Alpha Omega জিম শুধু জিম না, আরও কিছু বেশি

এখন হিরো হওয়ার মাপকাঠি। বুলেট গোছের বাইক থাকবে। সাইলেন্সর থেকে আওয়াজ বেরোবে ফ্যাট ফ্যাট করে। রাস্তার মানুষ টের পাবেন হিরো যাচ্ছেন। গাড়ি থেকে নামলে যেন চোখে পড়ে হেল্দি ট্রাইসেপে ফিল্দি উল্কি। এই নিয়ম শহরে যত না তার থেকে ঢের বেশি গ্রামে মফস্বলে। গেলেই টের পাবেন জিম কালচার। জিমে মানে তো শুধু ফিটনেস নয়, স্ট্যাটাসও। ফলে একের পর এক ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে জিম। নিত্য নতুন নাম। নিত্য নতুন অফার। নিত্য নতুন ভিড়। অনেক অনেক শরীর। বিউটি পার্লার কিংবা সেলুনের মতো হেল্থ ক্লাব। এর ফাঁকে হারিয়ে যাচ্ছে চ্যালেঞ্জিং ওয়ার্কআউটের অপশন।

0

বলিউডের হিরোদের দেখার মতো পেশি, চওড়া ছাতি, গ্রিক দেবতার মতো পেটানো কোমর দেখে অনেকেই ভাবেন আহা! এরকম শরীর যদি হত!!! কিন্তু পরিশ্রম করার প্রশ্ন উঠলেই সাত পা পিছিয়ে এসে তারাই বলেন থাক বাবা রক্ষে দাও! কিন্তু জানবেন ওই অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ... কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।

জিম কালচার ছিল। বহুদিন ধরেই ছিল। ইতিহাসের ব্যায়াম সমিতি, অনুশীলন দলের আমলে ছিল সে সময়কার যুগোপযোগী জিম। এখন কেত বেড়েছে। নিত্য নতুন সরঞ্জাম এসেছে। সেদিন যে বাবুরা ধুতির কোঁচা দুলিয়ে, রাঙা ভাঙা তরলে তলিয়ে, হাতে বেলিফুলের মালা জড়িয়ে বিলাসে ব্যসনে নিমজ্জিত ছিল তারা এই প্রজন্মান্তরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইউনিসেক্স জিমে যেতে অতি উত্তেজিত।

কথা হচ্ছিল বাঘাযতীনের আলফা ওমেগা কমব্যাট স্পোর্টসের কর্ণধার বছর সাতাশের দুই তরুণ উদ্যোগী শ্রীলক্ষ্মী গুপ্তা এবং শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ওরা বলছেন ওদের ওখানে যারা শরীর চর্চা করতে আসছেন তাদের খাটনিটা একটু বেশিই হয়। ওদের দাবি ওরা আর পাঁচটা জিমের থেকে ভাবনায় এবং প্রায়োগিক দিক থেকে আলাদা। ওদেরটা লোক দেখানো পেশি বানানোর জিম নয়। ওরা শেখান শরীর এবং মনের ভারসাম্য রাখার কৌশল। শারীরিক সুরক্ষা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মতো শারীরিক ক্ষমতা তৈরি করতেও সাহায্য করে আলফা ওমেগা। এটাই ওদের ইউএসপি। তার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মার্শাল আর্ট। বিশেষ করে মহিলাদের জন্যে। ফিট থাকার পাশাপাশি সুরক্ষার কিছু কসরত শিখে রাখলে বিপদে আপদে ভালই কাজে লাগতে পারে বলছিলেন শ্রীলক্ষ্মী।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ডিগ্রিধারী শ্রীলক্ষ্মী বরাবরই চ্যালেঞ্জ পছন্দ করেন। যা নিয়ে পড়াশুনো করলেন তার ধার দিয়েও গেলেন না। ‘আমি ফাইটার এবং অ্যাকশন মুভির পোকা। ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার থেকে টারমিনেটরের মতো ঘুষি বাগাতে বেশ লাগে’, হাসতে হাসতে বলছিলেন শ্রীলক্ষ্মী। কিক বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন বিজনেস পার্টনার শিবাশিসকে নিয়ে ২০১৫র মে-তে খুলে ফেলেন আলফা ওমেগা কমব্যাট স্পোর্টস। এমএমএ, বিজেজে, সাবমিশন রেসলিং, ওয়েট লস, সেলফ ডিফেন্স এবং যোগার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে।

শিবাশিস ৮ বছর বয়সেই মুই থাইয়ের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। এরপর নানা জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। বেশকিছু দিন থাইল্যান্ডেও প্রশিক্ষণ নেন। শিবাশিস আপাতত এমআইএমএ ফাইটার। নিজে এবং নিজের টিমকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন। অন্যদিকে ২০ বছর বয়সে এসে এমএমএ-বিজেজে প্রশিক্ষণ শুরু করেন শ্রীলক্ষ্মী। দ্রুত রপ্ত করে নেন সব কসরত। স্বর্ণ পদক জয়ের পাশাপাশি উপমহাদেশে প্রথম মহিলা বিজেজে গোল্ড মেডেলিস্টের তকমাও তাঁর দখলে।

‘মিক্সড মার্শাল আর্টস বা এমএমএ সবার বিশেষ করে মহিলাদের আত্মরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কোচরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। নিজেরাও বিশ্বের নামি ট্রেনারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আমাদের মনে হয় কলকাতায় আলফা ওমেগার কোনও বিকল্প নেই’, বেশ আত্মবিশ্বাসী শোনায় দুই পার্টনারের সুর।

দু বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শ্রীলক্ষ্মীদের ইন্সস্টিউশন। রাইমা সেন, পায়েল সরকারদের মতো টলিউড এবং ছোটপর্দার অভিনেত্রীরা আলফা ওমেগার নিয়মিত সদস্য। প্রতি মাসে ৫০০ টাকায় সপ্তাহে একদিন ২ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ। মনে রাখবেন, যারা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন মনে করেন টাওয়েল সঙ্গে নিয়ে যেতে ভুলবেন না। কারণ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে ওয়ার্কআউটে বিশ্বাস করেন না এই ফাইটাররা।

বাচ্চাদের জন্যেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। ফিটনেস এবং কিক বক্সিংযের হালকা কসরত এবং প্যাড ট্রেনিং গোড়া থেকে শক্ত হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়। ছোটদের জন্য মজা করে ফিটনেস ট্রেনিংয়ে পাশাপাশি সুরক্ষা,নিয়মানুবর্তিতা এবং অন্যকে সম্মান করার শিক্ষাও দেওয়া হয়। ‘চেষ্টা করি ছোট থেকে ওদের মধ্যে টিম স্পিরিট তৈরি করার, যাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা শুধু ভালো অ্যাথলিটই নয়, ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে’বলছিলেন দুই কর্ণধার।