বাছাই করা পিটার ফিস্ক, ষোলোয় সাফল্যের টোটকা

0

আপনি কি পিটার ফিস্ককে চেনেন? The Genius Works এর কর্ণধার। ভদ্রলোক বিজনেস এক্সপার্ট। দুর্দান্ত বক্তা। আর অসাধারণ লেখক। তাঁর বেস্টসেলার বই গেমচেঞ্জারস আর ইউ রেডি টু চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দুনিয়াকে। সম্প্রতি এসেছিলেন বেঙ্গালুরু। কথা হল। ইওরস্টোরিকে রীতিমত সাক্ষাৎকার দিলেন ফিস্ক। মিলেনিয়েল উদ্যোগপতিদের জন্যে দিয়ে গেলেন তাঁর টেন কমান্ডমেন্টস। 

আন্ত্রেপ্রেনিওরশিপ ট্রেন্ডস অ্যান্ড টিপস- এর একটি এক্সক্লুসিভ আড্ডায় দারুণ মেজাজে পাওয়া গেল ফিস্ককে। আমাদের ২০১৬র মার্কেটিং ও পরিবর্তনের স্রোতের কথা বলছিলেন।

২০১৬-য় সবথেকে সফল ব্র্যান্ডগুলো কি করতে চলেছে তা আগে ভাগে ঠাহর করে পিটার ফিস্ক ৭টি ট্রেন্ড উল্লেখ করলেন।

