খেলাধুলো সম্পর্কিত তথ্যের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম-প্লেএনলাইভ

0

নকুল কাপুর ও রাহুল ওয়াধ্যা, দুই বন্ধুর বেড়ে ওঠা রাজধানী শহর দিল্লিতে। আগ্রহের জায়গা, খেলাধূলা। নকুল একজন নিয়মিত রানার ও সাইক্লিস্ট আর রাহুল তাঁর সপ্তাহান্তের দিনগুলি কাটান বাস্কেটবল কোর্টে। অন্যান্য খেলার পাশাপাশি টেনিসটাও রপ্ত করে নিতে চাইছিলেন নকুল, খুঁজছিলে উপযুক্ত ট্রেনিং সেন্টার কিন্তু অনলাইন সার্চে মিলছিল না প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেনার বা সুযোগসুবিধা। অন্যদিকে রাহুলকে বারবারই শহর বদলাতে হত কাজের সূত্রে, নতুন শহরে বাস্কেটবল কোর্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী জিম খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হত প্রতিবারই। নিজেদের এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে করতেই ভাবনা এমন এক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের, যেখানে সহজেই মিলবে খেলাধূলার ট্রেনিং সংক্রান্ত যাবতীয় হদিশ। আর সেখান থেকেই শুরু প্লেএনলাইভ।

প্লেএনলাইভে আপনি পাবেন খেলাধুলোর প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। বর্তমানে মোট পাঁচটি শহরে কাজ করছে এই সংস্থা। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রয়েছে বিভিন্ন কোচিং অ্যাকাডেমি, স্পোর্টস্ ক্লাব, জিম ও ফিটনেস সেন্টারের ঠিকানা, যোগাযোগ নম্বর ও ছবি (পাওয়া গেলে)। সরাসরি বুকিংএর সুবিধাও রয়েছে গ্রাহকদের জন্য, প্রায় ৯০০০ টি কোর্সের ক্ষেত্রে রয়েছে ফ্রি ট্রায়ালের সুযোগ।

প্রায় ২৫টি খেলা ও ৫০ এরও বেশি ফিটনেস্ অ্যাক্টিভিটির তালিকা রয়েছে প্লেএনলাইভে। যোগব্যায়াম, আত্মরক্ষা, ডায়েটেশিয়ান, নিউট্রিশনিস্ট, ফিটনেস সহ বিভিন্ন বিষয় ব্যক্তিগত ট্রেনিং সেশন বুক করা যায় এই সাইটের মাধ্যমে। খেলার মাঠ বা কোর্টও বুক করা সম্ভব, রয়েছে মাসিক পাসের সুবিধা।

ইতিমধ্যেই ১০০ জনেরও বেশি গ্রাহক পাসের জন্য আবেদন করেছেন। চালু হয়েছে বেটা ভার্সনও। “পাঁচটি শহরের বিভিন্ন জিমের সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে, একজন গ্রাহক মাসিক পাস নিয়ে এর যেকোনও একটি জিমে যেতে পারেন, কেবল আগে থেকে বুক করে রাখতে হবে নিজের প্রয়োজনমতো সময়, জানালেন নকুল।


নকুল কাপুর
নকুল কাপুর

নকুল আর রাহুলের যৌথ উদ্যোগে শুরু প্লেএনলাইভ। আইআইএম(দিল্লি)থেকে পাস করে ২০১২-এ একটি অক্সিজেন সার্ভিস কোম্পানিতে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে কেরিয়ার শুরু করেন নকুল কাপুর। তার আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। রাহুল ওয়াধ্যার স্নাতকস্তরে পড়াশোনা দিল্লির হংসরাজ কলেজে বাণিজ্যশাখায়। তারপর কাজ শুরু করেন ভারতী এয়ারটেল-এ ফিক্সড অ্যাসেটস ডোমেনে। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে দু’জনই জানতেন আমাদের দেশে ফিটনেস্ ও স্পোর্টস সেন্টার খুঁজে পাওয়া ও বুক করা কতটা সমস্যার, অভাব রয়েছে যোগাযোগের। “আমি যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা এবং এই কোম্পানির কেরাণি থেকে সিইও, সবকিছুই। অফিসের এসি কাজ করছে কি না থেকে ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে পরবর্তী প্রোডাক্টের পরিচিতি, সবটাই আমি দেখি। ভবিষ্যতে প্লেএনলাইভকে পরিণত করতে চাই একটি আন্তর্জাতিক মানের কনজিউমার ইন্টারনেট কোম্পানিতে,” বললেন নকুল। এর আগে রাহুল পেটিএম এর প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট টিমে পেটিএম ওয়ালেট তৈরির কাজ করতেন।

মোট কর্মী সংখ্যা আট, তালিকায় রয়েছে ১০,০০০ এরও বেশি যাচাই করা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগাযোগ। গত তিনমাসে ৫০০০ এরও বেশি গ্রাহক প্লেএনলাইভ থেকে খুঁজে নিয়েছেন নিজেদের প্রয়োজনীয় কেন্দ্র। শুরুতে ছিল শুধুমাত্র ওয়েবভিত্তিক পরিষেবা, কিছুদিন আগে চালু হয়েছে মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই বুক করা যায় নিজের প্রয়োজনীয় সুবিধা।

