কী হওয়া উচিত স্টার্টআপের প্রথম ১০০ দিন

0

একই কাজ রোজ করার মধ্যে একটা একঘেয়েমি আছে, কিন্তু আবার বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে এই ধরণের কাজের। খুব বেশি মনযোগ না দিয়েই একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে কাজটি করে যাওয়া যায়। প্যাটার্ন বিষয়টি কাজের, এতে মিলগুলি খুঁজে পাওয়া যায়।

তরুণ উদ্যোগপতিদের সঙ্গে সময় কাটাতে, ব্যবসার একদম শুরুর দিকে তাঁদের পরিকল্পনার কথা শুনতে সবসময়ই ভাললাগে। এখান থেকে একটি প্যাটার্নও উঠে আসে।

আপনি কী এগুলি আগে শুনেছেন

  • বাজারে এটার প্রচুর সুযোগ। আমরা নিজেরা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, আর তাই জানি অন্যরাও এই সমস্যায় পড়ে।
  • আমরা অনেক পরিচিতর সঙ্গে এবিষয় কথা বলেছি, এবং তারা সকলেই বলেছে এটা খুবই ভাল একটি পরিকল্পনা।
  • আমরা আমাদের এই পরিকল্পনা নিয়ে খুবই প্যাশনেট। আমরা অন্য একটি স্টার্টআপে (নাম করা) কাজ করেছি আর তাই আমরা নিজেরাও সফল একটি স্টার্টআপ চালাতে পারব।
  • আরও কিছু প্রতিযোগী রয়েছে, কিন্তু কেউই ঠিক সেভাবে কাজ করে যেটা আমরা ভাবছি।
  • আগামী ২৪ মাসের বিস্তারিত পরিকল্পনা করা রয়েছে আমাদের।
  • আমরা আমাদের পণ্য তৈরি করে ফেলেছি, আর কয়েকদিনে মধ্যেই আমরা সেটা লঞ্চ করব। আমরা জানি ক্রেতারা এটা পছন্দ করবেই।
  • আমরা খুব ছোট করে পরিকল্পনা করেছি আপাতত, একবার যখন আমরা হাজার হাজার ক্রেতা পাব তখন আমরা অন্যদের সঙ্গে টক্কর দেব।

এই বক্তব্যগুলির মধ্যে দুটি মিল রয়েছে। এক, ব্যবসা সবে শুরু করেছেন সেরকম উদ্যোগপতিদের থেকে আপনি প্রায়শই এগুলি শুনতে পাবেন. দ্বিতীয়ত, এই সবগুলিই মতামত। ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন এমন একজন উদ্যোগপতির প্রথম চ্যালেঞ্জই হল মতামতকে প্রমাণে পরিণত করা। আর প্রমাণ সংগ্রহের এই কাজটি খুব কম সময় করা সম্ভব এবং সেটা প্রতিষ্ঠাতারা নিজেরাই পারেন এবং খুব বেশি টাকা খরচ না করেই।

মতামত থেকে প্রমাণে পৌঁছতে প্রথম ১০০ দিন কী করা উচিত এটা সহজ কথায় বলতে হলে তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বলব। 
  1. মানুষ কি চায়? 
  2. কীভাবে চায়? 
  3. কেউ কি এর জন্য মূল্য দিতে চায় (আর সেটা কে)?

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে প্রতিষ্ঠাতাদের বাস্তব পৃথিবীতে যেতে হবে আর বাস্তব মানুষদের সঙ্গে মিশতে হবে। এতে তাঁরা বুঝতে পারবেন যে তাঁরা যে সমস্যার কথা ভাবছেন সেগুলি বাস্তব কি না আর সমস্যাটা কোথায়। আর সবথেকে জরুরি, এর ফলে তাঁরা যাচাই করতে পারবেন যে অন্যরা (তাঁদের ক্রেতা বা গ্রাহক) এটাকে ততটাই পছন্দ করবেন কি না যত টা তারা করছেন।

শুরুরদিকে একজন উদ্যোগপতির সামনে নানা প্ররোচনা থাকে। যদি আপনার আগে অন্য কেউ লঞ্চ করে! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিনিয়োগ সংগ্রহ করে ফেলা প্রয়োজন কি না! আমরা জানি এই পণ্যটি আমরা অন্যদের থেকে অনেক ভাল বানাব, বানিয়েই ফেলি না কেন! যদি আমাদের প্রথম পর্যায়ের পণ্যটি তেমন ভাল না হয়! দ্রুত আরও কিছু ফিচার যোগ করতে আরও কয়েকজন প্রোগামারকে নিয়োগ করা কী উচিত!