  1. স্পেস টাইম ম্যানেজমেন্ট – সময় আর স্থান ভীষণ জরুরি। মানুষের জীবনে দুটোই ভীষণ কমে আসছে। বাজারের নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত দামি হয়ে উঠছে এই দুই ডাইমেনশন। প্রত্যেক ব্র্যান্ডকে মাথায় রাখতে হবে যে তারা কী করে এই দুটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। শুধু সময় কমানো নয়, সময়ের মূল্য বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ। শুধু পরিসর অল্প করা নয়, এই অল্পকে আরও উন্নত করার ফিকির আবিস্কার করতে হবে। মোবাইল ফোনের ক্ষমতা শুধু কথোপকথনে আর সীমাবদ্ধ নেই। এর সাহায্যে – কাজ, খেলা ও ক্রমাগত শেখার একটি পরিবেশ তৈরি হতে পারে – যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়ে। একজন খুচরো বিক্রেতার মূল্য, অনলাইনে তার সামগ্রীর প্রদর্শন ছাড়াও অনেক বেশী। তাকে ক্রেতাদের সঙ্গে অনলাইন আলাপ আলোচনা করতে হবে এবং ক্রেতাদেরও সুযোগ দিতে হবে যাতে তারা বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সময় আর আয়তনের মূল্য বুঝতে হবে। দ্রুত (আমাজন প্রাইম) আর ক্ষুদ্র (BMW মিনি) পরিষেবার জন্য ক্রেতারা বেশি দাম দিতে তৈরি। যারা মার্কেটিং করেন তাঁদের কাছে রিয়েল টাইম হওয়াটাই লক্ষ্য। গড়পড়তা মানের বিজ্ঞাপনের প্রচারের কথা ভুলেই যান, বহু মাসের আগাম পরিকল্পনা, মানুষকে চারিদিক থেকে চেপে রাখা, যাতে তারা সিনেমাটা টেলিভিশনে দেখতে পারেন। সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় মানুষকে যুক্ত করার কথা ভাবুন। এখানে এখনই পরিষেবা দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। সময় নেই। আপনারও নেই গ্রাহকেরও নেই।
  1. মিলেনিয়েল স্বাভাবিক – কান পাতলেই শুনতে পাবেন মিলেনিয়েল বা নতুন প্রজন্মের তরুণ ক্রেতারা একদম আলাদা। হবে নাই বা কেন! আমাদের চিন্তাধারার সবকিছুকেই তারা চ্যালেঞ্জ জানাবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ তাঁরা বিশ্বব্যাপী এবং জন্মগত ডিজিটাল, তারা তুলনায় বেশি যত্নবান এবং মূলধারার প্রচলিত অভ্যাসকে নস্যাৎ করে দেয়। আচ্ছা বলুন তো এমন কোনও নতুন প্রজন্ম কি ইতিহাস দেখেছে যেটা এরকমন নয়। ষাটের দশকের কথা মনে করুন। হিপিরা পৃথিবী বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখত। আর এখন তারাই বিশাল ব্যবসায়ী নেতা। এখন ওরা অবিশ্বাস্য ভাবে স্বাভাবিক। এর সঙ্গে আরও যোগ করি, চলুন আমরা নিজেদের কথা বলি। আপনি আমিও কি ভাবি না একটু অন্যভাবে। চাই বাঁধাগতের গড্ডালিকা থেকে আলাদা হতে। তাই বলব গ্রাহকদের মধ্যে বিভাজিকা টানা নয়। বাস্তব সত্যিটা মেনে নিন, জেন ওয়াই ও জেন জেড যথেষ্ট স্বাভাবিক। এছাড়া তারা যথেষ্ট রক্ষণশীলও। তারা নিরাপত্তা পছন্দ করে,তারা পরিবার চায়, তারা সীমিত মদ্যপান করে, তারা স্বাস্থ্য সচেতন। আমাদের সকলের মত তারাও পৃথিবীকে সুন্দর বানাতে চায় এবং বাড়ি থেকে কাজ করতে চায়। মিলেনিয়েলদের প্রতি অন্ধ ধারণা বদলে ফেলতে হবে আর আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে খরচ করার জন্য টাকা, বয়স্কদের হাতেই সব থেকে বেশী আছে ফলে টার্গেট ঠিক করে ফেলুন।
  2. ডিজিটাল আসক্তি – আসক্তি শব্দটা ভেবে বললাম। অন্যকিছুই আর ভালো লাগে না। সবকিছুর জন্যই আমাদের একটা অ্যাপের প্রয়োজন। অথচ আমরা যে দুনিয়ায় বাস করি সেটা অবিকল ম্যাট্রিক্সের দুনিয়া নয়। মোবাইল ফোন মানুষকে বাস্তবের একটি বিন্দুর সঙ্গে অপর একটি বিন্দুকে যুক্ত করে। অনলাইন শপিং আমাদের বাস্তব জিনিষ কিনতেই সাহায্য করে। এই দুটি সত্তার মধ্যে যোগাযোগ করাটাই চ্যালেঞ্জ। দুটিকে দুটি ভিন্ন গতিপথ হিসাবে দেখা নয়। ডিজিটাল যেখানে বাস্তবিক অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করে দেয়, সেই পথই আমাদের খুঁজতে হবে। নাইক আপনাকে আরও জোড়ে দৌঁড়াতে ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করে। আমাজন ড্যাশ আপনার সাংসারিক কাজে আপনাকে সাহায্য করে। লেগো আপানাকে যোগাযোগ করিয়ে দেয় অন্য নির্মাতাদের সঙ্গে, যাতে তাদের সঙ্গে আপনি আপনার প্রতিভার আদান প্রদান করতে পারেন ও অনুপ্রানিত হতে পরেন (বেশি কিনতেও পারেন)। 23&Me, ৯৯ ডলারে আপনার ডিএনএ পরিলিখন করতে পারে যাতে সোজাসুজি আপনি আপনার জীবনধারা ও জীবনচর্চা বদলে দিতে পারেন। অত্যানুধিক প্রযুক্তি দেখে চোখ ধাঁধাবেন না। মার্কেটিং চ্যালেঞ্জটি হল তাকে কার্যকর, ব্যাবহারিক ও মানবীয় বানানো।
