আরও বেশি সামাজিক মানুষ চায় ‘THANKSHIP’

0

কখনও কারোর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন? হিসেবের নিরিখে হয়তো খুব ছোট আপনার কাজ। তার জন্য কি কেউ কখন আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন? উত্তর যদি হয় না, তাহলে এবার সেটাই হওয়ার পালা। এবার আপনার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আপনাকেই ধন্যবাদ জানাবে একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্যই যার নামকরণও করা হয়েছে ‘ থ্যাঙ্কশিপ’। এই ধারনাকে সঙ্গে নিয়েই ‘থাঙ্কশিপ’ শুরু করেছিলেন দুই ভাই। বড়দিনের উপহার স্বরূপ ২৫ ডিসেম্বর,২০১৪ সালে এই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক শুরু করেছিলেন ললিত সাগর ও অজয় সাগর। নেটওয়ার্কের কাজ এখন বিটা ভার্সানে চালিয়ে যাচ্ছেন দুই ভাই। এখন পর্যন্ত এই মিনিমাম ভ্যালু প্রোডাক্টটি ব্যবহার করছেন প্রায় ১৫০ জন।

সামাজিক কাজের জন্য কেউ কখনও কাউকে আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে থাকেন না। ফলে এধরনের কাজের জন্য কেউই সেইভাবে এগিয়েও আসেন না। সামাজিক কাজের মধ্যে দিয়েও যে কাউকে ধন্যবাদ জানানো যায় তা ভেবেছিলেন অজয় সাগর । তাঁর মতে, ‘সকলেই জানেন সামাজিক কাজের মধ্যে দিয়ে কখনই ধন্যবাদ পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই সামাজিক কাজ থেকে পিঠ বাঁচিয়ে চলেন। আমরা তাই এই কাজের ধরনে পরিবর্তন আনতে চাই। যেখানে মানুষ সামাজিক পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ হবেন।‘ কিছুটা আবেগেই দুই উদ্যোক্তা জানালেন , ‘থ্যাঙ্কশিপ’ এমন হাতিয়ার যার মধ্যে দিয়ে কাউকে ধন্যবাদ জানানো যাবে। শুধু তাই নয়, সামাজিক ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি কিংবা প্রশংসাও অন্যকে জানানোর সুযোগ থাকবে। একটা গল্প বলা যাক, আশুতোষ। দিল্লির আশুতোষ, শীতে বেশ কিছু ফুটপাতবাসীকে কম্বল এবং শীতের জামা দিয়ে আসেন। কোনও এক বন্ধুর মাধ্যমে সেই কথা জানতে পারে অজয় ও তাঁর ভাই। তারপরেই থ্যাঙ্কশিপে তারা আশুতোষের কাজ তুলে ধরেন। এরপরেই ফোন আসে আশুতোষের। সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি তাঁর কাজকেও কেউ তুলে ধরতে পারে এভাবে। প্রশংসায় আপ্লুত হয়ে প্রতি বছরই আশুতোষ শীতে ফুটপাতবাসীদের জামাকাপড় দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে অজয়ের বন্ধুরাও এই সামাজিক কাজ দেখে উৎসাহিত হয়।

ফেসবুক ,লিংকেড থাকতে থ্যাঙ্কশিপ কেন?

আজকের জেনারেশনের প্রায় সকলেই নিজেদের সামাজিক জীবন তুলে ধরার জন্য ফেসবুক ব্যাবহার করে থাকেন। নিজেদের অবস্থান এবং সামাজিক জায়গা তৈরি করাই সেখানে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। তাই সামাজিক কাজ ও তার প্রশংসার জায়গা সেখানে বিশেষ গুরুত্ব নাও পেতে পারে।

অন্যদিকে লিংকেড অনেক বেশি গুরুত্ব দেয় মানুষের পেশাদারি প্রোফাইলের ওপরে। পেশাদারিভাবে কাউকে চেণা এবং তাঁর নাম অন্য কোথাও সুপারিশের কাজ করে এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কটি।

