নবীন উদ্যোগকে সম্মান জানাল বেঙ্গল চেম্বার

2

বড় শিল্প কর্তাদের বণিক সভা এবার সম্মানিত করল স্টার্টআপ সংস্থার কর্তাদের। বেঙ্গল চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভায় সম্মানিত হলেন এথিকাল হ্যাকিংয়ের সংস্থা আইএসওএইচ ডেটা সিকিউরিটির কর্তা সন্দীপ সেনগুপ্ত, ডাইমেনশনস ইন্টেরিয়র সলিউশনের স্নেহা ব্যানার্জি এবং নূপুর অগরওয়াল, ওয়াও মোমোর সাগর দরিয়ানি এবং বিনোদ হোমাগাই, বিক্রম সোলার প্রাইভেট লিমিটেডের জ্ঞানেশ চৌধুরী, ক্যাপিটাল নাম্বারসের মুকুল গুপ্তা, উইজারটেক ইনফরমেটিকসের সুরেশ প্রসাদ মিশ্র এবং সমীর কুমার নিয়োগী। সম্মানিত হয়েছেন এম জাঙ্কশন সার্ভিসেস এর বিনয় ভর্মা। এতদিন বেঙ্গল চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন কেপিএমজি কর্তা অম্বরীশ দাশগুপ্ত। এবার উদ্যোগপতি সুতনু ঘোষ নির্বাচিত হলেন বেঙ্গল চেম্বারের প্রেসিডেন্ট। চন্দ্রশেখর ঘোষ পরবর্তী প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছেন। ইন্দ্রজিৎ সেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বি বি চট্টোপাধ্যায় ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দেশের প্রাচীনতম এই বণিক-সভার ব্যাটন বদল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউরোপ সফরের গল্প শোনাচ্ছিলেন অমিত বাবু। বললেন, মধ্যমায়তনের সংস্থাগুলিই ইউরোপের গ্রোথ ইঞ্জিনে জ্বালানি যোগায়। কিভাবে ইউরোপের সবথেকে অগ্রণী দেশ জার্মানির অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে সে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি আয়তনের সংস্থাগুলি নিজে চোখে দেখে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বেঙ্গল চেম্বারে ঐতিহাসিক চিত্রের প্রদর্শশালা উদ্বোধন করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। অম্বরীশ দাশগুপ্ত, সুতনু ঘোষ।
বেঙ্গল চেম্বারে ঐতিহাসিক চিত্রের প্রদর্শশালা উদ্বোধন করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। অম্বরীশ দাশগুপ্ত, সুতনু ঘোষ।

বাংলায় বড় বড় ভারী শিল্প যে রমরমিয়ে চলছে না সে কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ফি বছর বেঙ্গল সামিটের মঞ্চে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ উঁকি মারে। কিন্তু তার স্পষ্ট প্রতিফলন আর সেভাবে হয় না। এটাও সুনিশ্চিত ভাবেই আলোচিত সত্য। কিন্তু এই রাজ্যের মেরুদণ্ড শক্ত করেছে এই রাজ্যেরই আনাচে কানাচে গজিয়ে ওঠা ছোটো ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ। সেই দিকেই এবার আরও ভালো করে নজর দিতে চায় রাজ্য। নজর দিতে চায় স্টার্টআপ সংস্থার দিকেও। তাদের সুযোগ সুবিধে দেওয়ার ব্যাপারে আরও মনোনিবেশ করতে চান তাঁরা। জেলা থেকে খুঁজে এনে স্টার্টআপ সংস্থাকে সিড ফান্ড দিতে চায় রাজ্য সরকার। এই জন্য একশ কোটির তহবিল তৈরি নিয়েও আলোচনা চলছে।

বণিক সভার অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী শিল্পপতিদের কাছে জিএসটি নিয়ে উপদেশ চেয়েছেন। পাশাপাশি আইআইটি এবং পলিটেকনিক কলেজগুলির পাঠ্যসূচির খোল নলচে বদলে বৃত্তি মূলক শিক্ষাকে কাজের উপযোগী করে তুলতে অনুরোধ করেছেন বেঙ্গল চেম্বারকেই। পাশাপাশি কল্যাণীতে যে ডেটা অ্যানালাইটিক্সের জন্যে একটি পরিকল্পিত হাব তৈরি করতে চায় বেঙ্গল চেম্বার, সেখানেও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গত ২০১৪ সালে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট কল্লোল দত্তের পরিকল্পনা মাফিক অ্যানালাইটিক্সের হাব হিসেবে কল্যাণীকে ভাবা হয়। কিন্তু সেকাজ এখনও অসমাপ্ত রয়েছে। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট অম্বরীশ দাশগুপ্ত তার উত্তরসূরি সুতনু ঘোষকে মনে করিয়ে দিলেন সেই প্রতিশ্রুতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য বিশিষ্টজনেদের মধ্যে ছিলেন বন্ধন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ, কলকাতায় মার্কিন কনসাল জেনারেল ক্রেগ হল প্রমুখ।

Related Stories