  3. সরল হওয়া সহজ নয়... কিন্তু সেরা – সরলতার সঠিক বর্ণনা “চূড়ান্ত পরিশীলতা”, যা আর যাই হোক, সহজ নয়। বেশীর ভাগ জিনিষই জটিল, তার কারণ আমরা অলস – অলস পরিকল্পক ও বিপণনকারী। মানুষ সত্যিই কি চায়, তা জানার প্রবনতা আমাদের নেই ও জানতেও পারিনা এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা – আমরা কাদের জন্য ও কাদের জন্য নয়। তার ওপর আমরা সকলের চাহিদা নিবারণ করতে চাই, যার দরকার নেই তারও। ফলে সৃষ্টি হয় জটিলতার। একইরকম ভাবে, আমাদের কোন চেষ্টাও নেই নতুন প্রযুক্তি ও তার প্রক্রিয়ার সম্বন্ধে ধারণা করতে, যাতে আমরা চিন্তা করতে পারি তা কি করে কার্যকর ও আকর্ষক হয়ে ওঠে ও মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করতে পারে। পরিকল্পিত ভাবনা, গ্রাহকদের গভীর ও আবেগপ্রবণ চাহিদাকে উন্মোচিত করার এক সত্যিকারের ক্ষমতাশালী পথ যেখানে সঠিক সমস্যা বুঝে, এক উন্নত উপায়ে তা সমাধান করা যায়। এটি গবেষণা নয়, আরও বেশী। “অডি” থেকে “সওয়াচ”, এ সমস্ত ব্র্যান্ডই সরলতার জাদু বুঝতে পেরেছে।
  4. ক্রেতাদের পরস্পরের সংস্পর্শে আসা – বিগত ২০ বছর ধরে বিপণনকারীরা চেষ্টা করেছেন গ্রাহকদের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক রাখতে। কিন্তু বেশীরভাগ গ্রাহক,তা চায় না। তারা আপনাকে বিশ্বাস করেনা। আপনি তাদের কাছে প্রাসঙ্গিক নন। সি আর এম ভুলে যান। আপনার পণ্য তাদের জন্যে কি করতে পারে, গ্রাহকরা তাতেই আগ্রহী। দৌঁড়ানোর জুতোটা নয়, কত দ্রুত সে দৌঁড়াতে পারবে। কিচেনের যন্ত্রটা নয়, কি করে সুস্বাদু খাবার বানানো যাবে এবং তারা, তাদের মতন বিভিন্ন গ্রাহকদের প্রতি আগ্রহী, যারা তাদের মতনই উৎসাহী। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গ্রাহকদের একত্র করার এইতো সুযোগ, যাতে সি টু সি সম্পর্ক আরও সহজতর হয় গ্রাহকদের মধ্যে, কিন্তু গ্রাহকদের সঙ্গে নয়। আপনার ব্র্যান্ড যদি তাদের দৌঁড়ানোর প্রতি, রান্নার প্রতি আসক্তি ও আবেগকে প্রতিফলিত করে, তাহলে তারা সেটিকে একে অন্যের প্রতি আসার একটি মঞ্চ রূপে ব্যবহার করবে। মঞ্চটি বাস্তবিক হতে পারে বা ভার্চুয়াল হতে পারে। সহযোগীতা আরও সরল হয়ে যাবে, কারণ তারা সহ-দৃষ্টিতে উদ্যোগী।
  5. স্বয়ংক্রিয়তার গুরুত্ব – অনেকদিন ধরেই যন্ত্র, রোবোটিক্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর গুরুত্ব বেড়ে উঠেছে। কিন্তু এখন এরা আমাদের প্রচলিত পদ্ধতির থেকেও এগিয়ে যাচ্ছে। আজ, যে কোনও একটি অসাধারণ কারখানার দিকে তাকান। রোবোটরা আজকাল যানবাহন তৈরি করছে। যে কোনও ক্রেতা পরিষেবা কেন্দ্রক কথা ভাবুন – ৯৪ % প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যম গাণিতিক পরিভাষা ও ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম। মেশিন লার্নিং অর্থাৎ যান্ত্রিক জ্ঞান যন্ত্রদের শিখন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়াতে তারা আরও বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে, হয়ে উঠেছে স্বজ্ঞাত – এটা বাস্তব। ড্রোন পরিচালিত ডাকযোগে পাঠানো চিঠি ও পার্সেল – এই আর কয়েক বছরেই দেখা যাবে। এর থেকে তৈরি হয় দ্রুততা ও দক্ষতা, সুবিধা ও নিজস্বকরণ, যা আগে দেখা যায়নি। এতে আমাদের সেই সব মানুষদের জন্য চাকরী খোঁজার একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে হয়, যারা অতীতে এই কাজগুলো করতো। আমাদের একটা উপায় বার করতে হবে যাতে এই কাজগুলোতে মানুষ আরও আবেগ ও অপূরণীয় গুণাবলী যোগ করতে পারে।
  6. সর্বত্রই চিন হাজির – যেখানে পাশ্চাত্য অর্থনীতিকে ১% বা ২ % উন্নতির জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে, সেখানে চায়নার উন্নতির মান ৭ % এবং তাদের হাতে নতুন গ্রাহকের এক বিস্তৃত চাহিদা রয়েছে যারা নতুন ব্র্যান্ড আবিস্কার করতে চায় এবং যাদের আকাঙ্খা অপরিহার্য নয়, এই প্রথম। এই বিস্তৃত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছতে হবে, কিন্তু চাইনিজ সংস্থাগুলোর উন্নতিও স্বীকার করে নিতে হবে। উদাহরণ – হেয়ার, পৃথিবীর সব থেকে বড় সাংসারিক সামগ্রীর কম্পানি এবং সম্ভবত সবচেয়ে উদ্ভাবনমূলক। তাদের কোডা পকেট ওয়াশিং মেশিনটাকে দেখুন না। টম ক্রুজের সর্বশেষ মিশন ইম্পসিবল ছবিটি তৈরি সম্পূর্ণ চিনা বিনিয়োগে। তাহলে আমরা সবাই চিনা নতুনত্ব থেকে শিখতে পারি, চিনা কম্পানিদের অংশীদার হতে পারি, এমন কি স্থানীয় ভাবেও। আমরা তাদের বিনিয়োগের সন্ধান করতে পারি, যাতে আমরা আমাদের ব্যবসায় নিজেরাও দ্রুত ও অধিকতর ভাবে বৃদ্ধি পাই।
ফিস্ক মার্কেটিং এবং বিপণনের অভিনবত্ব নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন এবং প্রচুরে বেস্টসেলার বইয়ের প্রণেতা। তিনি ইওর স্টোরির পাঠক উদ্ভাবক ও স্টার্ট আপদের দিলেন তাঁর নিজস্ব ১০টি পরামর্শ…

