শিক্ষা আর ব্যক্তিগত চয়নই সফল করেছে মণীষাকে

1

মণীষা আহলায়াট একজন সফল মহিলা উদ্যোগপতি। তিনি নিজেকে নারীবাদী ভাবতেই পছন্দ করেন। ২০১০ সালে এ দেশে পর্তুগালের ফিটনেস সংক্রান্ত সংস্থা Vivafit-এর প্রথম শাখাটি খোলেন তিনি। সেইসময় ফেসবুকে Vivafit এর বিজ্ঞাপন দেখে শাখাটি খোলার পরিকল্পনা তাঁর মাথায় এসেছিল।

বর্তমানে মণীষার সঙ্গে কাজ করছেন একঝাঁক পেশাদার। গুরগাঁও, দিল্লি, লখনৌতে্ ইতিমধ্যেই Vivafit এর শাখা খোলা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের নানা জায়গায় কাজ করছে এই সংস্থা। মহিলা উদ্যোগপতি হিসাবে ৪০ বছর বয়স্ক মণীশা ধীরে ধীরে সাফল্যের স্বাদ পেলেও, তাঁর জীবনটা বলবার মতোই। যে কোনও মেয়েই মণীশার জীবনেতিহাস থেকে প্রেরণা পেতে পারেন।

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের অখ্যাত গ্রাম দাউরালায় মণীশার জন্ম। গ্রামটি জাঠ সম্প্রদায় অধ্যুষিত। লেখাপড়ার সূত্রপাত গ্রামীণ স্কুলেই। একটু বড় হতেই এক আত্মীয়া তাঁকে প্রতিপালনের জন্যে অন্যত্র নিয়ে যান। এখানেই জীবনের মোড় ঘুরে যায় মণীষার। ওই আত্মীয়া মণীষাকে কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি করে দেন। লেখাপড়ায় আগ্রহ ছিল। ফলে স্কুলের পড়া ভালোভাবেই শেষ করেন।

এরপর মাত্র ১৯ বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা একজন অনাবাসীর সঙ্গে মণীষার বিয়ে্র সম্বন্ধ পাকা করেন তাঁর অভিভাবকেরা। বিয়ে‌ও হয়। তবে সেই বিয়ে টেঁকেনি। ততদিনে মণীষা দুই সন্তানের মা হয়েছেন। আমেরিকাতেই শুরু হয় তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়।

বিয়ে ভাঙার পরে এখানে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন। ও দেশে চাকরি-বাকরিও করেছেন। তবে সে ছিল হাড়ভাঙা থাটুনির জীবন। রুজির তাগিদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকনমিক ফোরকাস্টিং সেন্টারে দিনে ২০ ঘণ্টা খেটেছেন একসময়।

২০০৫ সালে ভারতে ফি্রে আসেন। সেইসময়ই Crossword Bookstores, Reliance Retail, Mom & Me ইত্যাদি রিটেইল পরিষেবাগুলি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করতে গিয়ে নিজস্ব উদ্যোগের পরিকল্পনা মাথায় আসে। এরপর Vivafit এর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়।

মণীষা বর্তমানে মেয়েদের ফিটনেস নিয়ে সুনামে্র সঙ্গে কাজ করছেন। মেডিটেশন ও যোগা করানোর জন্যে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন একঝাঁক পেশাদার। পারিবারিক জীবনে মণীষা একজন সিঙ্গল মাদার। সেইসঙ্গে তিনি নারী-পুরুষের সমানাধিকারে বিশ্বাসী। পিতৃতন্ত্রের অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই আজীবন জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন মণীষা।

Related Stories