দেশের এক নম্বর B2B বাজার হতে চায় B2Bsphere

0

বাবুরাম জয়রাম ও সুধি সেশাচালা, ছোটবেলার দুই বন্ধু। দুজনেরই বয়স ৩৫-এর কোঠায়। যৌথ উদ্যোগে তৈরি করেছেন B2BSphere। ২০১৫ এর সেপ্টেম্বরে লঞ্চ হয়েছে বেটা ভার্সন। প্রতিষ্ঠাতাদের কথায় ব্যবসার জন্য একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চান তাঁরা, যেখানে কিছু টুল ও ইন্টিগ্রেশন পয়েন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ ও লেনদেন সম্ভব। বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে জুতো, জামাকাপড়, যন্ত্রপাতির মত নানা পণ্যের পসরা।

মেসেজিং চ্যানেলের মাধ্যমে ক্রেতা ও সরবরাহকারী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারেন বাণিজ্যিক আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে পারেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাকে কিছু টুল দেয় B2BSphere, যার মাধ্যমে তাঁরা ইন্টিগ্রেটেড ক্লাউড স্টোরেজের মাধ্যমে (বা ড্রপবক্স, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদি পরিষেবার মাধ্যমে) ফাইল আদান প্রদান, সুরক্ষিত চ্যানেলের মাধ্যমে চ্যাট ও মেসেজ করা এবং অডিও-ভিডিও ওয়েব কনফারেন্স করতে পারেন। প্রতিষ্ঠাতাদের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে তাঁদের প্ল্যাটফর্মে ১০,০০০ বিক্রেতা রয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত

স্টার্টআপ, এন্টারপ্রাইজ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে জয়রাম ও সুধির। এর আগে হাইব্রিড ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Xervmon.com তৈরি করেছিলেন তাঁরা, কিন্তু আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি। এর আগে জয়রাম কাজ করেছেন উত্পাদন ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিটুবি ট্রেড মার্কেট প্লেস প্ল্যাটফর্মে কাজের দৌলতে সারা পৃথিবীর ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা পণ্যের মার্কেটিং, ও ব্যবসার পার্টনারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যায় পড়েন তা খুব স্পষ্টই জানেন তিনি।

B2BSphere নিজেদের একটি ভার্চুয়াল অফিস হিসেবে তৈরি করতে চাইছে, যেখানে ক্রেতা অনলাইনে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে, ব্যক্তিগত চ্যাটরুম তৈরি করতে পারবে এবং সরবরাহকারীর সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগকে একটি জায়গায় নিয়ে আসতে পারবে। সরবরাহকারীরা ব্যবসা ডিরেক্টরির মাধ্যমে তাদের পণ্য ও পরিষেবা প্রদর্শিত করতে পারে ও মার্কেট নেটওয়ার্ক ইকোসিস্টেম ব্যবহার করতে পারে।

বর্তমানে তাঁরা ১২জনের টিম, এরমধ্যে ৬জন প্রযুক্তিগত দিকটি দেখে, বাকিরা বিক্রি, মার্কেটিং ও অন্যান্য কাজ করেন। B2BSphere পরামর্শদাতা হিসেবে পেয়েছে গোবিন্দ শেষাদ্রি (ভিপি, ক্যাপিলারি) ও আশিষ কাসিকে (সিটিও, ক্যাপিলারি)। কয়েক মাস বেটা ভার্সন চালানর পর সম্প্রতি এই সংস্থা জানিয়েছে তারা মাল্টিপল্ কাস্টমার সাবস্ক্রিপশন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করছে, এবং তারা এখন একটি পোস্ট রেভেন্যু কোম্পানি।

এপর্যন্ত যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রতিষ্ঠাতারা। এখনও অবধি সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ থেকেছে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিংয়ের জন্য উপযুক্ত কর্মী পাওয়া। সুধি বললেন, “পণ্যের অভিনবত্ব ও কার্যকারীতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রতিভাবান কর্মীদের আকৃষ্ট করতে পেরেছি আমরা, এমন কি বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন বেশি পুঁজির স্টার্টআপদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে এটা করতে সফল হয়েছি”।

এটি কীভাবে কাজ করে?

