এবং বিনোদ হোমাগাই। লগ্নিকারীদের সর্বভারতীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান এঞ্জেল নেটওয়ার্কের (IAN)-র থেকে উদ্যোগ পুঁজিও পেয়েছে সংস্থাটি। লক্ষ্য আগামী দুই বছরের মধ্যে আউটলেটের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০টি করার।

আউটবক্স (Outbox) - উপহারসামগ্রী, কেক, ফুল ইত্যাদি কলকাতার মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সহজে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে থাকে তরুণ,অল্পবয়স্ক কয়েকজনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংস্থা আউটবক্স। গড়ে তোলা হয়েছে একটি কলসেন্টার। শুরুটা ভালোই হয়েছে এই সংস্থার। পরিষেবা কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সেটাই আপাতত লক্ষ্য।

ফ্যাশনওভ (Fashionove) - শরদ কুমার এবং তনুশ্রী খান্ডেলওয়াল মিলে গড়ে তুলেছেন ফ্যাশনওভ। এই মুহূর্তের ফ্যাশন কী, কোথায় গেলে মিলবে, কী দামে মিলবে এই সমস্ত তথ্য দিয়ে থাকে এই পোর্টালটি। মূলত স্থানীয় ফ্যাশন স্টোর ও বুটিকের সঙ্গে ক্রেতাদের সংযোগ ঘটিয়ে থাকে সংস্থাটি। প্রায় ৮০০ বুটিক রয়েছে সংস্থার তালিকায়।

জাস্টশপ টোয়েন্টি ফোর (Justshop 24) - এটি একটি ই-কমার্স পোর্টাল। কলকাতা ও হাওড়ায় গ্রসারি আইটেম ঘরে-ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে সংস্থাটি। উৎকর্ষ লোহিয়া, চেতন শেঠি এবং পূরব জৈন মিলে গড়ে তোলা সংস্থাটি দৈনিক প্রায় ৩০টির মতো ডেলিভারি করে থাকে।

প্যাকার অ্যান্ড পাল্টাও ( Packr and Paaltao) - একই ছাতার তলায় এই দুই সংস্থা গড়ে তুলেছেন অর্পণ দাস। 'প্যাকার' ভারতের যে কোনও জায়গায় ক্লায়েন্টের চাহিদা মতো জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে থাকে। অন্যদিকে 'পাল্টাও' এমন এক মার্কেট প্লেস যেখানে বিভিন্ন হস্তশিল্প, ভিন্টেজ সামগ্রী বিক্রি করা হয়।

কলকাতায় সদ্য তৈরি সংস্থা বা স্টার্ট আপের এমন বেশ কয়েকটি ছবি ধরা পড়েছে আমাদের চোখে। QSR Segment-এও রয়েছে বেশ কয়েকটি স্টার্ট আপ। যেমন, Yellow Straw, Chai Break, Kaidi Kitchen, Tyre Patty. খুব শিগগিরই বাজারে আসছে কলকাতার আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা। সেসব ক্রমশ প্রকাশ্য।

Related Stories