হ্যান্ডশেক করতে আগ্রহী রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

0

১৬ জানুয়ারি বিগ ডে। তার আগেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্টার্টআপ সংস্থাগুলির দিকে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়েই স্টার্টআপ সংস্থাগুলির যেকোনও জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে চায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাই তারা খুলে ফেলেছে একটি হেল্পলাইন। দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে যখন কেন্দ্রীয় সরকার মাথা ঘামাতে শুরু করেছে এবং বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সেবি ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে উপকৃত হবেন দেশের ছোটো এবং মাঝারি মাপের আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সেই সব স্টার্টআপ যারা ১৯৯৯ সালের ফেমা আইন মোতাবেক দুপারের ভারতীয়দের সীমান্ত পারাপার করা মুদ্রা ব্যবসায় লগ্নি করেন। কিংবা ব্যবসার খাতিরে বৈদেশিক মুদ্রা আদান প্রদান করে থাকে তারা সকলেই এতে উপকৃত হবেন। তাদের কাজের জটিলতা কমাতেই এই হেল্পলাইন।

প্রসঙ্গত গত বছর অগস্টে স্টার্টআপ সংস্থাগুলির কথা মাথায় রেখেই সেবি তাদের লিস্টিংয়ের নিয়ম কানুনে বেশ কিছু রদবদল করেছিল, পাশাপাশি ইকমার্সের নতুন উদ্যোগগুলির জন্যে দেশীয় শেয়ার বাজারে পৃথক একটি প্লাটফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ফান্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্টার্টআপ সংস্থাগুলির সুবিধেই হয়। পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্কও স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে বৈদেশিক বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সম্মতি দেওয়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলির পক্ষে বিনিয়োগ সহজ হয়েছে। এ সবই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে মজবুত করার কাজ করছে।

ন্যাসকম এবং জিন্নোভ ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টেন্ট-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে ভারত এখন পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ হাব। এখানে তিন থেকে চারটি নতুন সংস্থা প্রতি দিন তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশই মনে করেন ভারত সরকারের এই বিষয়ে আরও যত্নশীল হওয়া উচিত। এবং সেটা শুরুয়াতি ব্যবসা করমুক্ত করে দেওয়া উচিত।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তে শুধু আন্তঃসীমান্ত লেনদেন কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণকারী স্টার্টআপদেরই সহযোগিতা হবে না বরং আরও সুদূরপ্রসারীও হবে। উপকৃত হবেন সেই সব স্টার্টআপ সংস্থাগুলি যারা দেশের বাইরে তাদের অফিস নিয়ে গেছেন। বিশেষত সিঙ্গাপুরে চলে যাওয়া সংস্থাগুলি এতে উপকৃত হবে। উল্লেখ্য, ভারতে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ঠিকঠাক না থাকার জন্যে ২০১৪-য় ৫৫ শতাংশ স্টার্টআপই সিঙ্গাপুরে অফিস স্থানান্তরিত করেছিল। আর ২০১৫-য় সেই সংখ্যা গিয়ে পৌঁছয় ৭৫ শতাংশে। ট্রেন্ড ঊর্ধ্বমুখী। ফলে কোমর বেঁধে এখনই নামা দরকার। টনক নড়েছে সরকারেরও। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে এএলপির হিসাব রক্ষায় বিশেষ নর্ম ব্যবহার করা শুরু করেছে। এতে সামগ্রী এবং পরিষেবার আদান প্রদানে ট্র্যান্সফার প্রাইস নিয়ে জটিলতাও কেটেছে।

মোটের ওপর মোদ্দা কথা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার আচরণ দিয়ে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তারা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের পরিপন্থী নয়। বরং তারা উদ্যোগপতিদের সাহায্য করতে চায়। তবে সেক্ষেত্রে উদ্যোগপতিদেরও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে নির্দিষ্ট কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা চাই তা জানাতে হবে। ফলে ফাইলের ঘেরাটোপ থেকে মুক্তি কি ফাইনালি পাবেন উদ্যোগপতিরা সেটা কাজ শুরু হলেই টের পাওয়া যাবে।