অন্ধ্রপ্রদেশে ২৬৪টি গ্রাম উন্নয়নের দায়িত্ব নিল রতন টাটার ট্রাস্ট

0

গ্রামীণ ভারতের পাশে দেশের অন্যতম সেরা শিল্প নক্ষত্র। হাতে হাত মেলানোর সেই যুগলবন্দিরই সাক্ষী হল একুশ শতকের ভারত। সৌজন্যে রতন টাটা। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ২৬৪টি গ্রামের সার্বিক বিকাশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে টাটা ট্রাস্ট। বাঁশ উৎপাদন, মাছ চাষ, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পুষ্টি এবং গ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে এই ট্রাস্ট কাজ করবে। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে এব্যাপারে একটি মউ (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানান, এই প্রথম অন্ধ্রপ্রদেশে এতগুলি গ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিল কোনও একটি সংস্থা। চুক্তি সই হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রতন টাটা। তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করে চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, “রতন টাটার এই ভূমিকা দেশের কাছে একটা উদাহরণ হয়ে উঠবে। এইসব গ্রামে টাটা ট্রাস্ট যেভাবে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেছে এবং রিসার্চ ওয়ার্ক করেছে তাতে আমি উচ্ছ্বসিত। রতন টাটা বলেন, আমি চন্দ্রবাবু নাইডুকে অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন শিল্প স্থাপন, নতুন শিল্পভাবনা আনার পরামর্শ দেব। আমার কেরিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে বুঝেছি, টাকা দিয়ে যে জিনিসটা কেনা যায় না সেটা হল নিজের মধ্যে রোমাঞ্চ সৃষ্টি করা। চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এখন আমি সেই রোমাঞ্চ অনুভব করছি। নতুন এই রাজ্যকে আমার পক্ষে যতটা সহায়তা করা সম্ভব আমি করব।

মউ সই হওয়ার এই মঞ্চে শিল্পপতিদের সঙ্গে একটি interactive সেশনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে শুরুয়াতি সংস্থা (Startups), ইকোসিস্টেম সম্পর্কে নিজের ধারণার কথা জানান রতন টাটা। এক তরুণ শিল্পোদ্যোগীর প্রশ্নের জবাবে রতন টাটা বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বের অন্যত্র যে ধরনের স্টার্টআপ রয়েছে, আমাদের দেশে সেই ধরনের স্টার্টআপ আমার ভালো লাগে না। আমার ভালো লাগে এমন স্টার্টআপ যা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যাতে টাকা ঢালতে বিদেশি লগ্নিকারীরাও উৎসাহিত বোধ করতে পারেন। ভারতে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তিতে আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজন তা রতন টাটার কাছে জানতে চান এক মহিলা উদ্যোগী। রতন টাটা জানান, প্রযুক্তির প্রয়োগ এমন হতে হবে যাতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যাবে, পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা হবে আর স্বাস্থ্য পরিষেবা। আমাদের দেশের এইসব দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্ধ্রের ২৬৪টি গ্রামের সঙ্গে টাটা ট্রাস্টের গাঁটছড়ার বিষয়টা এগোল কী করে? এর কৃতিত্ব অবশ্যই পাবেন অন্ধ্রের সাংসদ কেসিনেনি শ্রীনিবাস। তিনিই রতন টাটার কাছে প্রস্তাবটি তুলে ধরেছিলেন।