অক্ষয় রোবোট নিয়ে জুলাইয়ে ঢুকে পড়বেন গিনেসে

0

বিজ্ঞান-কে আরও আকর্ষণীয়, আরও মজাদার করে তোলার ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তেইশ বছরের অক্ষয় আহুজা। তখন জানতেন না, এই একটা কাজ তাঁকে ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। এবং কী অদ্ভুত! আগামী জুলাইয়ে চন্ডীগড় নিবাসী এই পাঞ্জাব তনয় ঢুকে পড়ছেন ইতিহাসে! গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে উঠতে চলেছে তাঁর নাম।

ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ২০১৩-য় ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি কোম্পানি চালু করেন। রোবোটিকস এডুকেশন ওয়ার্ল্ড। উদ্দেশ্য ছিল, খেলাচ্ছলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠরত ছাত্রদের রোবোটিকস সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা। কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র ২৯ জন-কে নিয়ে। গত তিন বছরে হুরমুড়িয়ে ঢুকে পড়েছেন উত্তর ভারতের একগুচ্ছ স্কুলে। এবং শুনলে আশ্চর্য হবেন, এই তিন বছরে প্রায় ১২,০০০ স্কুল ছাত্র-কে রোবোটিকস শিখিয়ে ফেলেছেন। ‘স্কুলে কাজ করার সিদ্ধান্তটা প্রথম ২৯ জন ইঞ্জিনিয়ারিং-য়ের ছাত্রকে ট্রেনিং দেওয়ার সময়-ই আসে। মনে হল, মডিউল গুলো যদি একটু সহজ করে নেওয়া যায় এবং স্কুলের ছেলেমেয়েদের শেখানোর চেষ্টা করা যায়, তাহলে ব্যাপারটা বেশ মজার হতে পারে। প্রচলিত পাঠ্যসূচির বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত অনেক নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারে আজকের প্রজন্ম।’ ফোনে বলছিলেন অক্ষয়। 

কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরাণীর সঙ্গে মিটিংয়ে বেরোবেন জুলাই-য়ের মেগা ইভেন্ট নিয়ে আলোচনা করতে। তার মধ্যেই বললেন, ‘যেমন ভাবা তেমন কাজ। সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় রিসার্চ শুরু করল আমার টিম। একটা রূপরেখাও তৈরি হল। বিশ্বাস করুন, আমরা জানতাম, সফল হবই। স্কুলের পাঠ্যসূচি থেকে আজকের প্রজন্ম কোন আনন্দ পায় না। পরীক্ষায় পাশ করার জন্য পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আমরা যেটা করতে চাই, তাতে মজা এবং শিক্ষা দুটোই আছে। অক্ষয়ের কোম্পানি রোবোটিকস এডুকেশন ওয়ার্ল্ড প্রথমে একজন স্কুলের ছাত্রকে রোবোটিকস শেখায়। তারপর সাফল্য আসার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে গোটা উত্তর ভারতে। শুরুর দিকে তাঁর কোম্পানি-তে মাত্র চার জন কাজ করত। এখন ১০০ জনের বিরাট টিম ওয়ার্কশপ করে বেড়ায় স্কুলে স্কুলে। আমেরিকা, ইউরোপের মত এগিয়ে থাকা দেশ গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় STEM বলে খুব জনপ্রিয় একটি মডিউল চালু আছে। STEM এর মানে Science, Technology, Engineering এবং Mathematics এই চারটি বিষয়ের উপর জোড় দেওয়ার হয় স্কুলে। অক্ষয় সেই মডিউলটির মধ্যে ছোট্ট একটা বদল আনলেন। বানালেন STEAM । নতুন সংযোজন Arts বা কলা। বাকি চারটি বিষয় একই থাকল। ‘আমি গোটা বিষয়টিকে একটা হোলিস্টিক লার্ণিং-য়ের মধ্যে নিয়ে যেতে চাই। এবং সেটা হলেই আমার পাঠ্যসূচি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ মুভমেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাবে।’ খুব দৃঢ় শোনাল অক্ষয়ের কন্ঠস্বর।

স্কুলের ওয়ার্কশপ গুলো খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় অক্ষয়ের উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সেই উৎসাহে নবতম জোয়ার ‘বিল্ড ইয়োর বট’ (BYB) বা নিজের রোবট নিজে বানাও প্রতিযোগিতা। এবছরের ৩১ শে জুলাই নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানে হবে সেই প্রতিযোগিতা। গোটা দেশের প্রায় কুড়ি হাজারেরও বেশি স্কুলের ছেলেমেয়েরা অংশগ্রহণ করার জন্য মুখিয়ে আছে। চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে গোটা প্রতিযোগিতাটিকে। আলফা, বিটা, গামা এবং ওমেগা। ফাইনালে পৌঁছতে হলে প্রতিটি স্তরে সসম্মানে উত্তীর্ণ হতে হবে প্রতিযোগীদের। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে।

যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছে অক্ষয়ের নিজেস্ব সংস্থা রোবোটিকস এডুকেশন ওয়ার্ল্ড। বিশ হাজার বাচ্চা-কে নিয়ে এই মেগা ইভেন্ট-টাই নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করছে রোবোটিকস প্রশিক্ষণে দৃষ্টান্তমূলক স্বাক্ষর রেখে যাওয়ার জন্য। যা গিনেস তাদের রেকর্ড বুকে নথিবদ্ধ করতে প্রস্তুত।

আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিদেশের বিভিন্ন স্কুলের প্রায় পাঁচশো ছাত্রছাত্রীকে। আশা করা হচ্ছে, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভূটান এবং আমেরিকা সহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা ভিড় করবে। অক্ষয় গর্বিত। প্রযুক্তিগত শিক্ষার এত বড় একটা ক্ষেত্র রচনা করতে পেরে ভারতীয় হিসাবে খুশি। আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া? অক্ষয় হাসছেন। অকপটে জানাচ্ছেন, ‘ওটা বোনাস’।