B2bsphere.com, ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের SaaS সাবস্ক্রিপশন দেয়। বিক্রেতাদের জন্য চার ধরনের সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান রয়েছে, নিজেদের প্রয়োজন ও ব্যবসার মাপ অনুযায়ী বিক্রেতারা তাদের প্ল্যান বেছে নিতে পারে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় B2bsphere তাদের প্ল্যাটফর্মের লেনদেন করে আর্মর পেমেন্টসের এসক্রোর মাধ্যমে।

সম্ভাব্য ক্রেতাদের পৌঁছনোর বিষয় বলতে গিয়ে সুধি বললেন, “SaaS এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে পৌঁছনো সম্ভব, আমাদের টার্গেট অংশে পৌঁছতে অনলাইন মার্কেটিংই সবথেকে বেশি কার্যকরী। এছাড়া আঞ্চলিক ট্রেড-শোগুলিতে ইভেন্ট রিপ্রেজেন্টেশনও ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর কার্যকরী মাধ্যম। অন্যান্য বিটুবি প্রোডাক্ট কোম্পানি, চ্যানেল পার্টনার, রিসেলারদের সঙ্গে পার্টনারশিপও গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর একটি উপযোগী উপায়”।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি

সারা পৃথিবীজুড়ে ই-কমার্স শিল্পের প্রসারের এই সময় ভারত সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিটুবি মার্কেটপ্লেসের উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে। Alibaba.com, Indiamart.com, TradeIndia.com সহ অন্যান্য বিটুবি ট্রেড মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা B2bsphere.comএর। সুধি বললেন, “B2bsphere অন্যান্য বিটুবি মার্কেট প্লেস থেকে অনেকটাই এগিয়ে। আমরা সারা পৃথিবী জুড়ে একটি মার্কেট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই যার মাধ্যমে খোঁজা, যোগাযোগ ও ব্যবসা হবে”।

বর্তমানে ভারত ও ভারতীয় উপমহাদেশেই জোর দিচ্ছে এই সংস্থা, সরকারের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগে প্রভাব ফেলতে চায় তারা, এবং তার জন্য ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পদের পৃথিবীব্যাপী ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে সাহায্য করবে তারা। বর্তমানে স্টার্টআপটি নিজেদের টাকাতেই চলছে তবে প্রোডাক্ট ও মার্কেটিং টিম প্রসারের জন্য সিড রাউন্ড সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে ১ লক্ষ গ্রাহক সহ ব্যবসা ১০ গুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। সুধি বললেন, “বর্তমানে আমাদের প্রতিমাসে ১০ হাজার ইউএস ডলার জিভিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬ এর মধ্যে তা ১০০ হাজারে পৌঁছবে। এই অঙ্কে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট অর্ডার রয়েছে পাইপলাইনে।

ইওরস্টোরির মতামত

অনলাইন ব্যবসার রমরমার দৌলতে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য অংশে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি মাপের শিল্পের ব্যবসা মার খাচ্ছে। বিটুবি মার্কেটপ্লেসই কম বিনিয়োগে তাদের টিঁকে থাকার একমাত্র উপায়। এতে ওয়েবসাইট তৈরি বা মার্কেটিংয়ে প্রচুর টাকা খরচের প্রয়োজন হয় না। ট্রেড মার্কেট প্লেসই তাদের প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে প্ল্যাটফর্ম দেয় ব্যবসা চালানোর জন্য। পরিচিত পরামর্শদাতাদের সাহায্যপ্রাপ্ত একটি অভিজ্ঞ কোর টিম থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সমস্যার জায়গাগুলি সহজেই সমাধান করতে পারবে B2BSphere। মোবাইল অ্যাপও লঞ্চ করেছে তারা, এখন কীভাবে তাদের লক্ষ্য ১ লক্ষ বিক্রেতাতে তারা পৌঁছয়ে সেটাই দেখার।

লেখা-হর্ষিত মাল্য,

অনুবাদ-সানন্দা দাশগুপ্ত