প্রথম : সমস্ত ব্যবসাই মানুষকে নিয়ে – গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা উচিত এবং নিজের দলের সঙ্গে কাজ করে তা প্রদান করা উচিত। আমরা মানুষের সম্পর্কে সব কিছুই জানি। সাধারণ জ্ঞানের জন্য পি এইচ ডি লাগেনা। যা দরকার, তা হল মানুষের মতন চিন্তা করার প্রত্যয়, স্বজ্ঞাত ও আবেগপূর্ণ হওয়া, পুরনো নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো, নিজের কল্পনাকে ব্যবহার করা। ব্যবসার সমস্ত সরঞ্জাম ও কৌশল কাজ করবে, কিন্তু চিন্তার আরম্ভ, মানুষ দিয়ে।

দ্বিতীয়: গ্রাহকদের কথা শুনুন – শেষ কবে আপনার গ্রাহককে নিরীক্ষণ করে, তার কথা শুনে, তার সঙ্গে কথা বলে একটা গোটা দিন কাটিয়েছেন? পরিকল্পিত ভাবনা অর্থাৎ গ্রাহকের দুনিয়াতে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা। একটি প্রশ্নমালার কয়েকটি ছোট ছোট বাক্সে টিক করতে বলবেন না। খুঁজে বার করুন তাদের আসল সমস্যা, তাদের স্বপ্ন, তাদের প্রতিবন্ধকতা। প্রত্যেক সপ্তাহে এটি করুন। সত্যি, আপনি কখনই ভীষণ ব্যাস্ত নন। অন্তরের সঠিক ইচ্ছেটাকে খুঁজে বার করুন।

