ব্লুশিফট-এর সফটওয়্যার যেন গোয়েন্দা ব্যোমকেশ

0

ক্রেতা নাকি খড়ের গাদায় লুকিয়ে থাকা ছোট্ট সূঁচের মতো। তাকে নিয়ে কত প্রবাদ! মজা করে বলা হয় যত বড় বাজার, ক্রেতার সংখ্যা যত বেশি, খড়ের গাদা ততটাই বড়। মানুষ নামের অসংখ্য – শত কোটি মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ‘টার্গেট অডিয়েন্স’। তাকে খুঁজে পেলেই কেল্লা ফতে।

এতদূর পড়লে মনে হতেই পারে যে ক্রেতা খুঁজতে গেলে তো ফেলু মিত্তির কিংবা ব্যোমকেশ বক্সিকে দরকার। না, কথাটা খুব একটা ভুল নয়। সম্প্রতি ব্লুশিফট নামের স্টার্ট আপ বাজারে এনেছে ক্রেতা সন্ধান সফটওয়্যার। তথ্য পরিসংখ্যান ঘেঁটে যা নাকি উৎপাদক সংস্থাকে পৌঁছে দিতে পারে তাদের টার্গেট অডিয়ান্সের কাছে।

সেটা ২০১৪ সাল। আমেরিকায় কসমিক্সের (এখন ওয়ালমার্ট ল্যাপস)। লোভনীয় চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে মাণ্যম মাল্লেলা, বিজয় চিত্তুর এবং মেহুল শাহ নামের তিন টেক স্যাভি খুলে ফেললেন মার্কেটিং অটোমেশন সংস্থা। ধ্যানজ্ঞান তাদের একটাই খড়ের গাদায় লুকিয়ে থাকা সুঁচটাকে খুঁজে বের করতে হবে। ভাল পণ্য তৈরির পরও, ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে না পারায় কত যে সংস্থা ধুঁকে মেরেছে, তার সাক্ষী শুধু মহাকাল। ব্লুশিফটের দাবি, তাদের তৈরি সফটওয়্যার ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে সেতু হিসাবে কাজ করছে। প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোটা টাকা লগ্নি। সম্প্রতি স্টর্ম ভেঞ্চার নামের আরও এক বিনিয়োগকারী সংস্থা তাদের দিয়েছে ভারতীয় অঙ্কে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা।


কিন্তু কথা হল স্টার্ট আপের তো পৃথিবীতে অভাব নেই। তবে আমেরিকা নিবাসী থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের স্টার্ট আপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের এত আগ্রহ কেন? আসলে বাজারে সামগ্রিক ক্রেতাসমষ্টিকে নিয়ে যে তথ্য ভাণ্ডার (বিগ ডেটা) তা অত্যন্ত জটিল। ক্রেতারা বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক শ্রেণি এবং উপশ্রেণিতে বিভক্ত। ফলে তথ্য ভাণ্ডার ঘেঁটে সঠিক ক্রেতার কাছে পৌঁছানোটা কঠিন কাজ। স্টর্ম ভেঞ্চারের মতে, ‘‘ব্লুশিফটের তৈরি সফটওয়্যারের দৌলতে মার্কেটিং অটোমেশনের জগতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিগ ডেটাকে ব্যবহার করা এখন অনেক অনেক সহজ কাজ। টার্গেট অডিয়েন্সকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে।’’ কিন্তু প্রশ্ন হল ক্রেতাকে চিহ্নিত করার পর তার কাছে পৌঁছানো যাবে কী করে। ব্লুশিফটের বিজয় চেত্তুরের কথায়, ‘‘তাদের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্রেতাকে চিহ্নিত করার পর যে কাজটা বাকি থাকে তা তুলনায় অনেক সহজ। ক্রেতার মন জয় করা। ই-মেল, ফেসবুক, টুইটার, মেসেজ কিংবা মোবাইল পুশ নোটিফিকেশনের মতো বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্রেতার কাছাকাছি বিক্রেতাকে পৌঁছে দিচ্ছে ব্লুশিফ

ট। গড়ে উঠছে ক্রেতা বিক্রেতার নিবিড় সম্পর্ক।’’

ব্লুশিফটের দৌলতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয়েছে ই-কর্মাস সংস্থার। ব্লুশিফট জানিয়েছে কেনাকাটার জন্য যে ক্রেতারা একবার আসেন (ভিজিটার) তাদের রিপিট বায়ারে পরিণত করাটাই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু এরপর।

বিনিয়োগকারীরা তো টাকার ঝুলি উপুড় করে দিচ্ছেন, তবে আর অসুবিধা কোথায়? প্রাথমিক সাফল্যকে অবশ্য খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না ব্লুশিফট। তারা বলছে সফটওয়্যারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। এখনও পথের অনেকটাই বাকি...