বর্তমানে বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) মডেলে ব্যবসা করছে প্লেএনলাইভ। যেসব সংস্থা প্লেএনলাইভের মাধ্যমে গ্রাহক পাওয়ার জন্য নাম তালিকাভুক্ত করে তাদের থেকে মাসিক কিস্তিতে টাকা নেওয়া হয়। মার্কেটিং বলতে মানুষের মুখের কথাই। “আমরা মনে করি স্পোর্টস আর ফিটনেস দুটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আমাদের ইউএসপি, ফিটনেসের পাশাপাশি স্পোর্টস ওর ব্র্যান্ডের ওপরও আমরা জোর দিই। যুবরাজ সিং অ্যাকাডেমি অফ এক্সেলেন্স এর সাথে কথাবার্তা চলছে, অন্যদিকে সেহওয়াগ অ্যাকাডেমির সঙ্গে আমরা নিয়মিত ব্যবসা করি ও উন্নতমানের গ্রাহক যোগাযোগ দিই, জাস্ট ডায়ালের মতো পুরোন পোর্টালের থেকেও উন্নতমানের যোগাযোগ,” জানালেন নকুল।


ভারতের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের ক্ষেত্রটি বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের তরফে যোগকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সম্পর্কিত সচেতনতা। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া ক্লাসপাস, ৫৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার সংগ্রহ করেছে চারটি পর্যায়। বিভিন্ন ফিটনেস স্টুডিওয়ে মাসিকভিত্তিতে গ্রাহক হওয়ার সুযোগ ও দৈনিক ব্যয়ামের রুটিন তৈরির সুযোগ রয়েছে ক্লাসপাসে। ভারতের ফিটনেসপাপা, জিমপিক, ফিটারনিটি ১ মিলিয়ন ইউএস ডলার সংগ্রহ করেছে এক্সফিনিটি ভিপি থেকে। এই সেক্টরে নতুন সংযোজন জিমার। ঘন্টার ভিত্তিতে জিম স্লট বুক করার সুবিধা দেয় সংস্থাটি। জাস্ট ডায়ালের মত লিস্টিং প্ল্যাটফর্মগুলিকেও নিজেদের প্রতিযোগী মনে করেন নকুল। স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সেক্টরের উল্লেখযোগ্য সংস্থাগুলির মধ্যে ক্যালোরি ও ফিটনেস ট্র্যাক পরিষেবা প্রদানকারী হেল্দিফাইমি, মাইক্রোম্যাক্স ও পরবর্তী পর্যায় এঞ্জেল বিনয়োগকারীদের থেকে সংগ্রহ করেছে বিনিয়োগ। সুপারফুডের মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করা সংস্থা ট্রুওয়েট ২০১৫ এর মে মাসে সিরিজ-এ বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে কালারি ক্যাপিটালের থেকে। গৌরব জয়সওয়াল ও গুল পানাগ দৌড়কে জনপ্রিয় করতে শুরু করেছেন মোবাইল ফিট ও ফার্স্টরান। বিশাল গোন্ডাল এর গোকি বিক্রি করে ফিটনেস ব্যান্ড। এছাড়াও পাওয়া যায় অনলাইন পার্সোনালাইসড কোচিং। সংস্থাটি সম্প্রতি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে হোয়াটসংঅ্যাপের নীরজ আরোরা ও আমাজনের ম্যাক্রো আর্জেন্টির থেকে।


প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলিকে যাচাই করা বেশ কঠিন ছিল। সাধারণত তিন থেকে চারবার একটি সেন্টারে যেতে হল প্রয়োজনীয় সব তথ্যের জন্য। “আমাদের দারোয়ান, রিসেপশন, কেয়ারটেকার এই প্রতিটা স্তর পেরিয়ে মালিকের কাছে পৌঁছতে হত। অনেক সময়ই সেন্টারগুলি আমাদের ছবি দিতে চাইত না বা আমাদেরও ছবি তুলতে দিত না। কারণ ছবি তুললে যারা সেখানে প্র্যাক্টিস করতেন তাঁরা বিরক্ত হরে পারেন।

তবে পরবর্তীকালে যখন তারা প্লেএনলাইভ থেকে গ্রাহক পেতে শুরু করলেন তখন এই সমস্যাটা অনেকটাই কমে যায়, সেন্টারগুলি নিজেরাই সহযোগিতা করতে শুরু করে। তাছাড়া তারা এটাও বোঝে যে নিয়মিতভাবে এই পদ্ধতিটি চালানো প্রয়োজন যাতে প্লেএনলাইভ প্ল্যাটফর্মে তাদের সম্পর্কিত তথ্য সঠিক থাকে।

বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগ জোগাড় করেছে প্লেএনলাইভ। ভবিষ্যতে আইওএস অ্যাপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর মোবাইল অ্যাপে সংযোজিত হবে টিন্ডার ফর স্পোর্টস। এর মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে বিভিন্ন খেলার সঙ্গী।