তৃতীয়: সেরা ভাবনাগুলো আগে থেকেই মজুত আছে – সেরা ভবনাগুলো আপনার ভৌগলিক সীমার মধ্যে বা ব্যবসায়ীক বিভাগের মধ্যে নাও থাকতে পারে, কিন্তু ভিনদেশের কিছু শ্রেনীতে তো থাকতে পারে। শুধু বসে থেকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বা প্রতিযোগীদের থেকে একটু ভাল বা একটু সস্তা হয়ে কোনও লাভ নেই। তার বদলে অন্য জায়গায় গিয়ে, যেখানে বিভিন্ন ভাবনা ব্যবহার করা হচ্ছে (একটি স্বাধীন গবেষণাগারের মতন) তা খুঁজতে এবং তা কি করে আপনার নিজের ব্যবসায়ে প্রয়োগ করা যায় তার প্রচেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

চতুর্থ: নতুন সংযোগ স্থাপন করুন – লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এভাবেই নতুনত্বকে বর্ণনা করেছেন। তাই সেই সব জিনিষ খুঁজুন যারা সংযোগ স্থাপন করতে পারেনা, যা চেহারায় হয়ত বিপরীত, হয়ত বা আপাতবিরোধী এবং তারপর একটি উপায় বার করুন যা দিয়ে তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হয়। উদাহরণ-বশত, এয়ারবিএনবি র শেয়ারিং মডেলটা আপনার ব্যবসায়ে প্রয়োগ করুন। তারপর দেখুন কি হয়। অথবা জিপকারস্ এর সাবসক্রিপশন মডেল, স্পাই-ফাই – র ফ্রিমিয়াম মডেল। দুটো ভিন্ন পণ্য নিয়ে, তাদের একত্রিত করে দিন।

পঞ্চম: একতাই বল –একক প্রতিভার থেকে দলগত শক্তির জয়জয়কার সবসময়ই বেশি। এটি অতি আশ্চর্যজনক যে আমরা এখনও ভাবি যে একক ভাবে আমরা সফল হতে পারব। বৈচিত্র্যের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অধিকতর অর্জন করুন। এক একটি মানুষের কাছে সমস্যা সমাধানের ক্ষুদ্র ভাগ আছে, তাই তাদের প্রত্যেকের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানো উচিৎ, যাতে এই সমাগত সমাধান একক সমাধানকে ছেড়ে এগিয়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতিকে সহজতর করে (এটাই আসল দক্ষতা), সকলের মধ্যে যা যা সেরা ভাবনা আছে, তা একীভূত করে একটি আকার গঠন করুন।

ষষ্ঠ: ব্যাখ্যামূলক নেটওয়ার্ক – যে কোন ব্যবসার শুধুমাত্র নিজস্ব ক্ষমতা থাকলেই চলেনা। সঠিক সঙ্গী খুঁজে বার করতে হবে যাতে প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং সমস্ত ব্যাবসায়ীক সঙ্গীকে একটি বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে আনতে হবে। এরপর সঠিক নেটওয়ার্কের সাহায্যে (সোশাল, চেন, লাইসেন্সিং) বিভিন্ন মার্কেটে পৌঁছে যাওয়া। নেটওয়ার্কই আপনার ব্যবসা উপরন্তু বৃদ্ধি করাতে পারে দ্রুত বাস্তুতন্ত্রের মাধ্যমে।