এই তালিকা আরও বাড়ান যায়। কিন্তু এই প্ররোচনাগুলি যেমন সত্যি, তেমনই এগুলি বিক্ষেপেরও কারণ বটে। এগুলি প্রতিষ্ঠাতার সময় নষ্ট করে ও উন্নতির একটা ভুল ধারণা তৈরি করে। ব্যবসার শুরুরদিকে এগুলি মনযোগ দেওয়ার জায়গাও নয়। সময় ও জায়গা মতো এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কিন্তু অবশ্যই সেটা কখনই আপনার প্রথম দিনগুলি নয়।

তাহলে আপনি কী করে বুঝবেন যে আপনি এগোচ্ছেন কি না? বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠাতার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে এটা দেখা যায় আরও অনেকেই ঠিক এই পরিকল্পনাটির উপরই কাজ করছেন। অ্যাক্সিলরে, আমাদের এক্সেলারেটর প্রোগ্রামের প্রথম সপ্তাহে আমরা স্টার্টআপদের বলি অন্য স্টার্টআপদের খুঁজে বের করতে যারা একই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংখ্যাগুলি দুই অঙ্কের হয়। তাহলে একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আপনার নিশ্চয়তা কোথায়? আপনার একমাত্র নিশ্চয়তা আপনার মালিকানা অন্তর্দৃষ্টি কতটা, সেটা আপনার ক্রেতা, প্রতিযোগী, বিকল্প, অভিজ্ঞতা যেকোন বিষয় হতে পারে। এই জানাটা যত নির্দিষ্ট হবে ততই ভাল। ২৮-৩৫ বছর বয়সী, যাদের দুবছরের বেশি পুরনো গাড়ি আছে এবং আগামী ১২-১৮ মাসের মধ্যে নতুন গাড়ি কিনতে ইচ্ছুক তারা আমাদের পরিষেবা ব্যবহার করতে চাইবে, নির্দিষ্ট ভাবে জানার একটি ভাল উদাহরণ অনেকে আমাদের পরিকল্পনাটি পছন্দ করেছে নয়। এই দু’টির মধ্যে মূল পার্থক্যটি হল, দ্বিতীয়টি আপনি নিজে নিজেই ভেবে নিতে পারেন, প্রথমটির ক্ষেত্রে সেটি সম্ভব নয়।

শুরুরদিকে স্টার্টআপগুলি ধারাবাহিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া কিছুই না। এবং এর মধ্যে বেশিরভাগ পরীক্ষাই ব্যর্থ হয়। যে পরীক্ষাগুলি আশানুরূপ ফলাফল দিয়েছে সেইগুলির ওপর জোর দেওয়ার প্ররোচনা সবসময়ই থাকে। বেশিরভাগ সময়ই ব্যর্থ পরীক্ষার থেকে অনেক বেশি কিছু শেখার থাকে। কোনটা সঠিক পথ সেটা যেমন জানা দরকার তেমনই জানা দরকার কোন পরিকল্পনা কাজ করছে না, স্টার্টআপের উন্নতি এর ওপরই নির্ভর করে। যেসব স্টার্টআপরা প্রচুর সাফল্য পায় তারা প্রত্যেকেই এই মতামত থেকে প্রমাণের যাত্রাপথটা অতিক্রম করেছে। স্টার্টআপের ক্ষেত্রটি এমন সব স্টার্টআপে ভর্তি যারা শুধুমাত্র নিজেদের মতামতের ওপর তৈরি করা চোরাবালিতে আটকে গেছে।

লেখক পরিচিতি- গণপতি বেনুগোপাল, অ্যাক্সিলর ভেঞ্চার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। অ্যাক্সিলর ভেঞ্চার্স নতুন উদ্যোগপতিদের সহয়তা প্রদানকারী একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম। স্টার্টআপকে গতি দেওয়া, বৃদ্ধি ঘটানো, এবং শুরুরদিকের বিনিয়োগ সংগ্রহ এই তিনটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্টার্টআপদের সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে অ্যাক্সিলর। অনুবাদ-সানন্দা দাশগুপ্ত