সমমনস্কদের মিলন মেলা A World Alike

0

সময়ের অভাব। 'মুখোমুখি বসিবার' বনলতা সেনেরাও এখন এত ব্যস্ত যে সুস্থির ভাবে তিষ্ঠোবার জো নেই। তাই এখন একেক জন একেকটা দ্বীপের বাসিন্দা। কেবল হাতের মুঠোয় স্মার্টফোনই একমাত্র সেতু। শুধু গ্যাজেট আর অ্যাপেই দ্বীপগুলি যুক্ত। নিঃসঙ্গদের একই ভাবনার একই ওয়েভ লেন্থের মানুষের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে অনলাইন দুনিয়াই ভরসা। মৌলিক একাকীত্বের যন্ত্রণা ঘোচাতে তৈরি হয়েছে নানা সংস্থাও। এরা মানুষকে মিলনের সুযোগ করে দেয়। 'মিলন' শব্দের অনেক অর্থ হয়। এখানে মুখোমুখি বসে আড্ডা দেওয়া অর্থেই গ্রহণ করুন প্লিজ।

প্রেমিক প্রেমিকাদের ডেটিং সাইটের তো অভাব নেই। TrulyMadly.com কিংবা Aisle.Co-র মতো সাইটও আছে অনলাইনে। কিন্তু A World Alike (AWA) নিজেদের একটু অন্য ধরনের বলে দাবি করে।

A World Alike (AWA) তৈরি করেছেন হিমাংশু গুপ্তা। শূন্যস্থানটা দীর্ঘদিন ধরেই টের পান হিমাংশু।  ২০১৪-র নভেম্বরে সেটা পূরণ করতে খুলে ফেললেন A World Alike (AWA)। সামাজিক গণ্ডি তৈরি করার সাইট। পরিচিত বৃত্তের বাইরে গিয়ে একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে আপনিও পেতে পারেন আপনার পরিচয়। আমন্ত্রণমূলক এমন এক জয়েন্ট সেখানে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র শিক্ষিত রুচিশীলদের। হিমাংশু বলছিলেন একটা নির্দিষ্ট যোগ্যতা না থাকলে এই সমমনস্কদের দুনিয়ায় ঢোকা বাড়ন।

অনলাইন বা অফলাইনে নতুন নতুন মানুষের দেখা হওয়াটা ইউরোপ আমেরিকায় অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু আমাদের দেশে ব্লাইন্ড ডেটের কনসেপ্টটা এখনও সড়গড় নয়। তবু একটু একটু করে বদলাচ্ছে ভারত। আর সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে AWA-র বাড়তে থাকা মেম্বারশিপের দিকে তাকালেই।

প্রত্যেক মাসেই AWA, ব্যক্তিগত স্তরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে সমস্ত সদস্যরা তাদের সম-চিন্তার মানুষদের সঙ্গে একটি আরামদায়ক জায়গায় দেখা করার সুযোগ পান। পরিচিতির জগতটা বড় হয়। একই শহরের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমমনস্ক মানুষের একটা গোষ্ঠী তৈরি হয়ে যায় এইভাবেই।

এর সদস্য হতে গেলে আবেদন করতে হয়। ছোট একটি সাক্ষাৎকারের পর আমন্ত্রণ করা হয়। একবার যদি সদস্যরা সেইমত একটি আমন্ত্রণ-পত্র পেয়ে যান তবেই তারা তাদের পছন্দ মত একটি membership plan বেছে নিতে পারেন এবং কোথাও না গিয়ে অনলাইনেই পেমেন্ট করতে পারেন। তিন মাসের membership plan এর জন্য ৭,৫০০ টাকা, ছ'মসের জন্য ১২,০০০ টাকা এবং বারোমাসের জন্য ১৫,০০০ টাকা বরাদ্দ।

হিমাংশু আজমেঢ়ের ছেলে। পড়াশুনোর সূত্রে অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন মুলূকে কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন। নিউইয়র্কে চাকরিও করেছেন বছর পাঁচেক। ভারতে ফেরেন ২০১০ এ। এখানে কাজ শুরু করেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার হিসেবে। দেশে ফেরার টের পান যে নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা করা ও বন্ধুত্ব করা ভারতে কতটা কঠিন। এই উপলব্ধিই তাঁকে AWA শুরু করার প্রেরণা দেয়।

এই বিষয় মনস্থির করার পর প্রথম কয়েক মাস, এই টিমটি তাদের টেকনিকাল দিকগুলি নিয়ে কাজ করতে আরম্ভ করে, যেমন ৱ্র্যান্ডিং এবং কমিউনিকেশন এবং তাদের সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করতে শুরু করেন। আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথেই এই টিমটি ১২টিরও বেশী বৈঠকের আয়োজন করে। যেখানে ১৫০র ও বেশী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হিমাংশু বলেন, ওঁদের কাছে ১০০জন মানুষের তালিকা আছে যারা এই নেটওয়ার্ক এ অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। বর্তমানে ওরা প্রত্যেক মাসে দুটি করে বৈঠক আয়োজন করছেন। তবে এরকম বৈঠক আরও বাড়াতে চান।

এই টিমের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি নতুন জিনিষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করানো। হিমাংশু আরও বলেন, যে সময়ের সাথে সাথে তাঁরা তাঁদের সদস্যদের চাহিদা, পছন্দ, অপছন্দ ও মানসিকতা সম্পর্কে আরও বেশী সচেতন হয়ে গেছেন। ওঁরা একটি ফিডব্যাক প্রসেস শুরু করেছেন যার মাধ্যমে তাঁরা, তাঁদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে, তাঁদের চিন্তাধারা, তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও সদস্যদের কাছে ভালোভাবে পৌঁছে দিতে পারেন।

ডেটিং তো শুধু ডেটিং নয়...মিটিং ও বটে

অনলাইন দুনিয়ার বেশীরভাগটাই তাঁদের জন্যে যারা অবিবাহিত। বিয়ে করতে চান কিন্তু মনের মানুষ পাচ্ছেন না। এই সব ডেটিং সাইট তাঁদের জন্যে মনের মানুষ খোঁজার সার্চইঞ্জিন। কিন্তু AWA র প্রধান উদ্দেশ্য হল সমচিন্তাধারা সম্পন্ন মানুষকে মিলিয়ে দেওয়া। হিমাংশু বলেন, সমমনস্ক মানুষ একে অপরের সাথে দেখা করতে চাওয়ার মধ্যে একটি লাভের দিকও আছে, যা হতে পারে নিজের বন্ধুত্বের গণ্ডিকে আরও একটু প্রসারিত করা, কর্মক্ষেত্রে ভাল সুযোগ পাওয়া। অথবা সেই বিশেষ মানুষটিকে খুঁজে বের করা। হিমাংশু মমনস্ক সুশিক্ষিত মানুষের জন্যে অসংখ্য বিকল্প দুনিয়া তুলে ধরতে চান আর তাই AWA প্রথমে দিল্লি তারপর মুম্বই এবং ২০১৬-র মধ্য়ে যে কোনও একটি আন্তর্জাতিক শহরে এই পরিষেবা চালু করে দেবেন।