সপ্তম: ওয়ান পেজ-এর শক্তি – ওয়ান পেজ কৌশল, ওয়ান পেজ ব্যাবসায়ীক ঘটনা, ওয়ান পেজ কার্যক্রম পিচ, ওয়ান পেজ মার্কেটিং কৌশল। মানুষ অত্যন্ত ব্যস্ত এবং তার মনকে আকর্ষণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই সমস্ত কিছুকে ওয়ান পেজ অর্থাৎ একটি পাতায় আনতে হবে যা আশ্চর্যজনক ভাবে শক্তিশালী(একটি ওয়ান পেজ লেখা, ইন্ফোগ্রাফিক্স, আকর্ষণীয় ছবি বা হয়ত একটা পোস্টার বা প্রাচীর-পত্র)। যথেষ্ট শৃঙ্খলার প্রয়োজন, যাতে মানুষের সঠিক প্রয়োজনটির প্রতি তার মন স্পষ্টভাবে কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

অষ্টম: নিজে “গেম চেঞ্জার” হোন – আমার নতুন পুস্তক “গেমচেঞ্জার” – এর প্রধান উদ্দেশ্য হল, শুধুমাত্র পণ্য বা পরিষেবার পরিবর্তন (যেটা আপনি আরম্ভ করার আগেই নকল হয়ে যাবে) না ঘটিয়ে, মার্কেটের পরিবর্তন ঘটানো (গেম – এটি কাজ করে কি করে?, মূল্যের পয়েন্টগুলো, প্রণালী, নিয়মাবলী) এবং তারপর ব্যবসায়ীক পরিবর্তন ঘটানো (বিশেষত ব্যবসায়ীক মডেল – নতুন গেম এ আপনি কি করে টাকা রোজগার করতে পারবেন?)। প্রথমে মার্কেট দিয়ে আরম্ভ করে তারপর ধীরে ধীরে ভিতরে ঢোকা।

নবম: ভয় পাবেন না – আমি প্রায়ই যখন পরামর্শকারী কাজ আরম্ভ করি, সেই কাজের সমাধান সম্পর্কে বা কি করে সমাধানে পৌঁছব,তার সম্পর্কে আমার কোনও ধারনা থাকেনা। দক্ষতা হল, বিশ্বাস নিয়ে কাজটি আরম্ভ করা এবং যত সমস্যার সম্মুখীন হওয়া, তার সঙ্গে মানিয়ে চলা। দেখবেন আপনি সমস্যার সমাধান ঠিক খুঁজে পাবেন। শুরুতেই একটা প্রোটোটাইপ তৈরি করে নেওয়া উচিৎ। যেমন একটি ছবি, একটি কার্ডবোর্ডের মডেল বা একটা চটজলদি সমাধান, এতে মানুষ পণ্য বা পরিষেবার প্রতি কেন্দ্রীভূত হয়ে পরে ফলত যা আরও উন্নত হয়ে-ওঠে।

দশম: ১০ শতাংশ নয় ১০গুণ – গুগলের এক্স ল্যাব থেকে আমি শিখলাম বিস্তৃত চিন্তাধারার ক্ষমতাকে। দুঃসাহসী হওয়ার সাহস পেলাম। আমরা প্রত্যেকেই তাকিয়ে থাকি ওই ১০ শতাংশ উন্নতির দিকে (পণ্য ১০ শতাংশ উন্নত হবে, গত বছরের বিক্রি থেকে এ বছরের বিক্রি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে)। অনুপার্জিত লাভ আমাদের অলস বানিয়ে দিয়েছে। তাই আমরা সেকেলে পন্থা অনুযায়ী সন্ধান করি কি করে অতীত থেকে একটু বেশি মুনাফা করা যায়। তার চেয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তারপর ফিরে দেখা উচিৎ বর্তমানের দিকে, আরও বড় ও সপ্রতিভ ভাবনা নিয়ে।

স্টার্টআপ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তাদের প্রতি তাঁর বিদায়ী বার্তা সপ্রতিভ হোন। সাহসী হোন। উজ্জ্বল হোন।