স্টার্ট আপকে সহায়তা করতে দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড়ের ভাবনা

0

সরকারি নিয়মকানুনে শীথিলতা এনে স্টার্ট আপ গুলির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বড় ধরণের পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে মোদি সরকার। আগামী তিন বছর পর্যন্ত কর ছাড়ের ঘোষণার পাশাপাশি সংগৃহীত লাভের ক্ষেত্রেও কর ছাড়ের পরিমাণ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী অর্থবর্ষ থেকেই যা চালু করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানালেন "গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের ভূমিকায় নির্দিষ্ট সীমারেখা টানার চেষ্টা চলছে।" কাজের ক্ষেত্রে শুরুয়াতি সংস্থাগুলিকে যেসব বাধার সম্মুখীন হতে হয় তা কমিয়ে কর ব্যবস্থাকে উদ্যোগপতিদের জন্য আরও সহজ সরল করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

"অন্ত্রপ্রেনিওর-ফ্রেন্ডলি কর ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবনাচিন্তা করা হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন যেমন আনা হবে, তেমনই কয়েকটি বিষয়ে পরবর্তী বাজেটে বিল পাস করানোর পরিকল্পনাও চলছে।"

সফ্টব্যাঙ্কের অধিকর্তা মাসায়শী সন এবং উবার এর চিফ একজিকিউটিভ ত্রাভিস কালানিকের সঙ্গে কথা বলার সময় অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন সরকার এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, উভয়ের তরফেই তাঁদের সম্পূর্ণ সাহায্য করা হবে।

"রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্র সরকার যৌথভাবে কাজ করে সংস্থাগুলির আরও বেশি পরিমাণ ঋণ নিতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।"

রেভিনিউ সেক্রেটারি হাসমুখ আধিয়া জানাচ্ছেন, আগামী মাসের বাজেটে, নথিভুক্ত নয় এমন সংস্থার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলি রয়েছে সে নিয়ে আলোচনা করা হবে। নথিভুক্ত ইক্যুয়িটির সঙ্গে অনথিভুক্ত ইক্যুয়িটির করব্যবস্থায় যে বৈষম্য রয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করা হবে।

"ইক্যুয়িটি মার্কেটে কেউ কোনও বড় বিনিয়োগ করে তা এক বছর রাখলে তার সংগৃহীত লাভের পরিমাণ হয় শূন্য। অন্যদিকে রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে যে সংস্থাগুলি, মূলত স্টার্টআপগুলি বিনিয়োগ করছে তাদের ৩ বছর টাকা রাখার পরেও ২০শতাংশ টাকা দিতে হয়।"

সরকার এই বৈষম্য দূর করতে বদ্ধপরিকর, জানালেন আধিয়া। তিনি আরও বলেন, স্টার্টআপগুলিকে উদ্বুদ্ধ করতে আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারির বাজেটে নতুন বেশ কিছু ট্যাক্স ইনসেন্টিভ সিস্টেম-এর ঘোষণা হতে চলেছে।

শুধু তাই নাই শুরুয়াতি সংস্থাগুলিকে প্রোমোট করতে ব্যবসার প্রক্রিয়ায় সরলীকরণের কথা জানিয়েছেন অরুণ জেটলি। 

"এদেশের তথাকথিত লাইসেন্স রাজকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে চলেছে সরকার।" 

১৯৯১ সালে নিয়মে যে বদল আনা হয়েছিল তাতে লাইসেন্সের বিষয়টিতে আংশিক পরিবর্তন করা হয়েছিল, সম্পূর্ণ নয়।

"এই পরিবর্তন আংশিক, কারণ এক্ষেত্রে অলিখিতভাবে হলেও রাজ্যের একটা বড় ভূমিকা থেকে গিয়েছিল। জমির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে গেলে রাজ্যের কড়াকড়ি এবং সর্বোপরি নতুন জায়গায় নতুন ব্যবসা করতে গেলে রাজনৈতিক দাদাদের হাঁকডাক সহ্য করতেই হতো উদ্যোগপতিদের। ফলে নতুন উদ্যোগের ইচ্ছে থাকলেও ঝামেল এড়াতে তাঁরা অনেক সময় পিছিয়ে আসতেন।" 

এই পুরো বিষয়টিকেই সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে চাইছে মোদি সরকার।

ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স দফতরের সচিব, শক্তিকান্ত দাস জানাচ্ছেন, অনলাইনে FEMA রিটার্ন সাবমিট করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনা করেছে অর্থমন্ত্রক। খুব শীঘ্রই এবিষয়েও নতুন বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা করা হবে।

সব মিলিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে যেসব বিস্ফোরক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার সবকটি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে স্টার্ট আপ কমিউনিটির পাখির চোখ কিন্তু এখন ২৯ ফেব্রুয়ারির বাজেটের দিকেই।