থ্যাঙ্কশিপের কাজ এখানেই বেশ অভিনব। ধরে নেওয়া যাক একজন কেউ সমাজের জন্য কিছু ভাল কাজ করেছেন। সেখানে তার প্রোফাইল জুড়ে থাকবে ধন্যবাদ দেওয়া চিঠি, পরিচিতি এবং কাজের প্রশংসার নানা চিত্র থাকবে। খানিকটা ফেসবুকের মতই এখানে ওয়ালে থাকবে মেডেল, সার্টিফিকেট । এমন কিছু যা কোনও ব্যক্তিকে সমাজের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে। এই সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক কাজের জন্য কাউকে উৎসাহিত করার প্রক্রিয়াটি খুব সহজ ছিল না। আক্ষেপের সুরে থ্যাঙ্কশিপের উদ্ভাবক অজয় সাগর জানালেন, ‘সমাজের জন্য যারা কাজ করে থাকেন, তাদের পক্ষে কখনই সম্ভব নয় নিজেদের কাজকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি দেওয়া। পরিচিতি না পেয়েই তাদের কাজ হারিয়ে যায়। আড়ালে চলে যায়। ঠিক একারণেই সেভাবে কোনও সমাজকর্মী দেখা যায় না।থ্যাঙ্কশিপ তাদের হয়ে পরিচিতি দেওয়ার কাজ করে। একটা ছোট্ট ধন্যবাদ, তাদের সামাজিক কাজে আরও উৎসাহ দেয়।‘

কাদের জন্য এই থ্যাঙ্কশিপ ?

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায় যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাঁরা এটাও খুবই ভালমতো জানেন ফেসবুক এবং ট্যুইটারের মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করা যায়। সেখানে থ্যাঙ্কশিপ শুধুমাত্র ইতিবাচক কথাই তুলে ধরে। থ্যাঙ্কশিপের মাধ্যমে যে কেউ নিজের এবং অন্যের মানবিকতার কথা তুলে ধরে। আর বেশি মানুষের সমাগম করতে থ্যাঙ্কশিপ জি-মেল এবং ট্যুইটারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সবকটি মাধ্যমে এবং ফেসবুকের মধ্যে দিয়ে তারা নিজেদের এবং আত্মীয় পরিজনদের মানবিকতার কথা তুলে ধরতে পারেন। এমনকি অফিসের সহকর্মীর কাজের নানা দিক।

এইভাবেই একজন সামাজিক কর্মীর সাম্প্রতিক নানা কাজ তুলে ধরা যায়। ওয়ালে নানান টেস্টিমনিয়ালস লেখা যায় । সামাজিক কর্মীকে আরও উৎসাহিত করতে তাদের ইউসফুল, হেলফুল, ক্রিয়েটিভ, লিডার নানা ট্যাগ দেওয়াও সম্ভব হবে। শুধু কোনও ব্যক্তি নয় থ্যাঙ্কশিপের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাজেরও প্রশংসা করা যাবে।

থ্যাঙ্কশিপের ভবিষ্যৎ কি?

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে অজয় ও ললিত সাগর থ্যাঙ্কশিপের মাধ্যমে কার্ড এবং উপহার পাঠানোর ও কথা ভাবছেন। এক্ষেত্রে তারা নানা সোশ্যাল লিঙ্ক দিয় (ফেসবুক, ট্যুইটারের)নানা ব্লগ ও ওয়েবসাইটে ধন্যবাদ জানাতে পারবে। এইভাবেই থ্যাঙ্কশিপ তার কাজের বিস্তার আরও ছড়িয়ে দেবে।

থ্যাঙ্কশিপের প্রয়াস। প্রথম এবং প্রধান কাজ হল কোটি কোটি মানুষকে উৎসাহ দেওয়া যাতে তাঁরা সামাজিক নানা কাজে এগিয়ে আসেন। তাঁরাই যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম তা তাঁদের বোঝানো। নিজেদের কাজকে এভাবেই সাধারনের কাছে সামাজিক কাজের ধারনা তাঁরা পৌঁছে দিতে চায়। সমাজকর্মীর সংখ্যা যাতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।